Bartaman Logo
২৯ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ধ্বংসস্তূপের ভিতরেই অক্ষত বুদ্ধমূর্তি, ‘অলৌকিক’ দৃশ্য!

অ্যাসবেস্টস ছাউনির গুদামের ঠিক পিছনেই দাঁড়িয়ে তিনতলা কংক্রিটের বিল্ডিং। প্রতিটি তলাতেই ডেকরেটর কোম্পানির বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য মজুত করা রয়েছে বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী—কাপড়, আলো, রংবেরঙের ঝাড়, শুকনো ফুল এবং নানা ধরনের আসবাব।

ধ্বংসস্তূপের ভিতরেই অক্ষত বুদ্ধমূর্তি, ‘অলৌকিক’ দৃশ্য!
  • ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সৌম্যজিৎ সাহা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: অ্যাসবেস্টস ছাউনির গুদামের ঠিক পিছনেই দাঁড়িয়ে তিনতলা কংক্রিটের বিল্ডিং। প্রতিটি তলাতেই ডেকরেটর কোম্পানির বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য মজুত করা রয়েছে বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী—কাপড়, আলো, রংবেরঙের ঝাড়, শুকনো ফুল এবং নানা ধরনের আসবাব। অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই সবকিছুই। বিল্ডিংয়ের বাইরের একটি অংশ কালো হয়ে গিয়েছে। ভিতরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে কাচের টুকরো এবং অন্যান্য জিনিসের ধ্বংসস্তূপ। পা ফেললেই শব্দ হচ্ছে। যেসব বাহারি জিনিসপত্র দিয়ে বিয়েবাড়ি, জন্মদিন ও অন্যান্য পার্টি সেজে উঠত, সেগুলি ধুলোয় মিশে গিয়েছে। ওই বিল্ডিংয়ের সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে মনে হচ্ছিল যেন মিসাইল আক্রমণ ঘটে গিয়েছে! বাড়িটির দোতলায় উঠে প্রথম ঘরটিতে উঁকি মারতেই এক অদ্ভুত দৃশ্য চোখে পড়ে। ঘরের ভিতর  প্লাস্টিকের চেয়ার, আসবাব ও যাবতীয় সামগ্রীর কোনোটাই আস্ত নেই। সেখানেই পড়ে রয়েছে গৌতম বুদ্ধের একটি মূর্তি। বাকি সব চূর্ণবিচূর্ণ হলেও, আশ্চর্য, এই মূর্তিটি একেবারেই অক্ষত! লেলিহান অগ্নিশিখা যেন ছুঁতেই পারেনি ভগবানকে। একটি বৃক্ষতলে ধ্যানমগ্ন বুদ্ধের ওই মূর্তিটি প্লাস্টার অফ প্যারিসের তৈরি। ধূসর রঙের বুদ্ধমূর্তিটি একটি পাত্রের উপর বসানো। আগুন নেভাতে দমকলকর্মীরা জানালার কাচ ও অন্যান্য অংশ ভেঙে জল স্প্রে করেছেন। তাতেও নিজের অবস্থান থেকে সরেনি ওই মূর্তি। ডেকরেটর সংস্থা বিভিন্ন অনুষ্ঠান বাড়ি সাজানোর জন্য নানারকমের মূর্তি ও আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র নিয়ে যায়। এই মূর্তিটিও হয়তো কোনো অনুষ্ঠান বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। সোমবারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ওই ঘর থেকে কোনো কিছুই বের করা যায়নি। সবকিছু যখন ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে তখন কীভাবে বুদ্ধমূর্তিটি অক্ষত রয়ে গেল! এনিয়ে বিস্ময়ের ঘোর কাটছে না কারো। হয়তো একেই বলে অলৌকিক শক্তি। সোমবার ওই গোটা বিল্ডিং আগুনের গ্রাসে চলে গিয়েছিল। এখন প্রতিটি তলাই একেকটি ধ্বংসস্তূপ। আগুন ব্যাপক আকার নেওয়ার আরো একটি কারণ সামনে এসেছে। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের নানা কাজ করত এই ডেকরেটর কোম্পানি। তার জন্য শুধু সাজসজ্জার জিনিস নয় আতশবাজিও মজুত রাখতে হত তাদের।

Advertisement

মঙ্গলবার ওই বিল্ডিংয়ের ছাদে গিয়ে দেখা গেল, সেখানে একাধিক চকলেট বোমা ও চরকি বাজি পড়ে আছে। এছাড়া পাওয়া গিয়েছে তুবড়ির মতো বেশকিছু ‘ইলেকট্রিক’ বাজিও। আগুন ছাড়াই অত্যধিক তাপে এগুলি জ্বলে ওঠে। এই বাড়ির একদিকে গায়ে গায়ে রয়েছে আরো গোডাউন। তাতেও ঠাসা রয়েছে অনুষ্ঠান বাড়িতে ব্যবহৃত নানা সামগ্রী। অনেকেই মনে করছেন, আগুন সেদিকে ছড়িয়ে পড়লে আরো বড়ো বিপর্যয় নেমে আসতে

পারত।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ