Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রামপুরহাট শাখায় ৩টি প্যাসেঞ্জার ট্রেনের কোচ বাড়ল, খুশি যাত্রীরা

অতিরিক্ত ভিড় সামাল দিতে রামপুরহাট রুটের তিনটি প্যাসেঞ্জার ট্রেনের কোচের সংখ্যা বাড়াল রেল।

রামপুরহাট শাখায় ৩টি প্যাসেঞ্জার ট্রেনের কোচ বাড়ল, খুশি যাত্রীরা
  • ১৮ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: অতিরিক্ত ভিড় সামাল দিতে রামপুরহাট রুটের তিনটি প্যাসেঞ্জার ট্রেনের কোচের সংখ্যা বাড়াল রেল। বুধবার প্রেস রিলিজ দিয়ে এমনটাই জানিয়েছে পূর্ব রেল। কিন্তু যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দাবি সত্ত্বে বর্ধমান-তিনপাহাড় লোকাল চলছে আটটি কোচ নিয়েই। এটি সকালের দিকে বর্ধমান থেকে রামপুরহাট আসার প্রথম ট্রেন হওয়ায় খেটে খাওয়া চাকরিজীবী মানুষ এটির উপরই নির্ভরশীল। এতে কোচের সংখ্যা কম হওয়ায় বাদুড়ঝোলা হয়েই যাতায়াত করতে হয় যাত্রীদের। স্বভাবতই ফের এই ট্রেনে কোচের সংখ্যা বাড়ানোর দাবিতে সরব হয়েছেন নিত্যযাত্রীরা। 

Advertisement

রেল থেকে জানানো হয়েছে, ৫৩৪০৬ সাহেবগঞ্জ–রামপুরহাট প্যাসেঞ্জার, ৫৩৪০৩ রামপুরহাট–গয়া প্যাসেঞ্জার ও ৫৩৪০৮ জামালপুর-রামপুরহাট প্যাসেঞ্জার ট্রেনের কোচের সংখ্যা স্থায়ীভাবে ১২ করা হল। অতিরিক্ত ভিড় সামাল দিতে এবং আরও আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে এই ট্রেনগুলিতে অতিরিক্ত সাধারণ দ্বিতীয় শ্রেণির কোচ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, সাহেবগঞ্জ–রামপুরহাট প্যাসেঞ্জার সন্ধ্যা ৭টা বেজে ২৫ মিনিটে সাহেবগঞ্জ ছেড়ে রাত সাড়ে এগারোটার সময় রামপুরহাট আসে।  রামপুরহাট–গয়া প্যাসেঞ্জার সকাল ৫টা বেজে ৪০ মিনিটে রামপুরহাট ছেড়ে যায়। অন্যদিকে দুপুর ২টো বেজে ৫ মিনিটে জামালপুর থেকে ছেড়ে রাত দশটা নাগাদ রামপুরহাটে আসে জামালপুর-রামপুরহাট এক্সপ্রেস। নিত্যদিন এই ট্রেনগুলিতে ব্যাপক ভিড় থাকে। এতদিন এই ট্রেনগুলি কোনওদিন আটটা, কোনওদিন ন’টা কোচ নিয়ে চলত। ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হতো যাত্রীদের। এবার এই ট্রেনগুলিতে স্থায়ীভাবে কোচের সংখ্যা বাড়িয়ে ১২ করা হল। রেলের এই সিদ্ধান্তে খুশি বর্ধমান-সাহেবগঞ্জ লুপ লাইনের যাত্রীরা। পাশাপাশি তাঁরা সকালের দিকে বর্ধমান থেকে রামপুরহাট আসার প্রথম ট্রেন বর্ধমান-তিনপাহাড় লোকালের কোচ বাড়ানোর দাবিতে সরব হয়েছেন। জানা গিয়েছে, আটটি কোচ নিয়ে চলে বর্ধমান-তিনপাহাড় মেমু। তার মধ্যে দু’টি মহিলাদের জন্য, বাকি ছ’টি সর্বসাধারণের জন্য। সকালের দিকে প্রথম লোকাল হওয়ায় মূলত অল্প দূরত্বের যাত্রীদের কাছে এই ট্রেন ‘লাইফলাইন’। কিন্তু এই ট্রেনে এতটাই ভিড় হয় যে অনেকে উঠতে পারেন না। উঠতে গিয়ে অনেকে পড়ে যান। এই অবস্থায় সকালের দিকে বর্ধমান থেকে রামপুরহাট ও মুরারই পর্যন্ত লোকাল ট্রেন চালানো বা তিনপাহাড়ের কোচের সংখ্যা বাড়ানোর দাবিতে অনেকদিন থেকে সরব যাত্রীরা। এই অবস্থায় তিনটি প্যাসেঞ্জার ট্রেনের কোচের সংখ্যা বাড়ানোয় এই দাবি আরও জোরালো হতে শুরু করেছে।
মুরারই যাত্রী সঙ্ঘের পক্ষে জগন্নাথ সেবাদত্ত বলেন, তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্যাসেঞ্জার ট্রেনের কোচের সংখ্যা বাড়ানোয় রেলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। কিন্তু জ্বলন্ত সমস্যা তিনপাহাড়-বর্ধমান মেমু। এতই ভিড় হয় যে মানুষ উঠতে পারে না। এই ট্রেনে সরকারি, বেসরকারি চাকুরজীবীরা ছাড়াও শ্রমিক, মেহেনতি মানুষরা যাতায়াত করেন। তাই এই ট্রেনটির বগির সংখ্যা দ্বিগুণ করা হোক।  
অন্যদিকে রামপুরহাট নিত্যযাত্রীদের পক্ষে অনিল বোথরাও বলেন, বধর্মান–মালদা টাউন ট্রেন করোনার সময় থেকেই বন্ধ। এখন সকালের দিকে বর্ধমান থেকে রামপুরহাট আসার একটিই ট্রেন— তিনপাহাড় লোকাল। ফলে এই ট্রেনের উপর চাপ বেড়ে গিয়েছে। পা রাখার জায়গা থাকে না। তাই তিনপাহাড় লোকালের বগির সংখ্যা বাড়ালে যাত্রীদের সুবিধে হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ