ভুবনেশ্বর: এবার ওড়িশাতেও ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ। বিরোধী দল কংগ্রেস এমনই অভিযোগে সোচ্চার হয়েছে। গত বছর ওড়িশায় লোকসভার সঙ্গেই বিধানসভা নির্বাচন হয়েছিল। সেখানে ব্যাপক বেনিয়ম হয়েছে বলে দাবি প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ভক্তচরণ দাসের। শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, ওই নির্বাচনে ভোটদানের শেষ সময়সীমা বিকাল পাঁচটার পর ব্যাপক ভোট পড়েছে। কমিশনের তথ্য থেকেই জানা গিয়েছে, বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে ৪২ লক্ষ ভোট পড়েছে। এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে ভক্তের প্রশ্ন, সন্ধ্যায় সময় এত বিপুল ভোট পড়ল কীভাবে?
এরপরই নবীন পট্টনায়েকের বিজেডির প্রাপ্ত আসন সংখ্যার উল্লেখ করেছেন তিনি। ভক্তচরণ বলেছেন, বিধানসভা ভোটে বিজেডি ৫১টি আসন পেয়েছে। কিন্তু, রাজ্যে লোকসভার একটি আসনেও জিততে পারেনি তারা। কোনও কোনও লোকসভা কেন্দ্রে চারটি পাঁচটি আসনে জিতেছে বিজেডি। তারপরও ওই লোকসভা আসনে তাদের হারতে হয়েছে। উল্লেখ্য, বিগত লোকসভায় ওড়িশা থেকে শুধুমাত্র কোরাপুট আসনটি জিতেছিল হাত শিবির। বাকি সবকটিতেই এবং বিধানসভাতেও জয়ী হয় বিজেপি। এদিন ভক্ত আরও বলেন, ‘ভোট প্রক্রিয়ায় কারচুপি প্রকাশ্যে আনার জন্য লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে ধন্যবাদ। ওড়িশাতেও ভোটচুরি হয়েছে। এই নিয়ে সোমবার প্রতিটি জেলায় সাংবাদিক বৈঠক করা হবে দলের তরফে। সাধারণ মানুষকে জানানো হবে, কীভাবে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনতে ভোটারদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে নির্বাচন কমিশন।’
যদিও ভোটে কারচুপির অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে গেরুয়া শিবির। এদিন বিজেপি নেতা জয়নারায়ণ মিশ্র জানিয়েছেন, কংগ্রেস মানুষকে ভুল তথ্য দিচ্ছে। ওদের কাছে সঠিক প্রমাণ ও নথি থাকলে, কমিশন বা আদালতে যাক। উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে লোকসভা নির্বাচনে ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তোলেন রাহুল। কর্ণাটকের একটি বিধানসভা আসনে ভোটার লিস্ট ধরে ধরে অসংখ্য অনিয়মের পর্দাফাঁস করেন তিনি। রাহুলের ওই সাংবাদিক বৈঠকের পইে দেশজুড়ে হইচই পড়ে গিয়েছে। এই আবহে ওড়িশায় ভোটে কারচুপি নিয়ে কমিশনকে কাঠগড়ায় তুলল কংগ্রেস।