সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ‘সহযোদ্ধা’। এমনকী, শিলিগুড়িতে বিজেপির প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। সেই মাখনলাল সরকারের বয়স এখন প্রায় ৯৭। তা সত্ত্বেও ঠান্ডা উপেক্ষা করে স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের নিয়ে এসআইআরের শুনানির লাইনে দাঁড়ান তিনি। বিষয়টি তিনি মেনে নিলেও নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এনিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে বিতর্ক চরমে।
শিলিগুডি তো বটেই উত্তরবঙ্গের বর্ষীয়ান রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে মাখনলাল একজন। শহরের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের ২২১ নম্বর বুথে তাঁর বাড়ি। এখানকার শুনানি কেন্দ্র বরদাকান্ত বিদ্যাপীঠে করা হয়েছে। গত ২ জানুয়ারি স্ত্রী পুতুলদেবী সহ দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে শুনানিতে হাজির হন এই বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশভাগের আগে এখানে আসেন মাখনলালরা। তিনি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে রাজনীতি করেছেন। বাংলা ও বাঙালির স্বার্থে বহু আন্দোলন করেছেন। এখানে বিজেপির প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। বিজেপির ঝান্ডা কাঁধে নিয়ে বহু মিটিং, মিছিল, আন্দোলন সংগঠিত করেছেন। দলের এখানকার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন তিনি। এখানে এলেই তাঁর বাড়িতে এসে সাক্ষাৎ করেন পদ্ম শিবিরের রাজ্য ও কেন্দ্রের নেতারা। এমনকী, তাঁকে প্রধানমন্ত্রী সহ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সভার মঞ্চেও বেশ কয়েকবার দেখা গিয়েছে।
বর্ষীয়ান এই বিজেপি নেতা বলেন, দেশ ভাগের আগে থেকে এখানে বসবাস করছি। বহু নির্বাচনে দলের হয়ে ময়দানে নেতৃত্ব দিয়েছি। কিন্তু ২০০২ সালের ভোটার তালিকা থেকে কেন আমার সহ পরিবারের সমস্ত সদস্যর নাম কাটা পড়েছিল বুঝতে পারছি না। তাঁর সন্দেহ, সম্ভবত বিজেপি করায় সেই সময় চক্রান্ত করে ভোটার তালিকা থেকে সপরিবারে তাঁর নাম কেটে ছিল সিপিএম।
যদিও সিপিএমের দার্জিলিং জেলা সম্পাদক সমন পাঠক বলেন, এ ধরনের রাজনীতি সিপিএম কোনও দিন করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না। ওই বিজেপি নেতার ধারণা ভুল। তবে এসআইআর, এনআরসি, মানুষের মধ্যে বিভেদের রাজনীতি করছে বিজেপি।
এদিকে, বর্ষীয়ান এই বিজেপি নেতা হিয়ারিংয়ের লাইনে দাঁড়ানোয় মাথাচাড়া দিয়েছে বিতর্ক। তৃণমূল কংগ্রেসের দার্জিলিং জেলার সাধারণ সম্পাদক (সমতল) তথা ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার লক্ষ্মী পালের স্বামী অমর পাল বলেন, সেভাবে খোঁজখবর না নিয়ে যাঁকেতাঁকে শুনানিতে ডেকে হয়রান করেছে বিজেপির হাতের ‘কাঠপুতল’ নির্বাচন কমিশন। মাখনলাল কাকাকে শুনানিতে ডাকার ঘটনা থেকেই তা স্পষ্ট। তবে বিরোধী দল করলেও উনি আমাদের পাড়ার বর্ষীয়ান বাসিন্দা। ওঁকে কাকা বলে ডাকি। তাই শুনানির দিন ওঁকে আমরা সহায়তা করেছি।
প্রসঙ্গত, বয়স্ক, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও অসুস্থদের বাড়িতে গিয়ে শুনানি করার কথা নির্বাচন কমিশনের। তার পরেও মাখনলাল শুনানি কেন্দ্রে হাজির হওয়ায় কমিশনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। স্থানীয় বিএলও সুব্রত ভৌমিক অবশ্য বলেন, শুনানি কেন্দ্রে হাজির না হওয়ার জন্য ম্যাপিংহীন ওই বয়স্ক ভোটারকে অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু ২ জানুয়ারি উনি নিজেই শুনানি কেন্দ্রে হাজির হয়েছিলেন। ওঁকে লাইনে দাঁড়াতে হয়নি। কাজেই কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ঠিক নয়। • নিজস্ব চিত্র।