নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকায় নির্মিত শৌচালয়ের ভিতরের পরিকাঠামো ভেঙে নাকি তৈরি করা হচ্ছে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র। কিন্তু কে তৈরি করছে? এ নিয়ে চলছে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য এবং এলাকাবাসীর মধ্যে দায় ঠেলাঠেলি। ঘটনাটি শান্তিপুর ব্লকের বেলঘড়িয়া-১ পঞ্চায়েতের চাদরাপাড়া এলাকার। আপাতত বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর করার আশ্বাস দিয়েছেন শান্তিপুর ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বছরখানেক আগে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা খরচে ওই কমিউনিটি টয়লেটটি তৈরি করা হয়েছিল। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে সেটির উদ্বোধন হয়নি। এরই মাঝে আচমকা নজরে আসে, কেউ বা কারা ভেঙে ফেলছে শৌচাগারের ভিতরের পরিকাঠামো। প্রস্রাবাগারের মাঝে থাকা ছোট দেওয়ালগুলিকে ভেঙে সমান করে দেওয়া হচ্ছে। সেই বাথরুম ভেঙে নাকি তৈরি হবে এলাকার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র! স্থানীয় বাসিন্দাদের সাফ জবাব, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র তৈরি করার দাবি রয়েছে। কিন্তু, তার বদলে পঞ্চায়েত সদস্য তৈরি করেছিলেন এই শৌচাগার। কিন্তু, হঠাৎ সেই পঞ্চায়েত সদস্য এবং তাঁর স্বামী শৌচাগার ভাঙতে শুরু করেন। জিজ্ঞাসা করলে তাঁরা জানান, এই শৌচাগারটিকেই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বানিয়ে ফেলা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সম্রাট সরকার বলেন, পঞ্চায়েত সদস্যা কাকুতি বিশ্বাসের স্বামী গৌতম বিশ্বাস আমাদের বোঝাচ্ছেন, এই শৌচাগারের ভিতরে নাকি এখন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র হবে। সেইজন্য সেটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। আমরা তো বলিনি যে শৌচাগার ভেঙে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র হোক।
যদিও শৌচাগার ভেঙে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র তৈরির দায় এলাকাবাসীর উপরে চাপিয়ে দিয়েছেন পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী। গৌতমবাবু বলেন, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রর স্থায়ী ঘর না থাকায় সমস্যা রয়েছে। এলাকার মহিলাদের একাংশ তাই ওই শৌচালয়টিকে ভেঙে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছেন। বিরোধীদের তরফে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে। স্থানীয় বেলঘড়িয়া-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বাসন্তী বসাক বলেন, প্রধান হিসেবে আমি বিষয়টি জানি না। এমনকী, ওই শৌচাগার ভেঙে অন্য কিছু তৈরি হচ্ছে, তা ব্লক অফিসে জানানো হয়নি। পঞ্চায়েত সেটি ভেঙে অন্য কিছু গড়ার অনুমতি দেয়নি। যদি কেউ এমন কাজ করে থাকেন, তবে তা বেআইনি।
শান্তিপুরের বিডিও সন্দীপ ঘোষ বলেন, আমি ইঞ্জিনিয়ারকে ডেকে পাঠিয়েছি। সোমবার তাঁর থেকে সমস্ত তথ্য নেব। বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর করা হচ্ছে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক আক্রমণ করেছেন শান্তিপুর পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি তথা বিজেপি নেতা চঞ্চল চক্রবর্তী। তিনি বলেন, সরকারি টাকায় তৈরি ওই শৌচাগার ভেঙে ফেলার কাজে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। এটা অত্যন্ত গুরুতর একটি অপরাধ। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র নয়, আসলে ক্লাব তৈরিই ওদের উদ্দেশ্য। আমি বিডিও সাহেবকে বিষয়টি তদন্ত করে দেখার অনুরোধ করব।