সংবাদদাতা, ঘাটাল: মরণোত্তর পরাক্রম পদকে সম্মানিত হচ্ছেন গড়চিরৌলিতে মাওবাদীদের ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে নিহত সাব ইনস্পেক্টব অশোক হাজরা। এই খবরে অশ্রুসজল চন্দ্রকোণা থানার আগর গ্রামের বাসিন্দাদের চোখ। ২০১২ সালের ২৭ মার্চ মৃত্যু হয়েছিল আগর গ্রামের বাসিন্দা সিআরপিএফের ১৯২ ব্যাটেলিয়নের সাব ইনস্পেক্টব অশোক হাজরার। মৃত্যুর ১৩ বছর পর তাঁকে সম্মানিত করতে চলেছে ভারত সরকার।
সামরিক কর্মীদের সাহসিকতা ও বীরত্বের জন্য ‘পরাক্রম পদক’ দেওয়া হয়। এই পদকটি ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ বিবেচিত হয়।
অশোকবাবুর ভাই শশাঙ্ক হাজরা বিএসএফের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী। তিনি বলেন, সম্প্রতি সিআরপিএফ-এর ১৯২ ব্যাটেলিয়নের পক্ষ থেকে আমাদের বাড়িতে একটি চিঠি এসেছে। ব্যাটেলিয়নের কমান্ডান্ট নরেন্দ্র কুমারের সই করা সেই চিঠিতে লেখা রয়েছে, এই পদক তাঁদের প্রিয় অশোকবাবুর অতুলনীয় সাহস, কর্তব্যনিষ্ঠা ও আত্মত্যাগের প্রতীক হিসেবে তুলে দেওয়া হচ্ছে। মোট পাঁচজনকে এই সম্মান দেওয়া হচ্ছে, সেই তালিকার প্রথমেই দাদার নামটি রয়েছে।
২০১২ সালের ২৭ মার্চ গড়চিরৌলি জঙ্গলের পথে সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ সিআরপিএফ জওয়ানদের একটি বাসের চাকা আইইডির (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) উপর পড়তেই বিকট শব্দে কেঁপে উঠেছিল চারপাশ। বাসের ধ্বংসাবশেষ থেকে উদ্ধার হয়েছিল ১৩ জওয়ানের ক্ষতবিক্ষত দেহ। আগর গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, অশোকবাবুর কথা ভাবলেই মিডিয়ায় দেখানো সেই ছবি মানসপটে ভেসে ওঠে।
অশোকবাবুর স্ত্রী মিতা হাজরা স্বামী শহিদ হওয়ার চার বছর পর ক্যান্সারে মারা যান। একমাত্র সন্তান সৌরদীপ হাজরা ২০১২ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় দিয়েছিলেন। বাবা মারা যাওয়ার পর মানসিক চাপে আর পড়াশোনা করতে পারেননি। গত বছর নভেম্বর মাসে তিনি সিআরপিএফেই সহানুভূতি গ্রাউন্ডে চাকরি পেয়েছেন।
সেই আত্মবলিদানের স্বীকৃতি মিলেছে একটি পদকের মাধ্যমে। কয়েক দিন আগে পদক পাওয়ার চিঠিটি হাতে পেয়েই শশাঙ্কবাবুর দু’চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে আসে। তিনি চিঠিটি দেখিয়ে বলেন, পদক দেওয়া হবে এটা জেনেছি। কিন্তু দিনক্ষণ এখনও জানানো হয়নি। তবে এটুকুই সান্ত্বনা দাদা আজও বেঁচে আছে দেশের মানুষের মনে।
ওই খবর জানার পর আগর গ্রামের বাসিন্দারাও গর্বিত। সুনীল পাল, স্বদেশ রায়, সুশান্ত চক্রবর্তী প্রমুখরা বলেন, দেশের বুকে অশোকবাবুর মতো বীর জন্ম নেয় বলেই আমরা আশ্বস্ত ও নিশ্চিন্তে থাকতে পারি। আর সেই সাহসিকতার স্বীকৃতি যখন আসে ‘পরাক্রম’ নামে, তখন শুধু পদক নয়, তা হয়ে ওঠে এক জাতির শ্রদ্ধার নিদর্শন। অশোক হাজরা।