Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পহেলগাঁও ছেড়ে আসার পরই জঙ্গি হামলা, শিহরিত বর্ধমানের ৭ পর্যটক, ভূস্বর্গ যেন মুহূর্তে আতঙ্কপুরী

পহেলগাঁওয়ের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শ্রীনগরে ফেরেন পাভেল সাহা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আরও ১৬ জন।

পহেলগাঁও ছেড়ে আসার পরই জঙ্গি হামলা, শিহরিত বর্ধমানের ৭ পর্যটক, ভূস্বর্গ যেন মুহূর্তে আতঙ্কপুরী
  • ২৪ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: পহেলগাঁওয়ের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শ্রীনগরে ফেরেন পাভেল সাহা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আরও ১৬ জন। সিনেমায় দেখা কাশ্মীরে সৌন্দর্য উপভোগ করে তাঁরা যেন এক অন্য জগতে ডুব দিয়েছিলেন। খোশ মেজাজে গল্প চলছিল। সঙ্গে মোবাইল ক্যামেরায় নানা মুহূর্তের ছবি তাঁরা বন্দি করতে থাকেন। তখনই জানতে পারেন, তাঁরা পহেলগাঁও ছেড়ে আসার পরই সেখানে জঙ্গি হামলা হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে মনের আনন্দ উধাও হয়ে যায়। ভূস্বর্গ যেন আতঙ্কপুরী হয়ে ওঠে। তাঁদের হোটেল থেকে বেরতে নিষেধ করা হয়। ততক্ষণে সমস্ত দোকান বন্ধ হয়ে গিয়েছে। পাহাড়ী রাস্তায় গাড়ি চলছে না। পুরো এলাকা সেনাবাহিনীর দখলে। হোটেলে বসে বর্ধমানের পাভেল সাহা, পুনম চৌধুরীররা নিজেদের ভাগ্যকে ধন্যবাদ দিচ্ছিলেন। টিভির পর্দায় জঙ্গি হামলার ছবি দেখে তাঁরা শিউরে ওঠেন। 

Advertisement

পাভেলবাবু বলেন, বরাত জোরে বেঁচে গিয়েছি। আর কিছুক্ষণ পহেলগাঁওয়ে থেকে গেলে আমাদের কী হতো কে জানে! দুপুরে সেখানকার শান্ত রূপ দেখে এসেছি। বহু বাঙালি পর্যটক সেখানে ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে জমিয়ে গল্প করেছি। তারপর আমরা শ্রীনগরে ফিরে আসি। আমাদের দলে পূর্ব বর্ধমান জেলার সাতজন ও বাঁকুড়ার ১০জন রয়েছেন। সকলেই আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। তিনি বলেন, শ্রীনগরের চেহেরাও বদলে গিয়েছে। ব্যস্ত এলাকা হঠাৎ করেই স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। ডাললেকেও লোকজন নেই। গাড়ি চলছে না। প্লেনের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। এমন অভিজ্ঞতা নিয়ে বাড়ি ফিরতে হবে বলে ভাবতে পারিনি। তবে শ্রীনগরের স্থানীয় বাসিন্দারা সহযোগিতা করেন। একজন শাল বিক্রেতার সঙ্গে আমাদের অনেক আগে থেকে পরিচয় ছিল। তিনিও সব রকম সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
পর্যটকরা বলেন, ট্যুর অপারেটরের মাধ্যমে তাঁরা কাশ্মীর ঘুরতে এসেছেন। রান্না করার লোক সঙ্গে আছে। তাই খাবারের অভাব হয়নি। তা না হলে এই পরিস্থিতিতে চরম সমস্যায় পড়তে হতো। দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত কাশ্মীরের বাতাবরণ অন্য রকম ছিল। দর্শনীয় সব জায়গাতেই পর্যটক ছিল। ডাললেকও ছিল জমজমাট। বিকেলের পর পুরো ছবি বদলে যেতে থাকে। পর্যটকরা হোটেল বন্দি হয়ে যান। রাস্তায় বেরনোর ঝুঁকি কেউ নেয়নি। বর্ধমানের ওই পর্যটক বলেন, আমরা তাড়াতাড়ি ফিরে আসায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছি। কিন্তু, যাঁদের হাসিমুখে ঘুরতে দেখেছিলাম তাঁদের অনেকেই জঙ্গিদের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছেন। মৃত স্বামীর পাশে বসে রয়েছেন স্ত্রী। এদৃশ্য দেখা যায় না। হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ