নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: অপারেশন সিন্দুরের প্রত্যাঘাত লস্কর-ই-তোইবা এবং জয়েশ-ই-মহম্মদের মেরুদণ্ডই প্রায় ভেঙে দিয়েছে। জয়েশ সুপ্রিমো মাসুদ আজহারের পরিবারের ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মাসুদ এখন সম্পূর্ণ একা। ভারতের স্কালপ বম্ব এবং হ্যারপ সুইসাইড ড্রোনের আঘাতে বাহওয়ালপুরের ডেরায় মাসুদের দিদি, জামাইবাবু, ভাইয়ের মৃত্যুর কথা আগেই জানা গিয়েছে। এবার জানা যাচ্ছে, মুরিদকে এবং বাহওয়ালপুরের ওই জঙ্গি আস্তানায় ভারতের আক্রমণে খতম লস্কর এবং জয়েশের আরও পাঁচজন মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গিও। তারা প্রত্যেকেই ভারত বিরোধী সন্ত্রাসের প্রত্যক্ষ চক্রান্তকারী অথবা জঙ্গি প্রশিক্ষক ছিল। সবথেকে তাৎপর্যপূর্ণ হল মুদস্সর খাদিয়ান খাসের মৃত্যু। হাফিজ সইদের পর লাহোর এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের লস্কর নেটওয়ার্কের যে কয়েকজন কমান্ডার ছিল, তাদের অন্যতম এই মুদসসর, যার অন্য নাম আবু জুন্দাল।
লস্কর জঙ্গি তথা হাফিজ সইদ ঘনিষ্ঠ এক আবু জিন্দাল বর্তমানে ভারতের আর্থার রোড জেলে বন্দি। কিন্তু এই মুদস্সর তথা আবু জুন্দাল যুক্ত ছিল কাশ্মীর জেহাদের চক্রান্তে। এছাড়াও ভারতের আক্রমণে মৃত্যু হয়েছে মাসুদ আজহারের ভগ্নিপতি মহম্মদ ইউসুফ আজহারের। ১৯৯৯ সালের বিমান হাইজ্যাকিংয়ের সে অন্যতম এক চক্রান্তকারী। অর্থাৎ মাসুদের ভাই আবদুর রউফের মতোই ওই বিমান ছিনতাইয়ের প্লটের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত ছিল মহম্মদ ইউসুফ। আজ দু’জনেই নিহত। বাহওয়ালপুরের মার্কাজ সুভান আল্লাহের ইনচার্জ ছিল হাফিজ মহম্মদ জামিল। জয়েশ-ই-মহম্মদে যোগ দেওয়া নব্য জঙ্গিদের ট্রেনিং দিয়ে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে পাঠানো ছিল তার দায়িত্ব। তারও মৃত্যু হয়েছে।
আফগানিস্তান থেকে অস্ত্র চোরাচালানের এজেন্ট এবং সেই অস্ত্র কাশ্মীরে থাকা হিজবুল মুজাহিদিন ও লস্করের স্লিপার সেলের কাছে পৌঁছে দিত আবু আকাশের। মহম্মদ হাসান খানের বৈশিষ্ট্য ছিল, জম্মু-কাশ্মীরে জঙ্গিদের অনুপ্রবেশ করানো এবং কাশ্মীরে সন্ত্রাস ঘটানোর পর আবার নিরাপদে সীমান্ত পার করে তাদের নিয়ে আসা। এই আবু আকাশের, হাসান এবং হাসানের বাবা আসগর খান কাশ্মীরিও একই হামলায় খতম হয়েছে। বস্তুত জঙ্গি রিক্রুট, ট্রেনিং, ভারতে পাঠানো ইত্যাদি সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ সন্ত্রাসের কাজ যারা চালিয়েছে দীর্ঘ ২৫ বছরের বেশি সময় ধরে, তারা সবাই খতম। অপারেশন সিন্দুর লস্কর ও জয়েশের এক্সপার্ট জঙ্গি কমান্ডার নেটওয়ার্কই ধ্বংস করে দিয়েছে।