Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তালডাংরার ‘সাত ভাইয়ের এক বোন’ উৎসবে ফুটন্ত ঘিয়ে হাত ডুবিয়ে তুলে আনা হয় পিঠে, দেখতে ভিড়

মাটির পাত্রে টগবগ করে ফুটছে ঘি। তাতে ভাজা হচ্ছে পিঠে। চালের পিঠে বাদামি হতেই খুন্তির পরিবর্তে ফুটন্ত ঘিয়ে হাত ডুবিয়ে‌ই এক এক করে তা তুলে নেওয়া হচ্ছে।

তালডাংরার ‘সাত ভাইয়ের এক বোন’ উৎসবে ফুটন্ত ঘিয়ে হাত ডুবিয়ে তুলে আনা হয় পিঠে, দেখতে ভিড়
  • ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: মাটির পাত্রে টগবগ করে ফুটছে ঘি। তাতে ভাজা হচ্ছে পিঠে। চালের পিঠে বাদামি হতেই খুন্তির পরিবর্তে ফুটন্ত ঘিয়ে হাত ডুবিয়ে‌ই এক এক করে তা তুলে নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু হাতে ফোসকা পড়ছে না। শুনতে অবাক লাগলেও তালডাংরার হাউসিবাদ গ্রামে পরম্পরা মেনে প্রতি বছর এমনই ঘটনা ঘটিয়ে থাকেন বাসিন্দারা। এবারেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।  সরস্বতী পুজোর পরের দিন গ্রামে ‘সাতবহয়া মেটাং মিশোর’ উৎসব উপলক্ষ্যে ফুটন্ত ঘিয়ের পাত্রে হাত ডুবিয়ে পিঠে ভাজা হয়। শনিবার বিকালে অভিনব ওই পিঠে ভাজা দেখতে দর্শনার্থীরা ভিড় জমান।

Advertisement

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বহুবছর ধরে অসুরগড় নামে একটি উঁচু টিলার কোলে অবস্থিত হাউসিবাদ গ্রামে ওই লোক উৎসব হয়ে আসছে। যার বাংলা অর্থ ‘সাত ভাইয়ের এক বোন’। সরস্বতীপুজোর পরের দিন উৎসব শুরু হয়। দু’দিন ধরে চলে। উৎসবকে কেন্দ্র করে রীতিমতো মেলা বসে এলাকায়। মোরগ লড়াইয়ের পাশাপাশি আসিবাসীদের নাচ, গান হয়। বিশেষ করে গরম ঘিয়ে ভাজা পিঠে হাত ডুবিয়ে তুলে আনা দেখতে প্রচুর ভিড় জমে গ্রামে।  সাত, আটজন ব্রতী (যাঁরা গরম ঘিয়ে হাত ডুবিয়ে পিঠে ভাজেন তাঁদের ব্রতী বলা হয়)। চালের গুঁড়োর সঙ্গে মেশানো হয় দুধ ও গুড়। তা হাতে করে পাকিয়ে গোল, গোল পিঠে করা হয়। পাশেই অন্য দু’জন ব্রতী উনুনে জ্বাল দিয়ে মাটির পাত্রে ঘি গরম করেন। প্রায় ২০মিনিট ধরে তা ফোটানো হয়। ফুটন্ত ঘিয়ে ব্রতীরা একে একে পাকানো পিঠে ছাড়েন। বেশ কয়েক মিনিট পরে গরম পাত্র থেকে ব্রতীরা খালি হাতেই পিঠেগুলি এক এক করে তুলে আনেন। আর তা দেখে দর্শনার্থীরা শিউরে ওঠেন।

উৎসবের উদ্যোক্তারা বলেন, কথিত রয়েছে, প্রায় সাড়ে তিনশো বছর আগে এখানে গভীর অরণ্য ছিল। এক আদিবাসী পরিবারে সাত ভাই ও এক বোন ছিল। ওই সাত ভাই একদিন শিকারে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু বহুদিন পরেও তাঁরা বাড়ি না ফেরায় তাঁদের এক মাত্র বোন ভাইদের ফেরার আশায় তপস্যায় বসেন। সেই তপস্যার ফলে পথ হারিয়ে ফেলা ভাইয়েরা ফিরে আসেন। সেই ঘটনার কথা শুনে ভাইয়েরা তাঁদের বোনকে দেবীজ্ঞানে পুজো করতে শুরু করেন। এবং পিঠে বানিয়ে গরম ঘিয়ে তা হাতে করে ভেজে বোনকে খাওয়ান। লোকমুখে সেকথাই প্রচার হয়। সেই থেকে হাউসিবাদ গ্রামে উৎসবের সময় গরম ঘিয়ে খালি হাত ডুবিয়ে পিঠে ভাজার রীতি চলে আসছে। ঠাকুরের আশীর্বাদেই ফুটন্ত ঘিয়ে হাত ডোবানো সত্বেও ফোসকা পড়ে না বলেই স্থানীয়দের বিশ্বাস।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ