Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রাত ১২টার পর শহরে বের হলেই পথ আটকাবে ‘অ্যান্টি ক্রাইম টিম’, অপরাধ রুখতে বিশেষ উদ্যোগ বাঁকুড়া পুলিসের

রাত ১২টার পর বাঁকুড়া শহরে বের হলেই আটকাবে পুলিস। শহরে রাস্তাঘাটে ঘুরলে পুলিস কর্মীরা সংশ্লিষ্টদের গতিবিধি ক্যামেরাবন্দি করবেন

রাত ১২টার পর শহরে বের হলেই পথ আটকাবে ‘অ্যান্টি ক্রাইম টিম’, অপরাধ রুখতে বিশেষ উদ্যোগ বাঁকুড়া পুলিসের
  • ১২ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: রাত ১২টার পর বাঁকুড়া শহরে বের হলেই আটকাবে পুলিস। শহরে রাস্তাঘাটে ঘুরলে পুলিস কর্মীরা সংশ্লিষ্টদের গতিবিধি ক্যামেরাবন্দি করবেন। প্রয়োজনে নাম, ঠিকানা ও রাতে বের হওয়ার উদ্দেশ্যও তাঁরা জানতে চাইবেন। শহরে অপরাধ কমাতে বাঁকুড়া সদর থানা ‘অ্যান্টি ক্রাইম টিম’ তৈরি করেছে। ওই বিশেষ টিমের সদস্যরা বাইকে চেপে বাঁকুড়া শহরে নজরদারি চালাচ্ছেন। রাতে সক্রিয়তা বৃদ্ধির জন্য পুলিস কর্তারা তাঁদের নির্দেশ দিয়েছেন। 

Advertisement

বাঁকুড়া সদর থানার এক আধিকারিক বলেন, আগের তুলনায় শহরে চুরি, ছিনতাইয়ের ঘটনা অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। আমরা তা আরও কমাতে চাইছি। শহরকে অপরাধমুক্ত করতে শুধুমাত্র থানায় বসে কাজ করলে হবে না। টহলদারি ভ্যানের নজরদারিও যথেষ্ট নয়। সেই কারণে শহরের রাস্তাঘাটে আমরা বাইকে টহল দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। ‘অ্যান্টি ক্রাইম টিম’ এর সদস্যরা দিনরাত বাইকে গোটা শহরে ঘুরছেন। 
উল্লেখ্য, বাঁকুড়া শহরে চুরি-ছিনতাই কমলেও বহিরাগত দুষ্কৃতীদের আনাগোনা এখনও রয়েছে। সম্প্রতি শহর থেকে বানজারা গ্যাংয়ের কয়েকজনকে পুলিস গ্রেপ্তার করে। ভিন জেলার বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতীও পুলিসের জালে ধরা পড়ে। তারপর থেকেই বহিরাগতদের সন্দেহজনক গতিবিধি নিয়ে পুলিস সজাগ হয়েছে। সদর থানার আওতায় রয়েছে বাঁকুড়া শহর। জেলা সদরে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিস-কাছারির পাশাপাশি সোনার দোকান ও বড় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বাড়িঘরেও অনেকে মূল্যবান সামগ্রী, নগদ টাকা, সোনাদানা রাখেন।  দুষ্কৃতীরা সেইসব টার্গেট করে থাকে। তবে এবার লক্ষ্য পূরণের আগেই যাতে দুষ্কৃতীদের পাকড়াও করা যায়, তারজন্য সদর থানা কর্তৃপক্ষ ‘অ্যান্টি ক্রাইম টিম’ গঠন করে ময়দানে নেমেছে। 
কীভাবে কাজ করছে ওই টিম? সদর থানার আধিকারিকরা জানিয়েছেন, বাইকে দু’জন করে থাকছেন। একজন কনস্টেবলের সঙ্গে একজন সিভিক ভলান্টিয়ারকে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। দিনে দু’বার তাঁরা থানা থেকে বাইকে চেপে রওনা দিচ্ছেন। দিনে বাইকে অন্তত ৩০ কিলোমিটার টহল দেওয়া হচ্ছে কি না, সেব্যাপারে আধিকারিকরা নজর রাখছেন। মাঝেমধ্যে ওই টিমের সদস্যরা শহর ও সংলগ্ন এলাকায় রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকছেন। সংশ্লিষ্ট এলাকায় ভিন জেলার নম্বর প্লেট যুক্ত বাইক, চারচাকা পার হলেই তার ছবি তুলে রাখছেন। সেইসঙ্গে সন্দেহভাজনদের ছবি, ভিডিও তাঁরা মোবাইলে বন্দি করছেন। ওই ছবি ও ভিডিও ফুটেজ সদর থানার বিশেষ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে তাঁরা দিনভর পোস্ট করছেন। দিনের পাশাপাশি রাতের নজরদারির উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে। 
ওই টিমের এক সদস্য বলেন, কে কী মতলবে রাতের শহরে ঘুরছে, তা আপাতভাবে বোঝা সম্ভব নয়। ফলে রাতে ১২টার পর শহরের রাস্তায় কাউকে দেখলেই আমরা দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। তাঁরা কোথায় যাচ্ছেন, কোথা থেকে আসছেন, কী উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন, এসব কথা আমরা জানতে চাইছি। কথোপকথনের ভিডিও তুলে থানার হোয়টসঅ্যাপ গ্রুপে পাঠিয়ে দিচ্ছি। আধিকারিকরা তা দেখে আমাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিচ্ছেন। কারও গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে, রাস্তার পাশে দাঁড় করিয়ে রেখে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছি। দিনের বেলা আমরা সোনার দোকান, ব্যাঙ্কে গিয়েও ক্রেতা, গ্রাহকদের ব্যাপারে খোঁজ নিচ্ছি। পাশাপাশি ভরসা জোগাতে দোকান মালিক, ব্যাঙ্ককর্মীদের সঙ্গেও কথা বলছি।        

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ