নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: একজনের অ্যাকাউন্ট থেকে অন্যজন প্রায় ৩৩লক্ষ টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ ঘিরে সরগরম তমলুক হেড পোস্ট অফিস। সোমবার পোস্ট অফিসের মধ্যেই এনিয়ে তুমুল মারামারি হয়। ঘটনায় তমলুক ডিভিশনের পোস্টাল সুপারের কাছে এবং তমলুক থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পরই অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দিয়েছে পোস্টাল কর্তৃপক্ষ। একজন পোস্টাল ইন্সপেক্টরকে গোটা ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তমলুক থানার পুলিস গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। মঙ্গলবার পুলিস ওই ঘটনার তদন্তে গিয়ে হেড পোস্টঅফিসের পোস্টমাস্টার অমিয় দাসের সঙ্গে কথা বলেছে।
তমলুক ডিভিশনের পোস্টাল সুপার অসিতকুমার মহান্তি বলেন, আমরা একটা অভিযোগ পেয়েছি। আপাতত ওই অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। সেইসঙ্গে একজন পোস্টাল ইন্সপেক্টর গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন।
হলদিয়া ভবানীপুর থানার দক্ষিণচক গ্রামের অনন্তকুমার বাগ একজন রেশন ডিলার ছিলেন। পাশাপাশি তিনি পোস্টঅফিসে চাকরি করতেন। মহিষাদল থানার লক্ষ্যা পোস্টঅফিসে তাঁর এবং ছেলে সুব্রত বাগের ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট করা ছিল। ২০২২সালে অনন্তবাবু মারা যান। তাঁর ছেলে সুব্রতবাবু মানসিক রোগী(বাইপোলার ডিসঅর্ডার)। স্বামীকে ভুল বুঝিয়ে তাঁর দিদি এবং জামাইবাবু দফায় দফায় ৩৩লক্ষ টাকা তুলে নিয়েছেন বলে সুব্রতবাবুর স্ত্রী শাশ্বতী মাইতি বাগ পোস্টাল সুপারের কাছে অভিযোগ করেছেন। শাশ্বতীদেবী বলেন, আমার শ্বশুরের নামে এলআইসি সহ আরও অন্যান্য বিমার নমিনি ছিলেন আমার শাশুড়ি এবং স্বামী। আমার ননদ এবং নন্দাই গোপনে নমিনি বদল করেছেন। মহিষাদলের লক্ষ্যা পোস্ট অফিস থেকে গোপনে অ্যাকাউন্ট তমলুক হেড পোস্ট অফিসে সরানো হয়েছে। সেখান থেকে দফায় দফায় ৩৩লক্ষ টাকা তোলা হয়েছে। সোমবার আমি জানতে পেরে তমলুক হেড পোস্ট অফিসে যাই। সেসময় আমার নন্দাইও ছিলেন। আমার অভিযোগের ভিত্তিতে পোস্টাল বিভাগ অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দিয়েছে। সেই রাগে আমার নন্দাই পোস্ট অফিসের মধ্যে আমাকে বেদম মারধর করে। শরীরে নখের আঁচড় বসিয়ে দিয়েছে। তাতে রক্ত বের হয়। তড়িঘড়ি পোস্ট অফিসের কর্মীরা আমাকে তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। আমার স্বামীর অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে তাঁকে ভুল বুঝিয়ে সঞ্চিত টাকা লোপাট করা হয়েছে। আমাদের একটি ছেলে রয়েছে। আমার পরিবারকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আমার স্বামীর নামে ১২২ডেসিমল জমিও বেহাত হয়ে গিয়েছে। এই মুহূর্তে আমাদের বাস্তুচ্যুত করার চেষ্টা চলছে।
শাশ্বতীদেবীর ননদ অচর্না বাগ ধাড়া বলেন, বাবা আমার নামে বিমা এবং সেভিংসে নমিনি করে গিয়েছেন। সেই টাকা তোলার ঘটনা ঘটেছে। আমার ভাইয়ের স্ত্রী মিথ্যা অভিযোগ এনে আমাদের প্রাপ্য টাকা থেকে বঞ্চিত করতে চাইছেন।
তমলুক হেড পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার অমিয়বাবু বলেন, শাশ্বতী মাইতি বাগের স্বামী বাইপোলার ডিসঅর্ডার সমস্যায় ভুগছেন। তাঁর অ্যাকাউন্ট নিয়েই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ আসার পরই অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়া হয়েছে। আপাতত লেনদেন বন্ধ। তমলুক পোস্টাল ডিভিশন এই ঘটনার তদন্ত করছে। পোস্ট অফিসে মারপিটের ঘটনায় পুলিস তদন্ত করতে এসেছিল। আমি সেসময় অফিসের ভিতরে ছিলাম। মারামারির ঘটনা ঘটেছে শুনেছি। তমলুক থানার আইসি সুভাষচন্দ্র ঘোষ বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। সেইমতো তদন্ত শুরু হয়েছে।