Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আউশগ্রামে ফের জঙ্গলে আগুন, ময়ূরের ডিম নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা

শুক্রবার রাতে আউশগ্রামের আদুরিয়া বিট অফিসের পাশেই আগুন লেগে জঙ্গলের একাংশ পুড়ল।

আউশগ্রামে ফের জঙ্গলে আগুন, ময়ূরের ডিম নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা
  • ৩০ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: শুক্রবার রাতে আউশগ্রামের আদুরিয়া বিট অফিসের পাশেই আগুন লেগে জঙ্গলের একাংশ পুড়ল। ময়ূরের বসত রাঙাখুলার জঙ্গলও পুড়ে গিয়েছে। ফায়ার ব্লোয়ার যন্ত্র থাকলেও তা অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে বিট অফিসে। আগুন নেভাতে হিমশিম খান বনকর্মীরা। বারবার জঙ্গলে আগুন লাগার ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। সচেতনতার অভাবেই বারবার জঙ্গলে আগুন লাগার ঘটনা বাড়ছে বলে অনেকে মনে করছেন। আদুরিয়ার বিট অফিসার পিনাকী ভট্টাচার্য বলেন, আমরা আগুন আয়ত্তে এনেছি। তবে ফায়ার ব্লোয়ার যন্ত্র খারাপ হয়ে গিয়েছে। আমাদের হাতে করে আগুন নেভাতে হয়েছে। কারা আগুন লাগাচ্ছে বুঝতে পারছি না।

Advertisement

ওইদিন আদুরিয়া, রাঙাখুলা, হেদোগড়িয়া এসব এলাকায় আগুন লাগে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ওইদিন রাতে জঙ্গলের শুকনো পাতা, কাঠে আগুন লেগে যায়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে থাকে। রাঙাখুলায় প্রচুর ময়ূর থাকে। তারাও সঙ্কটের মধ্যে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, বনদপ্তরের সচেতন করার ভূমিকায় যথেষ্ট খামতি রয়েছে। তাছাড়া দিনের পর দিন এভাবে জঙ্গলে আগুন লাগার ঘটনা নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত করুক প্রশাসন। আগামী দিনে ময়ূর বংশবিস্তার না করতে পারলে পর্যটকরাও আসবেন না। জঙ্গলে বড় বাজেটের বাংলা সিনেমার শ্যুটিং হওয়ার কথা রয়েছে। সেসব কীভাবে হবে তাও যথেষ্ট প্রশ্নচিহ্নের মুখে।
প্রসঙ্গত, আদুরিয়ার জঙ্গলেই কয়েকদিন আগে আগুন লেগেছিল। দু’দিন ধরে তা জ্বলতে থাকে। আদুরিয়ার শালকো কালীতলার পিছন থেকে পুরো জঙ্গলে আগুন লেগেছিল। এছাড়া আকুলিয়া, কালিকাপুর সংলগ্ন একাধিক জায়গায় আগুন লেগে জঙ্গল নষ্ট হয়েছে। আদুরিয়ার জঙ্গলে এখন ময়ূরের ডিম পাড়ার সময়। তাদের ডিম পুড়ে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আগুন লাগানোর পিছনে কোনও চক্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে এলাকায় জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বনদপ্তরের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, জঙ্গলে নজরদারি বাড়নো হচ্ছে। 
আদুরিয়া জঙ্গলে ইন্ডিয়ান উলফ বা নেকড়ে, খরগোশ, অজগর, বনমুরগি, বনবিড়াল, প্রভৃতি প্রাণীরও বেশি সংখ্যায় দেখা মিলছে। পাশাপাশি এখন আউশগ্রামের বিভিন্ন জঙ্গল এলাকায় প্যাঙ্গোলিন, সজারু প্রভৃতির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। জঙ্গলে তাদের সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত জরুরি বলেই মনে করছেন পর্যটকরা। সেখানে আগুন আগলে জীবজন্তুর ক্ষতির আশঙ্কা করছেন অনেকেই।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ