তেহরান: ‘বাবা...মার্কিন সেনা আমাদের দু’বার সতর্ক করেছিল। হামলার আগে যুদ্ধজাহাজ ছেড়ে পালাতে বলেছিল তারা। কিন্তু কমান্ডার রাজি হননি। কমান্ডারের কথা অমান্য করেই বেঁচে গিয়েছে ৩২ জন নাবিক।’ ইরানের রণতরী আইআরআইএস ডেনার উপর আমেরিকার টর্পেডো হামলার কয়েক মিনিট আগে বাবাকে ফোন করে এমনই জানিয়েছিলেন ওই যুদ্ধজাহাজের এক নাবিক। সম্প্রতি নিউজ ওয়েবসাইট ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক রিপোর্টে সামনে এল এমনই তথ্য। মার্কিন সাবমেরিনের ছোড়া টর্পেডো হামলায় মৃত্যু হয়েছে ওই নাবিকের। তবে ফোনালাপের বিষয়টিকে কেন্দ্র করে রীতিমতো সাড়া পড়ে গিয়েছে।
৪ মার্চ সকালে ভারত মহাসাগরে আইআরআইএস ডেনার উপর হামলা চালায় আমেরিকা। এই রণতরীতে নাবিক, ক্যাপ্টেন, কমান্ডার মিলিয়ে প্রায় ১৮০ জন ছিলেন। হামলার খবর পেয়ে জরুরি ভিত্তিতে অভিযান শুরু করে শ্রীলঙ্কার নৌসেনা। কিন্তু জাহাজের কোনো হদিশ পায়নি তারা। শুধুমাত্র তেলের স্রোত, লাইফ র্যাফ্ট আর জলে ভাসমান নাবিকদের দেহ। এপর্যন্ত প্রায় ৮৭ জনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। ৩২ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
ইরানের দাবি ছিল,আমেরিকা কোনোরকম সতর্কবার্তা ছাড়াই হামলা চালিয়েছিল। যদিও এই ফোনালাপ অন্য কথা বলছে। জানা গিয়েছে, ইরানি কমান্ডার মার্কিন সতর্কবার্তাকে পাত্তা দিতে চাননি। তিনি কিছুতেই জাহাজ খালি করার অনুমতি দিতে চাইছিলেন না। এর জেরে রণতরীর ক্রু সদস্যদের অনেকেই কমান্ডারের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন। কয়েকজন কমান্ডারের নির্দেশ অমান্য করে লাইফবোট নিয়ে বেরিয়ে পড়েছিলেন। তারাই বেঁচে যান। বাকিরা আর বাড়ি ফিরতে পারেননি।