নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: প্রাথমিকের শিক্ষা ব্যবস্থাকে চাঙ্গা করতে একসময়ে বীরভূম জেলার পাঁচটি স্কুলে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা শুরু হয়েছিল। ঢাকঢোল পিটিয়ে শুরু হলেও বর্তমানে রাজ্যের সেই উদ্যোগ মুখ থুবড়ে পড়েছে। জেলার একটি মাত্র প্রাথমিক স্কুলে মাত্র তিনজন পড়ুয়া নিয়ে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা চলছে। বাকি চারটি স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা শূন্য। বলাই বাহুল্য যে, রাজ্যের এই উদ্যোগ এখন সমালোচনার মুখে। শিক্ষক মহলের একাংশের দাবি, পরিকাঠামোগত সমস্যা সহ ইংরেজি মাধ্যমের জন্য উপযুক্ত শিক্ষকের অভাবেই এই উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে। শিক্ষকদের একটা বড় অংশ অবশ্য প্রকাশ্যে মুখ খুলতে রাজি নন। তবে তাঁদের দাবি, সঠিক পরিকল্পনার অভাবেই এই ব্যর্থতা। তাঁদের কথায়, ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা চালাতে সর্বপ্রথম প্রয়োজন দক্ষ শিক্ষক। দ্বিতীয় ধাপে দরকার, প্রাথমিক শিক্ষার পর উচ্চশিক্ষার জন্য পর্যাপ্ত ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল। যা গড়ে ওঠেনি। সীমিত সাধ্যের মধ্যেও ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষার ব্যবস্থা করতে উদ্যোগী হয়েছিল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ কর্তৃপক্ষ। সংসদের চেয়ারম্যান প্রলয় নায়েক বলেন, ইংরেজি মাধ্যমে পড়ুয়া ভর্তি করাতে শিক্ষকরা বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। অভিভাবকদেরও সচেতন করার চেষ্টা হচ্ছে। আশা করছি দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে। আবারও ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলি ঘুড়ে দাঁড়াবে।
রাজ্যজুড়ে এখন ইংরেজি মাধ্যম বেসরকারি স্কুলগুলির দাপট। ফলে সরকারি প্রাথমিক স্কুলগুলিতে পড়ুয়ার সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমছে। এই পরিস্থিতিতে বীরভূম জেলার প্রাথমিক স্কুলগুলির হাল ফেরাতে বছর পাঁচেক আগে পাঁচটি স্কুলে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা শুরু করা হয়েছিল। প্রথমদিকে প্রতিটি স্কুলেই পড়ুয়ার সংখ্যা ছিল নজরকাড়া। কিন্তু পরিকাঠামোগত সমস্যা থেকে শুরু করে শিক্ষকের অপ্রতুলতার জেরে পড়ুয়ার সংখ্যা কমতে শুরু করে। বহুক্ষেত্রেই অভিভাবকরা তাঁদের সন্তানদের অন্যত্র ভর্তি করেন। কেউ কেউ আবার ইংরেজি মাধ্যম থেকে ছাড়িয়ে বাংলা মাধ্যমে বদলি করিয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই জেলার পাঁচটি স্কুলের হাল বেহাল হতে থাকে। বর্তমান সময়ে একমাত্র বোলপুর ওয়েস্ট সার্কেলের সুরুল জুনিয়র বেসিক স্কুলে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা চলছে। তবে আশ্চর্যজনকভাবে স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা মাত্র ৩। তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে একজন করে পড়ুয়া রয়েছে। যদিও বোলপুর ইনটেনসিভ, মহম্মদবাজার, নলহাটি ওয়েস্ট ও সদর ইস্ট সার্কেলের স্কুলগুলিতে পড়ুয়া নেই। কোনও স্কুল এবছর পড়ুয়াশূন্য হয়েছে। আবার কোনও স্কুল ২০২৪ সাল থেকেই পড়ুয়াশূন্য। ঘটনায় শিক্ষকরাও হতাশ।
কিন্তু সরকারি ইংরেজি মাধ্যম প্রাথমিক স্কুলগুলি পড়ুয়াশূন্য হলেও বেসরকারি স্কুলগুলি রমরমিয়ে চলছে। সেখানে ঠাঁই নেই রব। সুরুল জুনিয়র বেসিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক আনন্দ বাগদি বলেন, আমাদের স্কুলেও ধীরে ধীরে পড়ুয়া সংখ্যা কমছে। বর্তমানে হাতেগোনা পড়ুয়া রয়েছে। পড়ুয়াদের ইংরেজি মাধ্যমের পাঠ দেওয়ার জন্য দক্ষ শিক্ষকের অভাব রয়েছে। যথেষ্ট পরিকাঠামোরও অভাব। -নিজস্ব চিত্র