সৈয়দ নিজাম, নাগরাকাটা: চৈত্রের চাঁদিফাটা রোদ। বালি ভরা ওদলাবাড়ির লিস নদীর বুকে বেশকিছু গাড়ির জটলা। কয়েকটা সাদা, একটি লাল। মূল অভিনেতা সেটে আসার অপেক্ষা। লাল গাড়ির আগে একটি জিপ। তাতে রাখা মস্ত বড় বড় ক্যামেরা। শ্যুটিং সেট প্রস্তুত হতেই সাদা রংয়ের ভেনিটি ভ্যান থেকে নেমে নদীর দিকে এগিয়ে চললেন নায়ক। পাশে পুলিস, প্রচুর সিকিউরিটি। গালভরা দাঁড়ি আর বড় চুলে ফ্যানদের সামনে এভাবেই এলেন কার্তিক আরিয়ান। বলিউডের নয়া এই হার্টথ্রব বিখ্যাত আশিকি সিক্যুয়েলের নতুন হিরো। তাঁর পাশে এই সিনেমার হিরোইন পুষ্পা-২ খ্যাত দক্ষিণী অভিনেত্রী শ্রীলীলা। তাঁদের দেখেই ডগমগ তরুণ-তরুণীরা। তাঁদের সাদরে উত্তরের মাটিতে স্বাগত জানালেন শ্যুটিংস্পটে হাজির দর্শক। এই আপ্যায়নে অভিভূত নায়ক-নায়িকারাও। তবে ফ্যানদের সামাল দিতে অবশ্য পুলিসের কালঘাম ছুটে যায়।
আশিকি-থ্রি সিনেমার শ্যুটিংয়ের জন্য নির্দেশক অনুরাগ বসু বেছে নিয়েছেন উত্তরের ডুয়ার্সকে। বুধবার শ্যুটিং লোকেশন ছিল ওদলাবাড়ির লিস নদী। নির্দেশক দিন কয়েক আগেই চলে এসেছিলেন উত্তরে। লোকেশন বাছাই করে ট্রায়ালও দিয়েছিলেন। মঙ্গলবার শিলিগুড়ি হয়ে চালসায় আসেন অভিনেতা কার্তিক আরিয়ান। পরে এসে পৌঁছন অভিনেত্রী শ্রীলীলা। তিনি পুষ্পা-২ সিনেমায় অভিনয়ে নজর কেড়েছেন। চালসায় একটি বড় রিসর্টে তাঁদের এসে পৌঁছনোর ছবি ভাইরাল হওয়ায় বুধবার সকাল থেকেই ফ্যানরা অপেক্ষায় ছিলেন। লিসের চড়ে ভেনেটি ভ্যান, শ্যুটিং ক্রু আসার খবর চাউর হতেই দলে দলে ভিড় জমতে থাকে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লিসের দু’পাশে তখন হাজার মানুষ ভিড় জমিয়েছে। যার মধ্যে তরুণ-তরুণীদের সংখ্যাই ছিল বেশি।
কার্তিক ভেনেটি ভ্যান থেকে নেমে একহাতে ব্যান্ডেজ বাঁধা নিয়ে সোজা গেলেন লিসের চড়ে। সেখানে টুপি মাথায় সিন বুঝিয়ে দিচ্ছেন ডিরেক্টর অনুরাগ। রেলসেতু দিয়ে ট্রেন যাওয়ার সময় নদীর চরে বালির উপর কিভাবে গাড়ি চালাতে হবে তা আরিয়ানকে বোঝাতে দেখা গিয়েছে পরিচালককে। কার্তিক গাড়িতে বসতেই ‘অ্যাকশন’ শুনে প্রচণ্ড গতিতে ছোটা শুরু করল গাড়িগুলি। লিসের ধুলো উড়িয়ে রেলব্রিজের কাছাকাছি পর্যন্ত চলল ‘চেজিং’। গাড়িগুলি সেখানে পৌঁছতেই ডিরেক্টর জানিয়েদিলেন ‘কাট’। সিন শেষে নদীর দু’পাশে দাঁড়ানো দর্শকদের থেকে তখন হাততালির বহর।
শ্যুটিং শেষে ভেনেটি ভ্যানের পথ ধরতেই কার্তিকের কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করেন তরুণীরা। কেউ সেলফির আবদার করেন, কেউ বা তাঁর ছবি এনেছিলেন অটোগ্রাফ নেবেন বলে। কেউ কেউ পেলেও পুলিসি বাধায় অনেককেই দূরে সরে যেতে হন। শার্লি ছেত্রী নামে এক তরুণীকে পাশ থেকে বলতে শোনা গেল, আজ পারলাম না। তবে কাল এসে অটোগ্রাফ নিয়েই যাব।
বিকেল পর্যন্ত শ্যুটিং লোকেশনে ভিড় বাড়তে থাকে উৎসাহী মানুষের। ফ্যানদের ডাক শুনে ব্যান্ডেজ বাঁধা হাত নাড়তে ভোলেননি আরিয়ান। চালসা, সিকিম সহ আরও কয়েকটি জায়গায় শ্যুটিং করবেন তাঁরা।
ওদলাবাড়িতে লিস নদীর পাড়ে শ্যুটিংয়ে কার্তিক আরিয়ানকে ঘিরে উন্মাদনা। - নিজস্ব চিত্র।