সংবাদদাতা, লালবাগ: একবছর আগে লালগোলা থানার হরিপুরের বালিপাড়ায় মোস্তাফা শেখ নামে এক প্রৌঢ় নৃশংসভাবে খুন হয়েছিলেন। ওই খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত মৃতের ছোট ভাইকে অবশেষে পুলিস গ্রেপ্তার করল। ধৃতের নাম সুলতান শেখ ওরফে জমিরুল। রবিবার গভীর রাতে চুয়াপুকুর বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতকে সোমবার লালবাগ মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক সাতদিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
ভগবানগোলার এসডিপিও উত্তম গড়াই বলেন, গতবছর ২৭ এপ্রিল সকালে বালিপাড়ার একটি আমবাগান থেকে ওই প্রৌঢ়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়েছিল। তাঁর দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন ছিল। যৌনাঙ্গ কেটে কয়েকটি টুকরো করা হয়েছিল। মৃতের পরিবার কোনও অভিযোগ করেনি। পুলিস স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে। তদন্তে সুলতান সহ কয়েকজনের নাম উঠে আসে। খুনের ঘটনার পর সুলতান ভিনরাজ্যে চলে গিয়েছিল। ফলে তার নাগাল পাওয়া যাচ্ছিল না। সম্প্রতি গোপন সূত্রে খবর পাওয়া যায়, ঈদে সে বাড়ি ফিরবে। সুলতানের ফেরার খবর পেয়ে রবিবার গভীর রাতে প্রথমে তার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। পরে চুয়াপুকুর বাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, হরিপুরের বালিপাড়ার বাসিন্দা মোস্তাফা সাহেব গ্রামের বিভিন্ন হাটে জড়িবুটি, ছাগল ও মুরগির ওষুধ বিক্রি করতেন। সাত ভাইয়ের মধ্যে মোস্তাফা বড় ছিলেন। তাঁর সঙ্গে অন্য ভাইদের বনিবনা ছিল না। পৈতৃক সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে ভাইদের সঙ্গে মোস্তাফার বিবাদ লেগেই থাকত। গ্রামবাসীরা বেশ কয়েকবার মিটমাট করে দিলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। গতবছর তিনি ভাইদের সঙ্গে ফের বিবাদে জড়ান। তার কয়েকদিন পরে ২৭এপ্রিল মোস্তাফা সাহেব চুয়াপুকুর বাজারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ভোর ৫টা নাগাদ বাড়ি থেকে সাইকেল নিয়ে বের হন। তার কিছুক্ষণ পরেই বাড়ি থেকে ৩০০ মিটার দূরে আমবাগানের মধ্যে তাঁর মৃতদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। তাঁরা থানায় খবর দেন। জানা গিয়েছে, দুষ্কৃতীরা প্রথমে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর পেটে বেশ কয়েকবার কোপ মারে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। যৌনাঙ্গ কেটে একাধিক টুকরো করে দেওয়া হয়।
এহেন নৃশংস খুনের ঘটনায় লালগোলাজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। কিন্তু মৃতের পরিবার থানায় কোনও অভিযোগ জানায়নি। সেকারণে লালগোলা থানার পুলিস একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে। পরিবার অভিযোগ না করায় তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে পুলিসকে সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছিল। অবশেষে পুলিস ওই খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত মৃতের এক ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে।