


অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: বিশ্বভারতীর নতুন উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ জমা পড়ল রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর কাছে। তাতে একদিকে যেমন রয়েছে কোটি কোটি টাকা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ, তেমনই রয়েছে নানা আইন বহির্ভূত ক্রিয়াকলাপ এবং জাতিবিদ্বেষমূলক আচরণ নিয়ে নালিশও। তবে, প্রেরক যেমন তেমন কেউ নন, তিনি হলেন কৃষিমন্ত্রকের অধীন ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব এগ্রিকালচারাল রিসার্চ বা আইসিএআরের গভর্নিং বডির সদস্য বেণুগোপাল বরদাভডা। যদিও, যাবতীয় অভিযোগ উড়িয়ে দিচ্ছেন উপাচার্য নিজেই।
প্রবীরবাবু বিখ্যাত কৃষিবিজ্ঞানী। তবে, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তালিকাও দীর্ঘ। অধিকাংশ অভিযোগই পুরনো। তবে, বেশ কিছু নয়া অভিযোগও রয়েছে। শেষতম অভিযোগ হল, তিনি উপাচার্য না হয়েও নিজেকে ‘উপাচার্য’ হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং নেমপ্লেটে তা লিখতেন। ছত্তিশগড়ের রায়পুরে এনআইএসবিএমে তিনি অধিকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আইসিএআর অনুমোদিত তিনটি ডিমড বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকাতেও এই প্রতিষ্ঠান পড়ে না। তাই এর প্রধানকে কোনওভাবেই উপাচার্য বলা চলে না। যদিও, তিনি উপাচার্য হিসেবেই নিজেকে পরিচয় দিতেন। বেণুগোপালের দাবি, বিশ্বভারতীতে নিয়োগ পাওয়ার আগে তিনি নিজের পরিচয় ‘উপাচার্য’ হিসেবেই দিয়েছেন। এর ফলেই নাকি তাঁর চাকরি পেতে সুবিধা হয়েছে।
মাথায় রাখতে হবে, যে কোনও কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিশ্বভারতীর ভিজিটর বা পরিদর্শক দেশের রাষ্ট্রপতি স্বয়ং। আচার্য বা চ্যান্সেলর প্রধানমন্ত্রী। তাই তাঁদের কাছেও বিষয়টি জানিয়েছেন বেণুগোপাল। এ প্রসঙ্গে প্রবীরবাবু বর্তমানকে বলেন, ‘অধিকর্তা হিসেবে আমার পোস্ট এবং বেতন উপাচার্যের সমান। তাই এতে কোনও ভুল নেই।’ এবার আসা যাক অন্যান্য অভিযোগের প্রসঙ্গে। আইসিএআরের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার সময় কালো তালিকাভুক্ত সংস্থার কাছ থেকে আড়াই কোটি টাকার গবেষণা সামগ্রী কেনা, কখনও বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় প্রকল্পের ২২ কোটি টাকার দুর্নীতিতে পরোক্ষে নাম জড়িয়ে যাওয়া— সব অভিযোগই জমা পড়েছে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রীর কাছে। এর সঙ্গে অভিযোগ করা হয়েছে জাতিবিদ্বেষমূলক আচরণের। তাতে নাকি প্রাথমিকভাবে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণও হয়েছিল। এর পাশাপাশি, ভুয়ো সার্টিফিকেট ইস্যু করার ক্ষেত্রেও নাম জড়িয়েছে তাঁর।
এসব অভিযোগ অবশ্য উড়িয়েই দিচ্ছেন প্রবীরবাবু। তিনি বলেন, ‘বেণুগোপাল বরদাভডা নিজে আইসিএআর গভর্নিং বডির সদস্য। তিনি আরটিআই অ্যাক্টিভিস্ট হিসেবেও পরিচিত। তিনি সবসময় এসবই করে বেড়ান। কেউ যখন কোনও পদ পান, তখন তাঁর বিরুদ্ধে আসরে নেমে পড়েন। এখন কেউ তাঁকে গুরুত্ব দেন না। তিনি এর আগে আইনি হুঁশিয়ারিও পেয়েছেন।’ পাশাপাশি, জাতিবিদ্বেষমূলক অভিযোগে মূল অভিযোগকারীকেই শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে বলে তাঁর দাবি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইসিএআরের এক আধিকারিক বলেন, ‘বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েও প্রবীরবাবু উপাচার্য পদপ্রার্থী ছিলেন। তবে, সম্ভবত এসব অভিযোগের কারণেই সেখানে তিনি চাকরি পাননি। তবে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিজের হাতে তৈরি বিশ্বভারতীর মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের মাথায় তিনি কীভাবে বসলেন, সেটা একটা বিস্ময়। তাছাড়া, বিশ্বভারতীতে কৃষিবিজ্ঞান খুব গুরুত্বপূর্ণ বিভাগও নয়।’