সংবাদদাতা, বোলপুর: দীর্ঘদিন পর শনিবার বোলপুরে দলের পার্টি অফিসে তৃণমূলের কোর কমিটির বৈঠক হল। বৈঠকে বেশকিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যদিও বৈঠকে দেখা গেল না জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলকে। যা নিয়ে খোঁচা দিয়েছে বিজেপি। কোর কমিটির আহ্বায়ক বিকাশ রায়চৌধুরীর দাবি, অনুব্রত দেউচা পাচামিতে থাকার কারণে এদিন বৈঠকে যোগ দিতে পারেননি। এদিন বিকেলে মহম্মদবাজারে ব্লক অফিসে অনুব্রত বলেন, পাচামিতে প্ল্যান কমিটির বৈঠক ছিল। সেই কারণে কোর কমিটির বৈঠকে যোগ দিতে পারিনি।
গতবছর ১৫ ডিসেম্বর রামপুরহাটে শেষ কোর কমিটির বৈঠক হয়। প্রতি মাসে বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘদিন তা না হওয়ায় সরব হয়েছিলেন কমিটির কাজল। এরপর বৈঠক আহ্বান করেন আহ্বায়ক বিকাশবাবু। তিনি ছাড়াও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রামপুরহাটের বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ, জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ ও লাভপুরের বিধায়ক অভিজিৎ সিংহ। বৈঠকে মূলত সাঁইথিয়া ও সিউড়ি-২ ব্লকের সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে। এদিন বৈঠকে ছিলেন না কোর কমিটির আর এক সদস্য সুদীপ্ত ঘোষ। বিকাশবাবু সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, বৈঠকে গঠনমূলক ও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। চিকিৎসার কারণে সুদীপ্ত থাকবেন না বলে আগেই জানিয়েছিলেন। বৈঠকে আলোচ্য বিষয়গুলি কোর কমিটির চেয়ারম্যান অনুব্রত মণ্ডলের অনুমোদনের পরই সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে। অনুব্রতর অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে কাজল বলেন, এদিনের বৈঠকে কেন উনি উপস্থিত ছিলেন না, তা তিনিই ভালো বলতে পারবেন। দেউচা পাচামি নিয়ে কলকাতায় গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠক রয়েছে। সেখানে বীরভূমের জেলাশাসক, পুলিস সুপার সহ গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীরা রয়েছেন। ফলে তাঁদের ছাড়া দেওচা পাচামিতে কী বৈঠক হচ্ছে, আমার জানা নেই। প্রতি মাসে বৈঠক যেন হয়, সেই বিষয়টি সদস্যদের জানিয়েছি। ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সন্ন্যাসীচরণ মণ্ডল বলেন, কেষ্ট- কাজলের ঠান্ডা লড়াই জেলার সবাই জানে। ওদের প্রায় মুখ দেখাদেখি বন্ধ। তাই এদিনের বৈঠকে অনুব্রত ইচ্ছাকৃতভাবেই উপস্থিত হননি।