Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বালির কারবারে পাল্টে যাচ্ছে অজয়-দামোদরের গতিপথ, বিপর্যয়ের মুখে জলপ্রকল্প

অজয় নদের তীরে জামুড়িয়া থানার দরবারডাঙা গ্রাম। এখানে গেলে তিনরকমভাবে নদী থেকে বালি তোলার কৌশল চাক্ষুষ করা যায়।

বালির কারবারে পাল্টে যাচ্ছে অজয়-দামোদরের গতিপথ, বিপর্যয়ের মুখে জলপ্রকল্প
  • ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: অজয় নদের তীরে জামুড়িয়া থানার দরবারডাঙা গ্রাম। এখানে গেলে তিনরকমভাবে নদী থেকে বালি তোলার কৌশল চাক্ষুষ করা যায়। বেশ কয়েক দশক আগে নদী থেকে বালি তুলতে ব্যবহার হতো গোরুর গাড়ি। গোরুর গাড়ি চারপাশ বস্তা দিয়ে মুড়ে নদী থেকে বালি তুলে গ্রামে নিয়ে আসা হতো। সেই প্রাচীন পদ্ধতির দেখা মেলে এখানে। মোষের গাড়িতে বালি লুট চলছে। তবে মোষের গাড়িতে বালি তোলা হয় বলে দরবারডাঙাকে পিছিয়ে পড়া মনে করলে ভুল হবে। এর পাশাপাশি মেশিন দিয়ে এবং বেলচা দিয়ে ম্যানুয়ালিও বালি লুট চলছে। 

Advertisement

নদীর উপর জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরের জল প্রকল্প রয়েছে। তার নাকের ডগায় এই লুটপাট চলছে। জলপ্রকল্পের সামনে থেকেই বালি তুলে নেওয়ায় মাঝ নদী থেকে ইনটেক ওয়েলের মাধ্যমে সেতু দিয়ে জল আনা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জলপ্রকল্পের সেতুর পিলারগুলির সামনে থেকে বিপুল বালি তুলে নেওয়ায় তা দুর্বল হয়ে পড়েছে। হীরাপুর থানার কালাঝরিয়ায় চলতি বছরই দামোদর নদের উপর একটি জলপ্রকল্পের সেতু ভেঙে পড়ে। তার জেরে শিল্পাঞ্চলজুড়ে প্রবল জল সংকট দেখা দিয়েছে। তারপরও যে শিক্ষা হয়নি পুলিশ-প্রশাসনের, দরবারডাঙা তার বড় প্রমাণ। 
শুধু দরবারডাঙা নয়, জামুড়িয়া থানার তালডাঙা ঘাটেও একই পরিস্থিতি। জল প্রকল্পের সামনে থেকেই অজয় নদে বিপুল পরিমাণ বালি তুলে নেওয়া হচ্ছে। জলপ্রকল্পের কাছ থেকে বালি তোলার অভিযোগ রয়েছে হীরাপুর থানার মানিকেশ্বর এলাকা থেকেও। এভাবে বালি লুট চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে একের পর এক জলপ্রকল্পের উপর তার প্রভাব পড়বে। যার ফলে প্রবল জল সংকটে সামনে দাঁড়িয়ে শিল্পাঞ্চল। শিল্পাঞ্চলের অজয় ও দামোদর নদের উপর শুধুমাত্র জলপ্রকল্প বিপন্ন হয়ে উঠেছে তা নয়, দামোদর ও অজয় নদও বিপন্ন। বালি কারবারিরা নদের উপরই পাথর ও মাটি ফেলে চওড়া রাস্তা তৈরি করছে। তাদের দৈত্যাকার গাড়িগুলি নিয়ে যেতে নদীর মাঝ থেকে পোক্ত রাস্তা তৈরি করতে হচ্ছে। নদীর উপর গড়ে ওঠা এই ধরনের রাস্তাগুলি নদীর গতিপথ পাল্টে দিচ্ছে। আবার নদী ভরাট করে সেখানেই রাখা হচ্ছে বালিবোঝাই লরিগুলি। দামোদর ও অজয় জুড়ে এই অরাজকতার পরেও পদক্ষেপ নেওয়া হয় না বলে অভিযোগ। 
বালি পরিবহণেও নিয়ম ভাঙা হচ্ছে। লরি ও ডাম্পারের ডালার নির্দিষ্ট উচ্চতা থাকে। শিল্পাঞ্চলজুড়ে অবৈধভাবে উচ্চতা বৃদ্ধির কাজ চলছে। এরফলে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ওভারলোডেড বালির গাড়ি গ্রামের রাস্তা থেকে রাজ্য সড়ক ও জাতীয় সড়কে ছুটছে। এই অরাজকতা চললেও সবার মুখে কলুপ। জেলাশাসক পোন্নমবলম এস বলেন, নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলেই আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। (শেষ)

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ