সংবাদদাতা, ঘাটাল: পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যুৎ বণ্টন নিগমের মানবিক রূপ দেখল ঘাটাল মহকুমার মানুষ। হাইটেনশন লাইনে বাসা বুনেছিল বাবুই পাখিরা। সেগুলি না ভেঙে নতুন খুঁটি পুঁতে স্থানান্তরিত করে দিল তারা। দাসপুর থানার সামাট গ্রামে বৃহস্পতিবার বিকেলের এই মানবিক দৃশ্য দেখে খুশি সাধারণ মানুষ। বিদ্যুৎ দপ্তরের ঘাটাল ডিভিশন ইঞ্জিনিয়ার ও ডিভিশন ম্যানেজার বিশ্বদেব বিশ্বাস জানান, পাখির বাসা ভেঙে দেওয়াটা এক ধরনের নিষ্ঠুরতা। তাই ওই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
উঁচু হাইটেনশন লাইনের তারে বাসা বেঁধে ‘সংসার’ পেতেছিল বাবুই পাখির দল। কেউ ডিম দিয়েছে, কেউ আবার সেই ডিমে তা দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছে নতুন প্রাণ। সামাট গ্রামে বিদ্যুতের হাইটেনশন লাইনের উপর পাখির এমন বাসা যে কোনও সময় ঘটাতে পারত বড় বিপদ। বিদ্যুৎ দপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররা বলেন, পাখির বাসা বা পাখির দ্বারা সৃষ্ট ময়লা বিদ্যুতের তারে শর্ট সার্কিট ঘটাতে পারে। বন্ধ হয়ে যেতে পারে বিদ্যুৎ সরবরাহ। বাসা তৈরির উপকরণ (যেমন শুকনো পাতা, খড়কুটো) খুব দাহ্য হয়। শর্ট সার্কিট বা স্পার্কিংয়ের কারণে এগুলিতে আগুন ধরে গিয়ে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে। অনেক সময় পাখি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যেতে পারে, যা জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর। এর ফলে স্থানীয় মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কাও বাড়িয়ে দিতে পারে। আবার পাখির বাসা ভেঙে দেওয়া যে একপ্রকার নিষ্ঠুরতা সেই দায়বোধ থেকে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন নিগমের ঘাটাল ডিভিশনের আধিকারিকেরা।
ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার ও ম্যানেজার জানান, বহু চিন্তাভাবনার পর তাঁরা একটি অভিনব সমাধান খুঁজে বের করেন। যেখানে পাখির বাসাগুলি ছিল, ঠিক তার পাশেই বিদ্যুতের একটি নতুন খুঁটি পোঁতা হয়। এরপর সেই খুঁটির উপর পাইপের সাহায্যে সাবধানে পাখির বাসাগুলি স্থানান্তরিত করে দেওয়া হয়।
পাখির বাসাগুলি স্থানান্তরিত করেও দুশ্চিন্তা কাটেনি বিদ্যুৎদপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার ও কর্মীদের। যদিও সংশয় থেকেই গিয়েছিল, পাখিরা কি ফিরবে সেই নতুন ঠিকানায়?
কিন্তু বৃহস্পতিবার বিকেলে বাসা স্থানান্তরের পর পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, পাখিরা ফিরে গিয়ে আগের মতোই স্বাভাবিকভাবে ডানা মেলছে, বাসায় ঢুকছে, খাবার জোগাড় করছে। যেন কিছুই বদলায়নি, শুধু একটু স্থান বদল।
বিদ্যুৎ দপ্তরের এই মানবিক ভূমিকা অবাক করেছে সকলকে। স্থানীয় মানুষ থেকে শুরু করে পরিবেশপ্রেমী মহল, এমনকি বনদপ্তরও সন্তোষ প্রকাশ করেছে এই দায়িত্বশীল সিদ্ধান্তে। পরিবেশ রক্ষায় সরকারি সংস্থার এমন সংবেদনশীল ভূমিকাই আগামী দিনের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।-নিজস্ব চিত্র