ভালোবাসা। যে কোনও অসুখের অন্যতম ওষুধ। একথা আপনি বিশ্বাস করেন? জীবন দিয়ে এই ঘটনার প্রমাণ পেয়েছেন চীনের বাসিন্দা ওয়াং জিয়াও। ২০১৪ সালে ইউরেমিয়া রোগে আক্রান্ত হন তিনি। এই রোগের ফলে রক্তে বর্জ্য পদার্থ জমে যাওয়ায় কিডনি বিকল হয়ে যায়। চিকিৎসকরা জানান, দ্রুত কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট না করলে ওয়াংয়ের জীবন বিপন্ন। আত্মীয়, বন্ধুদের মধ্যে উপযুক্ত ডোনার পাওয়া না যাওয়ায় অনলাইন ক্যান্সার সাপোর্ট গ্রুপে একটি মেসেজ করেন তরুণী। সেখানে আবেদন জানানো হয়, কোনও মরণাপন্ন পুরুষকে বিয়ে করতে আগ্রহী ওয়াং। যাতে স্বামীর মৃত্যুর পর তার কিডনি নিজের শরীরে প্রতিস্থাপন করে বেঁচে থাকতে পারে তিনি। সেই মেসেজ দেখে ২৭ বছরের ইউ জিয়ানপিং যোগাযোগ করেন। তিনি রক্তের ক্যান্সারে ভুগছিলেন। ২০১৩-এ দু’জনের বিয়ে হয়। ইউয়ের শর্ত ছিল, তাঁর মৃত্যুর পর বাবার সাপোর্ট সিস্টেম হয়ে থাকতে হবে। তা মেনে নিয়েই শুরু হয় পথচলা। তাঁদের দাম্পত্যের দিনগুলো কাটত হাসপাতালে। ওয়াং একটি দোকানে ফুল বিক্রি করতেন। সেখানেই তাঁদের জীবনের কাহিনি লিখে ঝুলিয়ে রাখতেন একটি বোর্ডে। বহু মানুষ তা দেখে অর্থ সাহায্য করতেন। কিডনি চাই— এই বিজ্ঞাপন দিয়ে যে বিয়ের শুরু, তা আদতে প্রেমের রূপ পায়। ভালোবাসায় গড়ে ওঠে তাঁদের সংসার। কিন্তু একে অপরকে হারিয়ে ফেলার ভয় নিরন্তর ছিল সঙ্গী। আচমকাই যেন ওঁদের জীবনে ম্যাজিক তৈরি হয়। ২০১৪ থেকে ইউয়ের শরীর ভালো হতে শুরু করে। অন্যদিকে সপ্তাহে দু’বার ডায়ালিসিসের পরিস্থিতি থেকে মাসে একবার ডায়ালিসিসের পরিস্থিতিতে নিজেকে নিয়ে আসেন ওয়াং। ২০১৫-এ দম্পতি হিসেবে নিজেদের জার্নি তাঁরা সেলিব্রেট করেন। তারপর কেটে গিয়েছে আরও ১০ বছর। ওয়াংয়ের সেই ফুলের দোকানটা এখনও রয়েছে। সেই দোকান এখন চালান দু’জনে। ওয়াং এবং ইউ— যাঁদের জীবন থমকে গিয়েছিল, ভালোবাসাই তাঁদের যেন জিতিয়ে দিল।



