নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: কাঁকটিয়া বাজারে নিকাশি খাল কাটা শুরু হতেই দু’টি পাকা দোকানঘর ভেঙে পড়ল। আরও চারটি দোকান হেলে পড়েছে। রবিবার রাত সাড়ে ১০টার পর ওইসব দোকান খালের দিকে হেলে পড়ে। ওই বাজারে বিদ্যাসাগর মূর্তির পাশের দৃশ্য অনেকটা ভূমিকম্প বিধ্বস্ত এলাকার মতো। ওই ঘটনার পরই বাজার এলাকায় খাল কাটার কাজ আপাতত বন্ধ। সোমবার জরুরি ভিত্তিতে কাঁকটিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতি এনিয়ে আলোচনায় বসে। আগামী ১৭ এপ্রিল অফিস খোলার পরই সংগঠনের পক্ষ থেকে বিডিও এবং বল্লুক-১ পঞ্চায়েত প্রধানের কাছে এনিয়ে ডেপুটেশন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ব্যবসায়ী এবং দোকানদারদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে নিকাশি খাল খননের কাজ করতে হবে বলে দাবি জানানো হবে। ওই ঘটনায় বাজারের ব্যবসায়ী ও দোকানদাররা আতঙ্কে রয়েছেন।
বুড়ারি বাজার থেকে কাঁকটিয়া বাজার পর্যন্ত ৩.২ কিলোমিটার অংশজুড়ে ওই নিকাশি খাল খনন হবে। খালের উপরের দিকে ২০ মিটার এবং তলদেশে সাত মিটার খনন হবে। সেচদপ্তরের পক্ষ থেকে ওই নকশা এজেন্সির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। সেইমতো রবিবার বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ এজেন্সির পক্ষ থেকে জোড়া জেসিবি নামিয়ে খনন কাজ শুরু হয়। বিদ্যাসাগর মূর্তির পাশে খালের মাটি কাটার পরই সেখানকার দু’টি দোকানঘর ভেঙে পড়ে। চারটি দোকান খালের দিকে হেলে পড়ে। বাজার কমিটির একটি প্রস্রাবাগারও পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। তার কোনও অস্তিত্ব নেই। ব্যবসায়ী এবং দোকানদাররা জিনিসপত্র সরিয়ে নিয়েছেন। ওই ঘটনার পরই খালপাড়ে অন্য দোকানদাররা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
কাঁকটিয়া বাজারে প্রায় একশো মিটার এলাকাজুড়ে পূর্ত(রোডস) দপ্তরের জায়গার উপর খালপাড় দখল করে অন্তত ৬০টি দোকানঘর তৈরি হয়েছে। বুড়ারি থেকে কাঁকটিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকার জল ওই খাল দিয়ে সোয়াদিঘিতে পড়ে। ওই নিকাশি খাল মজে যাওয়ায় অল্প বৃষ্টিতেই এলাকা জলমগ্ন হয়। জলে ভাসে শহিদ মাতঙ্গিনী বিডিও অফিসও। প্রতি বছর বিডিও এবং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির চেম্বারে হাঁটু সমান জল জমে যায়। বাধ্য হয়ে অন্য বিল্ডিংয়ে তাঁদের বসতে হয়। এই সমস্যা মোকাবিলায় ওই গুরুত্বপূর্ণ নিকাশি খাল খননের সিদ্ধান্ত হয়। সেইমতো এজেন্সি নিয়োগ করা হয়। গত ৩ এপ্রিল বল্লুক-১ গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে ওই বাজারের ব্যবসায়ী এবং দোকানদারদের নিয়ে প্রশাসন ও সেচদপ্তর মিটিং করে। রবিবার সন্ধ্যায় দু’টি জেসিবি নামানো হয়।
রবিবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ সরোজ পাছালের রেস্টুরেন্ট, সমীর ভঞ্জের ফাস্ট ফুডের দোকান, দীপক সামন্তের সিমেন্টের দোকান সহ মোট ছ’টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই ছ’টি দোকানঘরের পিছনে খাল থেকে মাটি কাটা হয়েছে। মেচেদা-তমলুক রাজ্য সড়কের ধারে ওই নিকাশি নালার ধারে মোট ৬০টি দোকান ঘর আছে। পুরো একশো মিটার এলাকাজুড়ে খনন কাজ হলে একটি দোকানও আস্ত থাকবে না বলে ব্যবসায়ীদের দাবি। বিদ্যাসাগরের মূর্তিও রক্ষা করাও অসম্ভব হবে। এই অবস্থায় সোমবার বাজার এলাকায় খনন কাজ বন্ধ রাখা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত সিমেন্টের দোকানদার দীপক সামন্ত বলেন, রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ আমার দোকানঘর হুড়মুড়িয়ে ধসে পড়ে। সন্ধ্যা থেকেও বুঝতে পারি, পরিস্থিতি ভালো নয়। তাই আগেই জিনিসপত্র বের করে নিয়েছিলাম। কাঁকটিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক স্বদেশরঞ্জন শী বলেন, যে পরিমাণ মাটি কাটা হচ্ছে তাতে বাজারের একটা দিক পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাবে। সোমবার সকালে আমরা মিটিং করেছি। প্রশাসনের নজরে গোটা বিষয়টি আনা হবে। আমাদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে খাল কাটার দাবি জানানো হবে।-নিজস্ব চিত্র