নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: বাল্যবিবাহ রোধে বীরভূম জেলা প্রশাসন একাধিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করছে। যদিও তারই মাঝে চুপিসারে শহর থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চলে আকছার বাল্যবিবাহ হয়ে চলেছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মাত্র তিনমাসে জেলাজুড়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার নাবালিকা গর্ভবতী হয়েছে। অন্যদিকে, তিন মাসে মাত্র ১৯০টি বাল্যবিবাহ রোধ করা সম্ভব হয়েছে। জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্যই বলছে, জেলাজুড়ে বাল্যবিবাহে ভাটা পড়েনি। প্রশাসনিক কর্তাদের দাবি, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাল্যবিবাহের খবর এসে পৌঁছচ্ছে না। প্রশাসনের কর্তারা যা নিয়ে উদ্বিগ্ন। প্রশাসনিক কর্তাদের দাবি, বাল্যবিবাহ রুখতে একাধিক কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। পঞ্চায়েত স্তর থেকে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার কাজ চলছে৷ জেলা শিশু সুরক্ষা আধিকারিক নিরুপম সিনহা বলেন, বিষয়টি যথেষ্টই চিন্তার। তবে বাল্যবিবাহ রুখতে জেলাজুড়ে নিয়মিত প্রচার চালানো হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহের খবর এসে পৌঁছলেও অধিকাংশ খবরই পাওয়া যাচ্ছে না। তাই আমরা সচেতনতা বৃদ্ধিতে আরও জোর দিতে শুরু করেছি। জেলাশাসকের নির্দেশে নির্দিষ্ট রোড ম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। সেই রোড ম্যাপ অনুসারেই বাল্যবিবাহ রোধে প্রচার চালানো হচ্ছে। তার সুফলও মিলতে শুরু করেছে৷
বাল্যবিবাহ রোধ জেলা প্রশাসনের কর্তাদের কাছে সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্কুল ভিত্তিক প্রচার চালানোর পাশাপাশি নাটকের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা তোলার কাজ জারি রয়েছে। যদিও প্রশাসনিক নজরদারির মাঝেই চুপিসারে জেলাজুড়ে অহরহ বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটে চলেছে। জেলা প্রশাসনের তরফে পাওয়া তথ্য অনুসারে জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত সময়ে মোট ৩ হাজার ৪৪৩ জন নাবালিকা গর্ভবতী হয়েছে। অর্থাৎ প্রশাসনের নজর এড়িয়ে বিভিন্ন সময়ে এই বিপুল সংখ্যক নাবালিকার বিয়ে হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুসারে, এই তিন মাসে মাত্র ১৯০টি বাল্যবিবাহ রোধ করা সম্ভব হয়েছে।
প্রশাসনের তরফে জানা গিয়েছে, জেলার তিনটি মহকুমার মধ্যে রামপুরহাটে শেষ তিন মাসে সব থেকে বেশি নাবালিকা গর্ভবতী হয়েছে। জেলা প্রশাসনের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুসারে, শুধুমাত্র একটি মহকুমায় ১৮২৩ জন নাবালিকা গর্ভবতী হয়েছে। তারমধ্যে মুরারই-১ ও ২ ব্লকে সব থেকে বেশি নাবালিকা গর্ভবতী হয়েছে। মুরারই-২ ব্লকে গর্ভবতী নাবালিকার সংখ্যা ৩২০। অন্যদিকে, মুরারই-১ ব্লকে সেই সংখ্যা ৩১৬। অন্যদিকে, জেলার সিউড়ি মহকুমায় শেষ তিন মাসে প্রায় ৮৭০ জন নাবালিকা গর্ভবতী হয়েছে। বোলপুর মহকুমায় সেই সংখ্যা ৭৫০। ঘটনায় জেলা প্রশাসনের কর্তাদের দাবি, সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হলেও বাল্যবিবাহের ঘটনা এখনও ঘটেই চলেছে। যা জেলা প্রশাসনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।