নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের সমস্ত মেডিকেল কলেজের বাৎসরিক পারফরম্যান্স খতিয়ে দেখতে ২৬ ডিসেম্বর বৈঠকে বসতে চলেছেন শীর্ষ স্বাস্থ্যকর্তারা। সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রথম ভার্চুয়ালি নয়, মেডিকেল কলেজের কর্তাদের সশরীরে উপস্থিত থাকতে হবে বৈঠকে। ২৫টি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ এবং এমএসভিপিকে আসতে বলা হয়েছে। আসন বৃদ্ধি, রোগী পরিষেবা, পঠনপাঠন, গবেষণা থেকে শুরু করে কোথায় কী খামতি—সমস্ত বিষয় নিয়েই আলোচনা হতে পারে বৈঠকে।
সম্প্রতি মেডিকেল শিক্ষার শীর্ষ সংস্থা ‘ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশন’ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, দেশজুড়ে ইউজি এবং পিজি মেডিকেল আসন ধাপে ধাপে সমান করা হবে। সেই মতো ২৬শের বৈঠকে প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে পারে মেডিকেলে আসন বৃদ্ধি। কোন কোন স্নাতকোত্তর বিভাগে আসন বাড়ানো যেতে পারে, ইতিমধ্যে তার তালিকা মেডিকেল কলেজগুলির কাছে চেয়ে পাঠিয়েছে স্বাস্থ্যভবন। বর্ধমান, উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ সহ কয়েকটি পুরোনো মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস আসন বৃদ্ধি করে ২৫০ করার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি এই প্রশ্নও উঠেছে, আসন খুব বেশি বাড়িয়ে আদৌ কতটা লাভ? চিকিৎসকদের চাহিদার তুলনায় জোগান বেড়ে গিয়েছে বলেও মনে করছেন অনেকে। পাশ করে বেরোনোর পর নব্য চিকিৎসকরা সবাই চাকরি পাবেন তো? কালক্রমে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো অবস্থা ডাক্তারিতেও হতে পারে—প্রমাদ গুনতে শুরু করেছেন অভিভাবকরা।
সূত্রের খবর, শিশুমৃত্যুর হার নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলেও গত কয়েক বছর ধরে রাজ্যকে উদ্বেগে রেখেছে মাতৃমৃত্যু। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক (যাঁর অধীনে প্রসূতি ভর্তি ছিলেন), স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিদ্যার বিভাগীয় প্রধান, এমনকি হাসপাতালের সুপার-অধ্যক্ষকে তলব করেও পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজে সাম্প্রতিক প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনা থেকে একাধিক চিন্তার বিষয় উঠে এলেও সেগুলি পুরোপুরি দূর করা যায়নি। ‘কি পারফরমেন্স ইন্ডিকেটর’ বা কেপিআই, শিক্ষকদের হাজিরা, কলেজের বিভিন্ন বিভাগে লোকবলের অসাম্য ইত্যাদি বিষয়ও উঠে আসতে পারে আলোচনায়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সংশ্লিষ্ট সবাইকে বলে দেওয়া হয়েছে, এই বৈঠকে অফলাইনে যোগ দিতে হবে। স্বাস্থ্য দপ্তরের বহু বৈঠকে আসতে না পারলে কর্তাদের ভার্চুয়ালি যোগ দেওয়ার সুযোগ থাকে। ২৬শের বৈঠকে সেরকম কোনও বিকল্প থাকবে না। এমনটাই জানিয়েছেন স্বাস্থ্যভবনের এক পদস্থ কর্তা।