সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: ঢাকঢোল পিটিয়ে শুরু হয়েছিল সলিডওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প। জঞ্জাল সংগ্রহ করে ডাম্পিংগ্রাউন্ডে ফেলার জন্য নির্মল বাংলা মিশনের লক্ষ লক্ষ টাকায় কেনা হয়েছিল বিশেষ গাড়ি। কিন্তু অধিকাংশ গ্রাম পঞ্চায়েতের নিজস্ব ডাম্পিং গ্রাউন্ড না থাকায় সেই গাড়ি ফেলে রেখে নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে ক্ষোভও ছড়িয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
শিলিগুড়ি মহকুমার মাটিগাড়া-১ গ্রাম পঞ্চায়েতে এই অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। এই গ্রাম পঞ্চায়েতের অফিসে ঢুকেই গেটের বাঁদিকে নজর দিলে দেখা যাবে খোলা আকাশের নীচে এরকম পাঁচটি গাড়ি দীর্ঘদিন ধরে পড়ে রয়েছে। ব্যবহার না হওয়ায় গাড়িগুলির অধিকাংশ চাকার হাওয়া চলে গিয়ে টায়ার মাটিতে গেঁথে গিয়েছে। গাড়িতে মরচে ধরেছে। বেশ কিছু জায়গায় রঙ উঠেছে।
মাটিগাড়া-১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মধ্যে রয়েছে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ, একাধিক নার্সিংহোম, হোটেল, সিআরপিএফ অফিস, অসংখ্য দোকান বাজার। জনবসতি বেড়ে চলেছে। প্রতিদিন প্রচুর জঞ্জাল জমা হয়। ডাম্পিং গ্রাউন্ড না থাকায় এখানে জঞ্জাল সংগ্রহ সেভাবে হয় না। বিভিন্ন জায়গায় খালি জমিতে, রাস্তার ধারে জঞ্জাল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ফেলে রাখা হয়। সেখান থেকে ছড়িয়ে পড়ে কটু গন্ধ।
এদিকে খোলা আকাশের নীচে গাড়ি ফেলে রাখার কথা অস্বীকার করেছেন গ্রাম প্রধান কৃষ্ণ সরকার। তিনি বলেন, ২০২৩ সালে নির্মল বাংলা মিশনের প্রায় আট লক্ষ টাকা দিয়ে এই গাড়িগুলি কেনা হয়েছিল। সে সময় এখান থেকে জঞ্জাল সংগ্রহ করে বুড়াগঞ্জে নিয়ে গিয়ে ফেলা হত। তখন এই গাড়িগুলি ব্যবহার হয়েছে। পরবর্তীতে সেখানেই জঞ্জাল ফেলা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তারপর গাড়িগুলি প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে রাখা ছিল। ঝড়ে সেই প্লাস্টিক উড়ে গিয়েছে।
তাঁর সংযোজন, উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল এলাকায় শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ ডাম্পিং গ্রাউন্ড তৈরি করেছে। শীঘ্রই তা চালু হবে। তখন আবার এই গাড়িগুলি ব্যবহার করা হবে। নিজস্ব চিত্র।