নয়াদিল্লি: রেজিস্টার্ড রাজনৈতিক দল। অর্থাৎ, নাম রয়েছে নির্বাচন কমিশনের খাতায়। কিন্তু সেই নাম ক’জন জানে, সেটাই বড় প্রশ্ন। গুজরাতে এমনই ১০টি বেনামি রাজনৈতিক দলের ক্যাশবাক্সে চার বছরে ঢুকেছে ৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকার বিশাল অনুদান! কিন্তু কোথা থেকে এল এত টাকা? গেলই বা কোথায়? তৈরি হয়েছে রহস্য। কারণ, তাদের দেওয়া হিসেবে ব্যাপক গরমিল ধরা পড়েছে। একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুজরাতে ২০১৯-২০ থেকে ২০২৩-২৪ সালের মধ্যে অপরিচিত ১০টি রেজিস্টার্ড দল মোট ৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকা অনুদান পেয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ২০১৯ ও ২০২৪ সালের লোকসভা ভোট এবং ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে। এই তিনটি ভোটে ওই দলগুলি মোট ৪৩টি প্রার্থী দিয়েছে। তাদের মোট প্রাপ্ত ভোট ৫৪ হাজার ৬৯। এই প্রার্থীদের নির্বাচনী রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, খরচ হয়েছে মাত্র ৩৯.০২ লক্ষ টাকা। অথচ, দলগুলির অডিট রিপোর্টে খরচ দেখানো হয়েছে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
আর এই প্রতিবেদন নিয়েই বুধবার নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন রাহুল গান্ধী। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে লোকসভার বিরোধী দলনেতার প্রশ্ন, এই হাজার হাজার কোটি টাকা কোথা থেকে এসেছে? কারা এই দলগুলিকে চালাচ্ছে? এই অনুদানের টাকা কোথায় গেল? কমিশন কি তদন্ত করবে? নাকি হলফনামা চাইবে? যদিও এবিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও সামনে আসেনি। রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ১০টি দলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অনুদান পেয়েছে লোকশাহি সত্তা পার্টি (১ হাজার ৪৫ কোটি টাকা)। এই দলগুলির তালিকায় থাকা নিউ ইন্ডিয়া ইউনাইটেড পার্টির প্রাপ্ত অনুদান ৪০৭ কোটি টাকা। তাদের সর্বভারতীয় প্রধান অমিত চতুর্বেদীর সাফাই, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের কাছ থেকে সবটা জানতে হবে। নির্বাচনী খরচ সংক্রান্ত স্টেটমেন্ট আপলোড করা হয়েছিল। কিন্তু ছোট দল হওয়ার কারণে ১৫ দিনের মধ্যে তা সরিয়ে দেওয়া হয়। প্রায় একই সুরে কথা বলেছেন ৪১৬ কোটি টাকা অনুদান পাওয়া সত্যবাদী রক্ষক পার্টির কার্যনির্বাহী প্রধান বীরেন প্যাটেলও।