নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বাঁ হাতে ধরা কাটা মুণ্ড। ডান হাতে রক্ত মাখা চপার। প্রকাশ্য দিবালোকে বাসন্তী হাইওয়ে দিয়ে হেঁটে চলেছে মাঝবয়সি লোকটি। নিরুত্তাপ, ভাবলেশহীন। পথে মন্দির দেখলে একবার করে প্রণাম ঠুকে নিচ্ছে। আশপাশ দিয়ে যাঁরা বাইক নিয়ে বা হেঁটে যাচ্ছিলেন, শিউরে উঠলেন তাঁরা। চোখ কচলে ভালোভাবে দেখেও যেন বিশ্বাস হচ্ছিল না—ঠিক দেখছি তো!
শনিবার সকালে বাসন্তীর ৬ নম্বর ভরতগড় অঞ্চলের এই হাড়হিম করা ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ভয়াবহ দৃশ্যের ভিডিও মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বউদির মাথা কেটে হাতে নিয়ে থানায় আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছিল দেওর বিমল মণ্ডল। খবর পেয়ে আসছিল পুলিস। রাস্তাতেই সে পুলিসের কাছে আত্মসমর্পণ করে। মৃত মহিলার নাম সতী মণ্ডল (৫৮)। সামান্য আম পাড়া নিয়ে দুই পরিবারের বচসা থেকেই এমন নৃশংস ঘটনা বলে দাবি এলাকাবাসীর। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত মহিলার স্বামী গীরেন মণ্ডল মাস তিনেক আগে বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন। তারপর থেকেই দেওরের সঙ্গে মাঝেমধ্যেই ঝামেলা লেগে থাকত বৌদির। মূলত জমিজমা ও সম্পত্তি নিয়ে দু’পক্ষের বিবাদ হতো। যে কোনও ছুতোয় শুরু হয়ে যেত ঝগড়াঝাঁটি। পুকুরে মাছ ধরা থেকে দেওরের জমি দিয়ে হাঁটাচলা নিয়েও ঝামেলা চলত। এদিন নিজের গাছের আম পাড়তে গেলে দেওরের সঙ্গে তুমুল অশান্তি বাধে তার বউদির। ঝগড়ায় উঠে আসে নানা পুরনো ঘটনা ও অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ। সূত্রের খবর, দাদার আত্মহত্যার পিছনে বউদির ইন্ধন ছিল—এই অভিযোগের পরই পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। আচমকাই বিমল ঘর থেকে চপার এনে বউদির ঘাড়ে কোপ বসিয়ে দেয়। তারপর মুণ্ডচ্ছেদ করে। সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ ঘটনা জানাজানি হয়। ছুটে আসেন পাড়ার লোকজন থেকে শুরু করে পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধিরা। তখনই গ্রাম থেকে বাসন্তী থানায় যাওয়ার জন্য হাতে কাটা মুণ্ড ঝুলিয়ে বেরিয়ে পড়ে বিমল। মৃতার ছেলে শুভদীপ মণ্ডল এই ঘটনার জন্য তাঁর কাকীমা এবং তাদের ছেলেকেও দায়ী করেন। তাঁর অভিযোগ, দিনের পর দিন তারা তাঁর মাকে উত্যক্ত করে তুলছিল। ছোট ছোট বিষয়ে অশান্তি হচ্ছিল। বাবা মারা যাওয়ার পর তাঁদের ভিটেমাটি ছাড়া করার চেষ্টা হয় বলেও অভিযোগ তাঁরা। পুলিস মৃতার বাড়ি লাগোয়া মাঠ থেকে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। আজ, রবিবার ধৃতকে আদালতে তোলা হবে।