Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মুহূর্তেই হাতির গতিবিধি বনকর্তাদের জানিয়ে দেবে এআই, বসল ক্যামেরা

ঝাড়গ্রামের জ্বলন্ত সমস্যা হাতি। হাতির পাল বাড়িঘর ভাঙচুর করছে। জমির ফসল নষ্ট করছে।হাতির হানায় মানুষের প্রাণ যাচ্ছে। রেল লাইনে কাটা পড়ে কিংবা রহস্যজনকভাবে হাতির মৃত্যুও হচ্ছে।

মুহূর্তেই হাতির গতিবিধি বনকর্তাদের জানিয়ে দেবে এআই, বসল ক্যামেরা
  • ২৮ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রদীপ্ত দত্ত, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামের জ্বলন্ত সমস্যা হাতি। হাতির পাল বাড়িঘর ভাঙচুর করছে। জমির ফসল নষ্ট করছে।হাতির হানায় মানুষের প্রাণ যাচ্ছে। রেল লাইনে কাটা পড়ে কিংবা রহস্যজনকভাবে হাতির মৃত্যুও হচ্ছে। ঝাড়গ্রাম বনবিভাগের তরফে  হাতির গতিবিধির উপর নজর রাখতে করিডরে এবার লাগানো হচ্ছে এআই ক্যামেরা। ফলে, হাতির গতিবিধির ছবি এবার দ্রুত বন বিভাগের দপ্তরে পৌঁছে যাবে। কমবে ক্ষয়ক্ষতি। ঝাড়গ্রামের ডিএফও উমর ইমাম বলেন,ঝাড়গ্রাম বনবিভাগ এলাকায় দু’টিএআই ক্যামেরা বসানো হয়েছে।বাকি ছ’টি বসানোর কাজ চলছে। বন বিভাগের দপ্তর থেকেই হাতির পালের গতিবিধির উপর চব্বিশ ঘণ্টা নজরদারি করা সম্ভব হবে। আমরা দ্রুত জরুরি পদক্ষেপ নিতে পারব। ক্ষয় ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমে যাবে। 

Advertisement

ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া জেলায় ২০১৭ সালে  হাতির সংখ্যা ছিল ১৯৪টি। ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২২৪। আট বছরে ১৫ শতাংশ হাতির সংখ্যা বেড়েছে।হাতির হানা আটকাতে বন বিভাগকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বর্তমানে ছোট ছোট দলে ঘুরে বেড়াচ্ছে দাঁতালরা।হঠাৎ কোনও গ্ৰামে ঢুকে পড়ে তাণ্ডব চালাচ্ছে। জমিতে এসে ফসল খেয়ে যাচ্ছে। হাতির আচমকা হানায় জঙ্গল লাগোয়া এলাকার মানুষের মৃত্যু থামানো যাচ্ছেনা। হাতির পালও সুরক্ষিত নয়। সম্প্রতি, ঝাড়গ্রাম ব্লকের বাঁশতলা সংলগ্ন রেললাইন পারাপারের সময় ট্রেনে কাটা পড়ে দু’টি শাবকসহ পূর্ণ বয়স্ক মা হাতির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল। রাজ্যজুড়ে যা নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল । বনবিভাগ ও রেল কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ের অভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছিল। ২০২১-২২ থেকে ২০২৪-২৫ বর্ষে শুধুমাত্র ঝাড়গ্রাম বন বিভাগে ৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।  মাটির বাড়িক্ষতিগ্ৰস্ত হয়েছে ৭২১ টি।  ১১৯৯. ৪১ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ঝাড়গ্রাম বনবিভাগ ৬ হাজার ৫২৬ জনকে  ক্ষতিপূরণ দিয়েছে।ঝাড়গ্ৰামে বেড়ে চলা হাতির সমস্যা থামাতে চলতি বছরের জুলাই মাসে দক্ষিণবঙ্গের অতিরিক্ত মুখ্য বনপাল( বন্যপ্রাণী)ঝাড়গ্রাম, খড়্গপুর,রূপনারায়ণ মেদিনীপুরের ডিএফওদের বৈঠক করেছিলেন।একাধিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। তারই ফলস্বরূপ এআই ক্যামেরা লাগানোর কাজ চলছে বলে মনে করা হচ্ছে। ঝাড়গ্রামের পুকুরিয়া , রামরমা জঙ্গলে দুটো এআই ক্যামেরা লাগানো হয়ে গিয়েছে।ঝাড়গ্রাম ব্লকের বাঁশতলা রেল লাইন এলাকা, কলাবনীর জঙ্গল, পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে ঝাড়গ্রামের দিকে আসা রাজ্য সড়ক ও পসরো এলাকায় এআই ক্যামরাগুলি লাগানোর কাজ চলছে।সৌর বিদ্যুতের প্যানেল এআই ক্যামেরার সঙ্গে লাগানো হয়েছে।হাতি করিডর এলাকা দিয়ে হাতির পাল পারাপার করার সময় এআই ক্যামেরায় তোলা ছবি বিট, রেঞ্জ ও বনবিভাগের ডিএফও ও এডিএফও’র অফিসে পৌঁছে যাবে। এর জেরে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।-নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ