সংবাদদাতা, দিনহাটা: সীমান্তবর্তী দিনহাটা-২ ব্লকের একাধিক গ্রামের চাষিরা চরম বিপদে পড়েছেন। আলু চাষ করলেও তুলতে পারছেন না ঘরে। অভিযোগ, বাংলাদেশ থেকে দুষ্কৃতীরা এসে খেতের আলু লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, বোরো ধান চাষের জন্য ব্যবহৃত পাম্পসেটও মাঝেমধ্যে চুরি হয়ে যাচ্ছে। চাষিদের মধ্যে এ নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
গ্রামবাসীদের দাবি, বাংলাদেশ থেকে দুষ্কৃতীরা এসে চাষের আলু লুট শুরু করে। ভারতীয় চাষিরা তার প্রতিবাদ করে। সেই সময় কান্দুরা বর্মন নামে এক ভারতীয় চাষিকে মারধর করে বাংলাদেশি দুষ্কৃতীরা। তাকে জোর করে বাংলাদেশের তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হয়। এমনকি তারা দুটি পাম্পসেট উঠিয়ে নিয়ে যায়। খেতের মধ্যে থাকা দুটি পাম্পসেট এ আগুন লাগিয়ে নষ্ট করে দেয়। পরবর্তীতে ভারতীয় চাষিরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ করলে পালিয়ে যায় বাংলাদেশি লুটেরাদের দল।
দিনহাটা-২ ব্লকের নাজিরহাট-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের তিনটি গ্রাম ছোট গাড়লঝোড়া, বড় গাড়লঝোড়া এবং নোটাফলায় এই সমস্যা সবচেয়ে বেশি। এই গ্রামগুলি কাঁটাতারের ওপারে অবস্থিত। যার জেরে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের আনাগোনা বেশি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তাদের দাবি, সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্যে ক্ষতিগ্রস্ত। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহকে চাষিরা এই সমস্যার কথা জানিয়েছেন। চাষিদের সমস্যা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন তিনি। তাদের ক্ষয়ক্ষতির জন্য বিএসএফকে নিশানা করেছেন মন্ত্রী। তিনি সরব হতেই প্রশাসন সক্রিয় হয়েছে। এদিন নোটাফলার চড়ে চাষিদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন দিনহাটা-২ এর বিডিও নীতিশ তামাং। বৈঠকে বিএসএফের কর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। চাষিরা জানান, প্রতি রাতে বাংলাদেশ থেকে দুষ্কৃতীরা এসে খেত থেকে আলু তুলে নিয়ে যায়। এতে কয়েক লক্ষ টাকার ক্ষতি হচ্ছে। শুধু আলুই নয়, বোরো ধান চাষের জন্য ব্যবহৃত পাম্পসেটও চুরি হয়ে যাচ্ছে। নোটাফলার এক চাষি আব্দুল কাদির বলেন, সারা বছর কষ্ট করে চাষ করি। কিন্তু আলু ঘরে তুলতে পারছি না। রাত হলেই বাংলাদেশি দুষ্কৃতীরা এসে ফসল লুট করে নিয়ে যায়। বিএসএফকে জানিয়েও লাভ হচ্ছে না। আরএক চাষি বিপ্লব সরকার বলেন, বারবার পাম্পসেট চুরি হয়ে যাচ্ছে। আমাদের জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য পাম্পসেট খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দুষ্কৃতীরা সেগুলোও নিয়ে যাচ্ছে। চাষ করব কীভাবে?
উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রীর অভিযোগ, সীমান্ত রক্ষায় বিএসএফ নিষ্ক্রিয়। বাংলাদেশি দুষ্কৃতীরা বারবার চুরি করছে, কিন্তু বিএসএফ সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছে না। যদি তারা সক্রিয় হতো, তাহলে এই ধরনের ঘটনা ঘটত না।
বিডিও বলেন, চাষিদের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসন সচেষ্ট এবং বিএসএফকে আরও সক্রিয় হওয়ার কথা বলা হয়েছে। চাষিদের ক্ষতি ঠেকাতে আমরা কঠোর পদক্ষেপ নেব। বৈঠক শেষে বিএসএফের এক আধিকারিক জানান, সীমান্তে বিএসএফ কড়া প্রহরা দিচ্ছে। দুষ্কৃতী আনাগোনো পুরোপুরি রুখে দিতে সীমান্তে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে।