নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদ জেলায় এক একটি স্কুলে অর্ধেকের বেশি শিক্ষক শিক্ষিকার চাকরি চলে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন প্রধান শিক্ষকরা। কীভাবে স্কুল পরিচালনা করা হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বেশ কিছু বিদ্যালয়ে অঙ্ক, ইংরেজি ও বিজ্ঞান বিষয়ের সকল শিক্ষকের চাকরি বাতিল হয়ে গিয়েছে। তাঁরা স্কুলে আসা বন্ধ করলে স্বাভাবিক পঠনপাঠন চালানো বন্ধ হবে। রুটিন মাফিক ক্লাস কীভাবে হবে, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন স্কুল কর্তৃপক্ষ।
ফরাক্কার অর্জুনপুর হাইস্কুলের ৩৬জন শিক্ষকের চাকরি বাতিল হয়েছে। বিদ্যালয়ের মোট ৬৭জন শিক্ষক শিক্ষিকা রয়েছেন। সাতজন প্যারাটিচারও আছেন। একসঙ্গে এতজন শিক্ষক শিক্ষিকার চাকরি বাতিল হওয়ায় স্কুলের পঠনপাঠন নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। এই বিদ্যালয়ে পড়ুয়ার সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি। শিক্ষকের তুলনায় ছাত্র সংখ্যা বেশি থাকায় দু’টি শিফটে পড়াশোনা হয়। সেখানে এক ধাক্কায় অর্ধেকের বেশি শিক্ষকের চাকরি চলে যাওয়ায় বিপাকে বিদ্যালয়ের পরিচলন সমিতিও।
স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মহম্মদ সোহরাব আলি বলেন, বর্তমানে স্কুলের ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। দু’টি শিফটে স্কুল পরিচালনা করতে হয়। এখন কীভাবে স্কুল চালাব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছি। ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, শিক্ষক ও এলাকার শিক্ষানুরাগী সকলকে নিয়ে বসব। এবিষয়ে আলোচনা করব।
অর্জুনপুর হাইস্কুলের চাকরি হারানো ইতিহাস বিষয়ের শিক্ষক নুর মহম্মদ শেখ বলেন, আগামীতে কী করব এবিষয়ে এখনও কিছু ভাবিনি। শিক্ষক সংগঠনের নেতারা যা করবেন, তাই হবে। আবার চাকরির জন্য প্রস্তুতি নেব, নাকি কী করব, এবিষয়ে পরে ভাবব। এখন কথা বলার মতো মানসিক পরিস্থিতিতে আমি নেই।
ভগবানগোলা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী মিলিয়ে মোট ৬২ জন চাকরি করেন। যার মধ্যে শিক্ষক শিক্ষিকা ছিলেন ৫৬ জন। এদিন চাকরি হারিয়েছেন স্কুলের ২১ জন শিক্ষিকা। প্রধান শিক্ষিকা দীপান্বিতা রায় বলেন, এখনও সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি। ২০১৬ সালের প্যানেলে ২১ জনের নাম ছিল। ২১ জনের চাকরি গেলে স্কুল চালানোর ক্ষেত্রে খুবই সমস্যায় পড়ে যাব।
ভগবানগোলা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা অঙ্কিতা চক্রবর্তী বলেন, কোনও দুর্নীতিতে আমাদের নাম নেই। তাও চাকরি হারালাম। জানি না আগামী ভবিষ্যৎ কী। খুব অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছি।
বহরমপুরের খাগড়া জিটিআইয়ের সাতজন শিক্ষক শিক্ষিকা চাকরি হারিয়েছেন। ইসলামপুরের পাহাড়পুর ইউনিয়ন স্কুলের ১২ জন শিক্ষক চাকরি হারিয়েছেন। বেলডাঙা কুমারপুর বিএনএম স্কুলের ৩৫জন শিক্ষক শিক্ষিকার মধ্যে চাকরি গেল ১৩জনের। পাশাপাশি লালগোলার লস্করপুর হাই স্কুলের আটজন শিক্ষক শিক্ষিকা চাকরি হারিয়েছেন। বহরমপুর ব্লকের সালুয়াডাঙা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছ’জন শিক্ষক শিক্ষিকার চাকরি বাতিল হয়েছে। এই সমস্ত স্কুলে কার্যত পড়াশোনা লাটে ওঠার জোগাড়। স্কুল কর্তৃপক্ষ কার্যত অথৈ জলে পড়েছে।