Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বেড়েই চলেছে ব্যাঙ্ক প্রতারণা, বেসরকারি ক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতির বহর আড়াই গুণ বেশি!

প্রতিবছরই লাফিয়ে বাড়ছে ব্যাঙ্ক প্রতারণা। লক্ষ লক্ষ টাকা ক্ষতির মুখে পড়ছেন গ্রাহক। সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, গ্রাহক  প্রতারণার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলিকে দশ গোল দিয়েছে বেসরকারি ব্যাঙ্ক।

বেড়েই চলেছে ব্যাঙ্ক প্রতারণা, বেসরকারি ক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতির বহর আড়াই গুণ বেশি!
  • ৩০ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রতিবছরই লাফিয়ে বাড়ছে ব্যাঙ্ক প্রতারণা। লক্ষ লক্ষ টাকা ক্ষতির মুখে পড়ছেন গ্রাহক। সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, গ্রাহক  প্রতারণার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলিকে দশ গোল দিয়েছে বেসরকারি ব্যাঙ্ক। বিগত প্রায় দু’বছরের হিসেব বলছে, ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলিতে প্রায় ৮০ হাজার গ্রাহক প্রতারিত হয়েছেন। ওই একই সময়ে চারটি বেসরকারি ব্যাঙ্ক মিলিয়ে প্রতারিত গ্রাহকের সংখ্যা দু’লক্ষেরও বেশি বা আড়ই গুণ!

Advertisement

রাষ্ট্রায়ত্ত এবং বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলিতে কত সংখ্যক গ্রাহক প্রতারিত হচ্ছেন, তার হিসেব সামনে আনতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া এবং তথ্যের অধিকার আইন মারফত প্রাপ্ত তথ্যকে তুলে ধরেছে ব্যাঙ্ক কর্মীদের সর্বভারতীয় সংগঠন অল ইন্ডিয়া ব্যাঙ্ক এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন। তারা জানাচ্ছে, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে চারটি বেসরকারি সংস্থায় মোট গ্রাহক প্রতারণার সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লক্ষ ১৯ হাজার। পরের অর্থবর্ষে ডিসেম্বর পর্যন্ত সেই সংখ্যা দাঁড়ায় ৯১ হাজারে। এই তালিকায় রয়েছে চারটি ব্যাঙ্ক। সেগুলি হল এইচডিএফসি, অ্যাক্সিস, আইসিআইসিআই এবং এয়ারটেল পেমেন্টস ব্যাঙ্ক। কর্মীদের একাংশের কথায়, এই তালিকায় যদি সব ক’টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ককে একত্র করা যেত, তাহলে সেই সংখ্যা আরও অনেকটাই বাড়ত। তথ্য বলছে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলিতে ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে মোট প্রতারণার সংখ্যা ছিল প্রায় ৫৫ হাজার। পরের অর্থবর্ষে ডিসেম্বর পর্যন্ত তা দাঁড়ায় ২৬ হাজারে।
ব্যাঙ্ক প্রতারণার অঙ্ক কত? রিজার্ভ ব্যাঙ্কের তথ্য বলছে, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে ব্যাঙ্ক প্রতারণার অঙ্ক ছিল ১৩ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে সেই অঙ্ক পৌঁছয় ৩৬ হাজার ১৪ কোটি টাকায়। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে মোট প্রতারণার অঙ্কের ৬৭ শতাংশই ছিল বেসরকারি ব্যাঙ্কের মাধ্যমে। 
তথ্য বলছে, ব্যাঙ্ক প্রতারণার ক্ষেত্রে সবার আগে রয়েছে ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং ও ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং। প্রতারণায় সবচেয়ে বেশি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন গ্রাহকরাই। তা যেকোনোভাবে যাতে আটকানো হয় তার জন্য কেন্দ্রের কাছে আর্জি জানাচ্ছেন কর্মীরা। অল ইন্ডিয়া ব্যাঙ্ক এমপ্লয়িজ  অ্যাসোসিয়েশনের সর্বভারতীয় সভাপতি রাজের নাগর বলেন, আমাদের আর্জি, অর্থমন্ত্রকের আওতাভুক্ত ডিপার্টমেন্ট অব ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস এই বিষয়ে আরও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করুক। কারণ, সাধারণ গ্রাহক আর্থিকভাবে প্রতারিত হলে তার চেয়ে খারাপ আর কিছু হয় না। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের সংখ্যা  ব্যাঙ্ক সংযুক্তিকরণের মাধ্যমে কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বেসরকারি ব্যাঙ্কের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়। তাই তারা শাখার সংখ্যা বাড়াতে সমর্থ হচ্ছে। পাল্লা দিয়ে  প্রতারণাও বাড়ছে। কিন্তু রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের ব্যবসার অঙ্ক অনেক বেশি হওয়া সত্ত্বেও প্রতারণার হার তুলনামূলকভাবে কম। তবে আমরা চাইব, সামগ্রিকভাবেই প্রতারণার হার এবং অঙ্ক শূন্যে নেমে আসুক।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ