Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পাউরুটিতে আগাম ডেট দিয়ে প্যাকেজিং, হাতেনাতে ধরা পড়ল বেকারির কারচুপি

ফুড সেফ্টি ও ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের আচমকা অভিযানে ধরা পড়ে গেল বেকারির ওই কারচুপি

পাউরুটিতে আগাম ডেট দিয়ে প্যাকেজিং, হাতেনাতে ধরা পড়ল বেকারির কারচুপি
  • ২৫ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: পাউরুটিতে আগাম ডেট দিয়ে প্যাকেজিং করা হচ্ছিল। ফুড সেফ্টি ও ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের আচমকা অভিযানে ধরা পড়ে গেল বেকারির ওই কারচুপি। গোটা বিষয়টি দেখে তাজ্জব আধিকারিকরা। আগাম ডেট দিয়ে প্যাকেজিং হওয়া পাউরুটি বাজারে বিক্রি হলে ক্রেতাদের পক্ষে আদৌও বোঝা সম্ভব নয় যে, সেটি কবে তৈরি হয়েছে। ফলে বাসি পাউরুটি কিংবা কেক খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন মানুষজন। এ ধরনের ঘটনা ঘটানোয় নোটিস ধরানোর পাশাপাশি অভিযুক্ত বেকারির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের জলপাইগুড়ির সহকারী অধিকর্তা দেবাশিস মণ্ডল।

Advertisement

সোমবার বেলা বারোটা নাগাদ জলপাইগুড়ি শহরে সারপ্রাইজ ভিজিটে বের হন ফুড সেফ্টি ও ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা। স্টেশন বাজার ঘুরে তাঁরা পৌঁছে যান একটি বেকারিতে। সেখানে হানা দিয়ে কার্যত চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় আধিকারিকদের। দেখা যায়, ২৪ মার্চ পাউরুটি ও কেক প্যাকেজিং হলেও কোনওটিতে ২৫ মার্চ, কোনওটিতে আবার ২৬ মার্চ ডেট দেওয়া হচ্ছে। কেন এভাবে আগাম ডেট দেওয়া হচ্ছে এর কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি বেকারির কর্মীরা। এরপরই ওই বেকারির মালিককে তলব করা হয়। তিনিও আধিকারিকদের প্রশ্নের মুখে কার্যত চুপ করে থাকেন। পরে যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে ওই বেকারির মালিক শেখ হাফিজুর রহমান বলেন, আগাম ডেট দিয়ে পাউরুটি প্যাকেজিং করা হচ্ছিল না। আগাম ডেটের কিছু লেবেল কারখানায় ছিল। সেগুলিই হাতে পড়েছে আধিকারিকদের। তবে কিছু বিষয়ে এদিন আধিকারিকরা নির্দেশ দিয়ে গিয়েছেন। সেগুলি মেনে চলার চেষ্টা করব।
ফুড সেফ্টি দপ্তর সূত্রে খবর, মাস দু’য়েক আগে ওই বেকারিতে পরিদর্শন চালানো হয়েছিল। তখনও আগাম ডেট দিয়ে পাউরুটি ও কেক প্যাকেজিংয়ের প্রমাণ মেলে। সেসময় ওই বেকারি কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়। এদিনও আধিকারিকরা দেখতে পান, পরিস্থিতির কোনও বদল হয়নি। অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে পাউরুটি, কেক তৈরি হচ্ছে। একইসঙ্গে পাউরুটি তৈরির প্রক্রিয়াতেও বেশকিছু গলদ পান তাঁরা। জানিয়ে দেওয়া হয়, দ্রুত নিজেদের শুধরে নিতে না পারলে তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিন শহরের আরও কয়েকটি বেকারি ও মিষ্টির দোকানে হানা দেন ফুড সেফ্টি ও ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা। ক্রেতাদের অভিযোগ, জলপাইগুড়ি শহরে অনেক মিষ্টির দোকান রয়েছে, যেখানে মিষ্টি তৈরির কোনও তারিখ কিংবা সেটির মেয়াদ কতদিন তার উল্লেখ থাকে না। অবশ্য আধিকারিকরা সাফ জানিয়ে দেন, প্রতিটি মিষ্টির গায়ে সেটি কবে তৈরি এবং কতদিনের মেয়াদ তার ট্যাগ লাগিয়ে রাখতে হবে।  জলপাইগুড়িতে ফুড সেফ্টি ও ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের অভিযান। - নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ