Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নিমকাঠ দিয়ে তৈরি ৩০ ফুটের রথ উদয়নারায়ণপুরের জমিদার বাড়িতে

খুব সম্ভবত ১৭৬৮ খ্রীস্টাব্দ। উদয়নারায়ণপুরের তৎকালীন জমিদার ঈশানচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কাঠের গুঁড়ির স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন।

নিমকাঠ দিয়ে তৈরি ৩০ ফুটের রথ উদয়নারায়ণপুরের জমিদার বাড়িতে
  • ২৭ জুন, ২০২৫ ০৪:০০

সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: খুব সম্ভবত ১৭৬৮ খ্রীস্টাব্দ। উদয়নারায়ণপুরের তৎকালীন জমিদার ঈশানচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কাঠের গুঁড়ির স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন। পারিষদদের সঙ্গে নিয়ে দামোদরে প্রাত্যহিক স্নান করতে গিয়ে নদীতে ডুব দিতেই পায়ে ঠেকেছিল কাঠের গুঁড়ি। পরে ওই কাঠের গুঁড়ি উদ্ধার করা হয় এবং স্বপ্নাদেশ অনুসারে সেই কাঠ দিয়েই তৈরি হয়েছিল রথ। সেই থেকেই উদয়নারায়ণপুরে রথযাত্রার শুরু।

Advertisement

পুরীর রথযাত্রার নিয়ম ও নির্ঘণ্ট  অনুসরণ করে টান পড়ে রথের দড়িতে। অতীতে খোল, করতাল, শাঁখ, কাঁসর বাজিয়ে নগর কীর্তনের মধ্যে দিয়ে সকালে রথের দড়িতে তিন টান পড়ত। বিকেলে আট থেকে আশি সকলের হাতের ছোঁয়ায় গড়গড়িয়ে চলত রথ। একটা সময় এই রথ উদয়নারায়ণপুরের রথতলা থেকে দেবকালী পর্যন্ত যেত। পরে এই যাত্রাপথ সংক্ষিপ্ত করে নিয়ে যাওয়া হতো শিবপুরের ছড়িপাড়া পর্যন্ত। একটা সময় পশ্চিমবঙ্গে জমিদারি প্রথা বিলোপ হওয়ার পর চট্টোপাধ্যায় পরিবার প্রভু জগন্নাথদেবকে উদয়নারায়ণপুর থেকে শিয়ালদহের বৈঠকখানা বাজারে নিয়ে চলে যায়। নিত্য পুজো হতো সেখানে। তবে রথযাত্রার আগে প্রভু জগন্নাথ ও নারায়ণ শিলাকে তৎকালীন মার্টিন রেলে করে হাওড়া-চাঁপাডাঙা শাখার জাঙ্গিপাড়া স্টেশনে নিয়ে আসা হতো। সেখান থেকে পালকিতে চাপিয়ে নিয়ে আসা হতো উদয়নারায়ণপুরের জমিদার বাড়িতে।
১৯৭১ সালে মার্টিন রেল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এই যাত্রাপথের ছন্দপতন হয়। বর্তমানে জমিদার বাড়ির দায়িত্বে থাকা রামকৃষ্ণ সারদা মাতৃসঙ্ঘ এই রথযাত্রার আয়োজন করে চলেছে। সম্পাদিকা শুক্লা সাঁতরা সহ সহযোগীরা বলেন, রথযাত্রার দিন প্রভু জগন্নাথ কোলে চেপে রথে পৌঁছন। পরে পালকিতে চেপেই প্রভু জমিদার বাড়িতে ফেরেন। জমিদার বাড়িতে ৯ দিন জগৎপতি প্রভুকে সকাল-সন্ধ্যায় ভোগ দেওয়া হয়। আগে রথের দিন এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সাধারণ গ্রামবাসীদের খাওয়ানোর ব্যবস্থা থাকলেও বর্তমানে উল্টোরথে মাতৃসঙ্ঘ ভোগ প্রসাদ বিতরণ করে। অতীতে ৩৫ ফুট উচ্চতার রথ ছিল। সেটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর নতুন করে রথ নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে নিমকাঠের তৈরি রথটি ৩০ ফুট উঁচু, ২০ ফুট চওড়া এবং তার ন’টি চূড়া রয়েছে। রয়েছে ১২টি আড়াই ফুটের চাকা। তবে এতকিছু হলেও ২৫৭ বছরের ইতিহাসে কখনও রথের রশি টানা বন্ধ হয়নি। শুধু ২০২০ সালে কোভিড পর্বে রথ বের করা যায়নি। তবে পুজো সংক্রান্ত সমস্ত লোকাচার নিষ্ঠাভাবেই পালন হয়েছিল।

সম্পর্কিত সংবাদ