Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

মুখে ঘা, ক্যানসার নয় তো!

ছত্রাক জনিত ঘা : জিভে সাদা স্তরের মতো পড়ে। যাকে বলে থ্রাশ। ছড়াতে পারে তালু এবং গালের ভেতরেও। মাইকোনাজল, কোট্রাইমাজল লোশন বা জেল এবং মুখে খাবার ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করা হয়।

মুখে ঘা, ক্যানসার নয় তো!
  • ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৬:১২
Prefer us on Google

 ছত্রাক জনিত ঘা : জিভে সাদা স্তরের মতো পড়ে। যাকে বলে থ্রাশ। ছড়াতে পারে তালু এবং গালের ভেতরেও। মাইকোনাজল, কোট্রাইমাজল লোশন বা জেল এবং মুখে খাবার ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। 

Advertisement

 ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া: নানা ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টি ডিপ্রেশনের ওষুধ, ব্রোমাইড, আয়োডাইড, স্যালিসাইলেট, এপিলেপসি, ক্যানসারের কেমোথেরাপি ওষুধ দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে মুখের ভিতর এবং জিভে ঘা দেখা দিতে পারে। জিভের রং-এর পরিবর্তন হতে পারে।
 আঘাত জনিত কারণে :  কৃত্রিম দাঁত, ভাঙা দাঁত, ছুচোলো দাঁতের সঙ্গে বারবার ঘষা লাগার ফলে জিভের ধারে ক্ষত দেখা দেয়, পরে যা বড় আকার নেয়। ঘা দেখা দিতে পারে গালের ভিতরেও। সাধারণত দাঁতের ঠিকঠাক চিকিৎসা করলেই এই ঘা ধীরে ধীরে কমে আসে। এছাড়া জিভে কামড় পড়া, টুথব্রাশের খোঁচা, জিভছোলার ভুল ব্যবহার, গরম পানীয়র ছ্যাঁকা এবং ভুল করে অ্যাসিড জাতীয় কোনও কিছু খেয়ে ফেললে মুখের ভিতরে-জিভে সব জায়গাতে ঘা দেখা দিতে পারে। সঠিক কারণটা খুঁজে বার করতে পারলেই কেল্লা ফতে। জিভের কামড় বা গরম পানীয়ের থেকে জিভ পুড়লে তাৎক্ষণিক উপশমের জন্য যে কোনও অ্যানাসথেটিক জেলি (জাইলোকেন) মুখের ভিতর লাগাবেন। পেটে গেলেও ক্ষতি নেই। 
বাড়াবাড়ি হলে ডাক্তার তো দেখাতেই হবে।
 নানা ধাতুর সংস্পর্শ থেকে:  মার্কারি, লেড বিসমাথ, গোল্ড ইত্যাদি ধাতু নিয়ে যাঁরা দীর্ঘদিন কাজ করেন এবং ওষুধ হিসেবে খান, তাঁদের জিভে-মাড়িতে-গালে ঘা দেখা দিতে পারে।
 বিভিন্ন ধরনের নেশা থেকে: যে হারে এই বঙ্গের তরুণ সমাজ তামাক চর্বন করছেন, তাতে মুখের ক্যানসারের হার আগামী দশ বছরে দ্বিগুণ হবে, হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ক্যানসার বিশেষজ্ঞরা। নেশা ছাড়াও যাঁরা ভালো করে দাঁত মাজেন না, কিছু খেয়ে ভালো করে মুখ পরিষ্কার করেন না, সেপটিক টনসিল, ফ্যারিনজাইটিস ও মাড়ির সংক্রমণে ভোগেন– তাঁদের জিভে ঘা হয়, মুখে দুর্গন্ধ হয়, নানা ধরনের জীবাণু সংক্রমণ হয়। 
 জটিল রোগ থেকে: কিছু অটো ইমিউন রোগ, সিফিলিসের প্রথম পর্যায়ে, এইডস রোগে, লিচেনপ্লেনাস রোগে জিভ- ঠোঁট- তালু- গাল আক্রান্ত হতে পারে। 
 লিউকোপ্লাকিয়া : কথাটির অর্থ হল সাদা স্তর বা হোয়াইট প্যাচ। যাঁরা বেশি করে পান-সুপারি- জর্দা-পান মশলা খান, ধূমপান এবং মদ্যপান করেন, ভিটামিনের অভাবে ভোগেন– তাঁদের জিভ সহ পুরো মুখের ভেতরটা প্রথমে লালাভ হয়, যাকে বলে এরিথ্রোপ্লাকিয়া। তারপর সাদা স্তরের মতো পড়ে, যাকে বলে লিউকোপ্লাকিয়া। এই অবস্থাটিকে প্রি ক্যানসারাস কন্ডিশন বা ক্যানসারের প্রাক অবস্থা বলা হয়। এর থেকে শতকরা ১৫ জনের ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কাজেই সাবধান হতে হবে আগেভাগেই। নেশার অভ্যাস ছাড়তে হবে। পুষ্টির দিকে নজর দিতে হবে। প্রায় সময়ই চিকিৎসকরা ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, বিভিন্ন মিনারেলস, ল্যাকটোব্যাসিলাস ইত্যাদির সাহায্যে চিকিৎসা করেন। কোনও সন্দেহ দেখা দিলে বায়োপসি করতে বলেন। রোগটিকে কখনওই হেলাফেলা করবেন না।
 মুখের ক্যানসার : নেশা যত বাড়ছে, তত বাড়ছে ক্যানসার। মুখের ক্যানসারও তার ব্যতিক্রম নয়। ভারতীয়দের মধ্যে সব থেকে বেশি হয় মুখ এবং গলার ক্যানসার, যা দেহের মোট ক্যানসারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। জিভের ক্যানসার বেশি হয় জিভের ধারে। জিভের শেষ তৃতীয়াংশে বেস অফ টাং-এ, জিভের ডগায় ও নীচে এবং উপরেও হতে পারে। অসমান, ধারালো ও আধভাঙা দাঁতের খোঁচায় জিভের ধারে প্রথমে ঘা দেখা দেয়। অনেক সময় তার থেকেও ক্যানসার হয়। এছাড়া মাড়িতে, জিভের নীচে ফ্লোর অফ মাউথে, গালের ভিতরে, তালুতে, টনসিলে, ফ্যারিংসেও ক্যানসার হতে পারে।
রোগের শুরুতে জিভে সাদা বা কালো ছোপ বা ঘায়ের মতো দেখা দেয়। জিভে জড়তা থাকে, কথাও ভার হয়, জিভে কোথাও ডেলা পাকিয়ে ওঠে বা ফাটা দেখা দেয়। রোগ বাড়লে জিভে যন্ত্রণা শুরু হয়। ছড়িয়ে পড়ে কানেও। সব সময় লালা পড়ে। খেতে ভীষণ কষ্ট হয়। তবে মাথায় রাখবেন, মুখে কোনও ঘা মানেই  সেটা ক্যানসার নয়। তবে অবশ্যই ডাক্তার দেখিয়ে নেবেন। অনেকের ঠোঁটের কোণে ঘা থাকে। সেখান থেকে ধীরে ধীরে ক্যানসার তৈরি হয়। নিয়মিত মুখের ভিতরটা পরিষ্কার রাখুন। ঠিকমতো দাঁত ব্রাশ করুন। দাঁত ও মাড়ির অসুখের চিকিৎসা করান। নেশা থেকে দূরে থাকুন। পুষ্টিকর খাবার খান।
লিখেছেন ডাঃ অমিতাভ ভট্টাচার্য

সম্পর্কিত সংবাদ