Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চাঁচলের ৬ শ্রমিককে আটকে রাখার অভিযোগ, হরিয়ানায় ফের হেনস্তার শিকার হল বাংলাভাষীরা

বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলাভাষী শ্রমিকদের হেনস্তা অব্যাহত

চাঁচলের ৬ শ্রমিককে আটকে রাখার অভিযোগ, হরিয়ানায় ফের হেনস্তার  শিকার হল বাংলাভাষীরা
  • ২১ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, চাঁচল: বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলাভাষী শ্রমিকদের হেনস্তা অব্যাহত। মালদহের চাঁচল ১ ব্লকের ছয় পরিযায়ী শ্রমিককে হরিয়ানার গুরুগ্রামের একটি থানায় আটক করে রেখেছে স্থানীয় পুলিস।

Advertisement

পরিবারের অভিযোগ, দু’দিন কেটে গেলেও শ্রমিকদের থানা থেকে ছাড়া হয়নি। আটক হওয়া শ্রমিকদের মধ্যে রয়েছেন মুলাইবাড়ির আনেসুর রহমান ও তাঁর জামাই আলম আলি, শ্রীপতিপুরের নুর আলম, বাকিপুরের মুকুল হোসেন, কিশমতপুর গ্রামের দুই ভাই নাজিমুল হক ও হবিবুর রহমান।
মালদহের জেলাশাসক নীতিন সিঙ্ঘানিয়া বলেন, শ্রমিকদের ছাড়াতে সেখানকার প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। আটকদের পরিবারের দাবি, শুক্রবার রাতে গুরুগ্রামের ঘর থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় চারজনকে। রবিবার সকালে সব্জি বিক্রি করার সময় কিশমতপুরের দুই ভাইকে আটক করে পুলিস। থানায় তাঁদের মারধরও করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় নথি দেখালেও ছাড়া হচ্ছে না। অভিযোগ, থানার বাইরে দালালরা মাথাপিছু ২৫ হাজার টাকা দাবি করছে। তারা বলছে, পরিবারের লোকদের ছাড়িয়ে দেবে। আলমের স্ত্রী আনোয়ারা বিবি বলেন, রাতে খাওয়াদাওয়া সেরে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। হঠাৎ পুলিস এসে স্বামীকে তুলে নিয়ে যায়। থানায় সব নথি দেখিয়েও ছাড়াতে পারছি না। বাইরে আবার লোকজন টাকা চাইছে।
আনেসুর রহমানের স্ত্রী নাজিমা বিবি বলেন, স্বামীকে পুলিস মারধর করেছে। বাইরে দালালরা টাকা চাইছে। রোজগারের সব টাকা যদি দিয়ে দিই, তাহলে চলবে কী করে।
চাঁচল থানার পুলিস জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত হরিয়ানার গুরুগ্রাম থেকে এই বিষয়ে কোনও সরকারি বার্তা আসেনি। 
তবে, পরিবারের তরফে আবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন চাঁচল মহকুমা শ্রম দপ্তরের সহকারি কমিশনার নৌশাদ আলি।
আগেও একাধিকবার ভিনরাজ্যে বাংলার শ্রমিকদের হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। কিছুদিন আগে হরিশ্চন্দ্রপুরের ১৯ জন শ্রমিককে ওড়িশায় বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করা হয়েছিল। পরে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তাঁরা বাড়ি ফেরেন। দু’সপ্তাহ আগে চাঁচলের বেলপুকুর গ্রামের ছয় শ্রমিককে পঞ্জাবের লুধিয়ানা এলাকার পুলিস পশুহত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তাঁরা জেলবন্দি রয়েছেন। এমন ঘটনায় চাঁচলজুড়ে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
শ্রম দপ্তর সূত্রে খবর, চাঁচল মহকুমার প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক ভিনরাজ্যে কর্মরত। চন্দ্রপাড়ার লিটন মণ্ডল বলেন, দাদা গুরুগ্রামে পোশাক সেলাইয়ের কারখানায় কাজ করত। পুলিসের ধরপাকড়ের ঘটনায় আতঙ্কে রয়েছি।
ভিনরাজ্যে বাংলাভাষীদের হেনস্তার অভিযোগে বিজেপি সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের মালদহ জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সি বলেন, গত বিধানসভায় নানা ইস্যু সামনে এনেও বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় আসতে পারেনি। বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলার মানুষকে ফের ভয় দেখাতে ভিনরাজ্যে এরাজ্যের শ্রমিকদের টার্গেট করা হচ্ছে। তৃণমূল যে কোনও মূল্যে বাঙালিদের রক্ষা করবে। প্রয়োজন হলে বৃহত্তর আন্দোলন করা হবে।
পাল্টা, উত্তর মালদহের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুর মন্তব্য, দেশে অনুপ্রবেশ রুখতেই এই অভিযান চলছে। যাঁদের নথি ঠিক আছে, তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। তৃণমূল সরকার বাংলার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করলে তাঁদের ভিনরাজ্যে গিয়ে এই জটিলতায় পড়তে হতো না। 
 হরিয়ানায় আটক পরিযায়ী শ্রমিক (বাঁদিকে) আনেসুর রহমান  ও  (ডানদিকে) আলম আলি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ