Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নদীপথে এপারে এসেই গোলমাল পাকাচ্ছে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম

সম্প্রতি মালদহ এবং মুর্শিদাবাদে হিংসাত্মক ঘটনার পর্যালোচনা করে অনেক ‘তথ্য’ হাতে পেয়েছেন গোয়েন্দারা।

নদীপথে এপারে এসেই গোলমাল পাকাচ্ছে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম
  • ১৫ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সন্দীপন দত্ত, মালদহ: বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা থেকে নদীপথে এপারে এসেই গোলমাল পাকাচ্ছে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (এবিটি)? মালদহ এবং মুর্শিদাবাদ পাশাপাশি এই দুই জেলায় সাম্প্রতিক ঘটনায় এমনই অনুমান গোয়েন্দাদের। সম্প্রতি মালদহ এবং মুর্শিদাবাদে হিংসাত্মক ঘটনার পর্যালোচনা করে অনেক ‘তথ্য’ হাতে পেয়েছেন গোয়েন্দারা। তাঁদের ধারণা,চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে মৎস্যজীবীর বেশে আনসারুল্লা বাংলা টিমের সদস্যরা নদীপথে মালদহ ও মুর্শিদাবাদে ঢুকছে। সীমান্ত লাগোয়া কিছু জায়গায় দু’তিন দিন ধরে থাকছে। ডেরা বেঁধে হিংসার বীজ ছড়াচ্ছে। এই তথ্য সামনে আসতেই পুলিস ও বিএসএফ বাড়তি সতর্ক। নদীপথে অতিরিক্ত নজরদারিও শুরু হয়েছে। 

Advertisement

মালদহ এবং মুর্শিদাবাদ জেলায় বাংলাদেশের সঙ্গে বিস্তৃত সীমান্ত রয়েছে। মালদহের কালিয়াচক-১ ও ৩ ব্লকে অধিকাংশ সীমান্তই উন্মুক্ত। কালিয়াচক-৩ ব্লকে রয়েছে বৈষ্ণবনগর থানা। সেই এলাকা দিয়েই প্রবাহিত হচ্ছে গঙ্গা। এরই পশ্চিম দিকে মুর্শিদাবাদ জেলার ধুলিয়ান ও পূর্ব প্রান্তে বৈষ্ণবনগর। বৈষ্ণবনগরের ওপারেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ। বহু আগে থেকেই এই এলাকায় সক্রিয় এবিটি’র টিম। 
গোয়েন্দাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, খুব ভোরবেলা অথবা সন্ধ্যার পর ছোট ছোট নৌকায় মাছ ধরার অজুহাতে এবিটি সদস্যরা মালদহে প্রবেশ করছে। বাংলাদেশি জঙ্গি সংগঠনের স্লিপার সেলের অতিসক্রিয়তা নিয়ে ইতিমধ্যেই ‘বর্তমান’ এ খবর প্রকাশিত হয়েছে। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে বছরের শুরুতেই কালিয়াচকে শক্তিশালী বোমা উদ্ধার, হঠাৎ করে মাদকের বেলাগাম কারবার ও জালনোটের আমদানি দেখেই এই সক্রিয়তা অনুমান করেছিলেন গোয়েন্দারা। কয়েক মাসের মধ্যেই ধুলিয়ানের অশান্তির ঘটনা প্রমাণ করে দিল  গোয়েন্দাদের সেই অনুমান ভ্রান্ত ছিল না।। 
ধুলিয়ানের গণ্ডগোলের সঙ্গে মোথাবাড়ির বহু মিল পাচ্ছেন কালিয়াচকের বাসিন্দারা। কালিয়াচক-৩ ব্লকের বৈষ্ণবনগর থানা এলাকার গঙ্গা তীরবর্তী পারদেওনাপুর, শোভাপুর, চরিঅনন্তপুরে নদীপথে অবাধে যাতায়াত করছে এবিটি সদস্যরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, ওরা বেশ কয়েকবার এসেছে এপারে। নির্দিষ্ট কয়েকজনের বাড়িতে রাতও কাটিয়েছে। তারপর হঠাৎ উধাও হয়ে যায়। আসে আর একটা নতুন দল। কিছুদিন থেকে আবারও একইভাবে তারাও উধাও হয়ে যায়। ঠিক যেমন মোথাবাড়ি কাণ্ডের পর গায়েব হয়ে গিয়েছে তারা। 
পরিচয় গোপনের শর্তে বৈষ্ণনগরের সীমান্ত লাগোয়া এবং গঙ্গা তীরবর্তী গ্রামের বাসিন্দাদের বক্তব্য, ওরা খুব একটা বাইরে বের হয় না। তবে অনেকেই ওদের সঙ্গে দেখা করতে আসে। যাদের বাড়িতে ওঠে তাদের জিজ্ঞাসা করলেই বলে আত্মীয় এসেছে। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, ওরা কেউ কারোর আত্মীয় নয়। গোলমাল পাকাতেই নদী পেরিয়ে এপারে আসা যাওয়া। 
গোয়েন্দাদের বক্তব্য, অতীতে বিভিন্ন সময় মালদহে বাংলাদেশি জঙ্গি সংগঠন জেএমবি’র (জামাত উল মুজাহিদিন বাংলাদেশ) স্লিপার সেলের সন্ধান মিলেছে। খাগড়াগড় কাণ্ডের সময় তার অস্তিত্বও সামনে আসে। মাঝে বেশ কয়েক বছর স্লিপার সেল নিষ্ক্রিয় হয়ে গিয়েছিল। এখন ফের তারা সক্রিয় হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ