নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: এসআইআরে চরম হয়রানির অভিযোগ তুললেন রানাঘাট শহরের বাসিন্দা এক বৃদ্ধা। প্রায় ছয় দশকের ভোটার হওয়া সত্ত্বেও তাঁর নাম বাদ যাওয়ায় হতাশ কণিকা মৌলিক। সরকারি আর্কাইভ থেকে ১৯৬৬ সালের ভোটার তালিকায় কাঁচরাপাড়ায় নাম থাকার শংসায়িত কপি নিয়ে আসার পরেও তার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
রানাঘাট পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা, ৭৯ বছর বয়সি কণিকা মৌলিক ছয় দশকেরও বেশি নিয়মিত ভোট দিয়ে আসছেন। কিন্তু সম্প্রতি এসআইআর খসড়া তালিকায় তাঁর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে জানতে পারেন। পরিবার সূত্রে দাবি, অতীতেও একাধিকবার এমন সমস্যার সম্মুখীন হতে হলেও প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়ে বিষয়টি মিটে গিয়েছিল। কিন্তু এ বার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
শনিবার রানাঘাট মহকুমা শাসকের দপ্তরে ডাকা শুনানিতে কণিকা মৌলিক বিভিন্ন সরকারি ও শিক্ষাগত নথি পেশ করেন। জমির দলিল, বিদ্যালয়ের কাগজপত্র থেকে শুরু করে রাজ্য আর্কাইভ থেকে সংগৃহীত পুরনো ভোটার তালিকার প্রত্যয়িত নকল, সবই জমা দেওয়া হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। তবু প্রশাসনের তরফে তাঁকে জানানো হয়, নির্দিষ্ট বছরের ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে নতুন করে আবেদন করতেই হবে। এই সিদ্ধান্তে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন ওই বৃদ্ধা। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, এত বছর ভোট দেওয়ার ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট বছরের তালিকার উপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেওয়া অমানবিক। কণিকার বড় ছেলে শোভন মৌলিক বলেন, মা কোনও অপরাধ করেননি। শুধু ভোট দেওয়ার অধিকার চেয়েছেন। অথচ তাঁকে দিনের পর দিন ঘুরতে হচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রানাঘাট পুরসভার চেয়ারম্যান কোশলদেব বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, প্রবীণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রশাসনের আরও সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত। তিনি আশ্বাস দেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন স্তরে তুলে ধরা হবে। অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে রানাঘাটের মহকুমা শাসক মহম্মদ সুবুর খান জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্দিষ্ট নির্দেশিকা মেনেই প্রশাসন কাজ করছে। নির্ধারিত গাইড লাইনের বাইরে গিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয় বলেও তিনি স্পষ্ট করেন। আমাদের কাছে ভেরিফিকেশনের জন্য যে তালিকা বেঁধে দেওয়া হয়েছে, আমরা সেই অনুযায়ী শুনানি পর্ব চালাচ্ছি।