নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: টর্নেডো হোক বা বা মেঘভাঙা বৃষ্টি—বড়সড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের তাৎক্ষণিক পূর্বাভাস দিতে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় হাফ ডজন শক্তিশালী রেডার বসাচ্ছে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর। জলপাইগুড়ি, মালদহ, গ্যাংটক, ডায়মন্ডহারবার সহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় রেডারগুলি বসানো হচ্ছে বলে জানালেন কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের ডিরেক্টর জেনারেল মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র। সোমবার জলপাইগুড়িতে তিনি বলেন, ‘গোটা দেশে ৫৩টি রেডার বসছে। প্রতিটি রেডার ৩০০ কিমি পর্যন্ত এলাকার আবহাওয়া সংক্রান্ত তাৎক্ষণিক আপডেট দিতে পারবে। মেঘের গতিবিধি সম্পর্কে প্রতি মুহূর্তে তথ্য মিলবে। ফলে প্রতি এক বা দু’ঘণ্টা অন্তর আমরাও মানুষকে তা জানাতে পারব।’ সেই সঙ্গে বজ্রপাতের পূর্বাভাস দিতে এ রাজ্যে ডিটেক্টরের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মৃত্যুঞ্জয়বাবু। এই মুহূর্তে দেশে ১২০টি ডিটেক্টর বসানো আছে। এগুলির আওতাধীন এলাকায় চলতি বছরে যত বজ্রপাত হয়েছে, তার ৮৬ শতাংশ ক্ষেত্রেই পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতে ১০০ শতাংশ ক্ষেত্রেই পূর্বাভাস দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানান আইএমডি’র ডিজি। বাংলা ও সিকিমে এই ডিটেক্টরের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। তাঁর কথায়, ‘২০১৯ সালের আগে আমরা বজ্রপাতের পূর্বাভাস দিতে পারতাম না। গত ক’বছরে প্রযুক্তি ও পরিকাঠামো উন্নত করে অনেকটা সাফল্য পাওয়া গিয়েছে। আমরা ১০০ শতাংশ সাফল্য পেতে চাইছি। সিকিমে বারবার প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে বড়সড় ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। তাই সিকিমের বিপদসঙ্কুল এলাকায় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পূর্বাভাস দিতে পরিকাঠামো উন্নয়ন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।



