Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ফাইল কিনতে ২৫ হাজার! নির্দল প্রধানের দুর্নীতিতে সরব তৃণমূল

গোপীবল্লভপুর-২ ব্লকের খাড়বান্ধী গ্ৰাম পঞ্চায়েতে উন্নয়নের কাজ লাটে উঠেছে

ফাইল কিনতে ২৫ হাজার! নির্দল প্রধানের দুর্নীতিতে সরব তৃণমূল
  • ২৫ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: গোপীবল্লভপুর-২ ব্লকের খাড়বান্ধী গ্ৰাম পঞ্চায়েতে উন্নয়নের কাজ লাটে উঠেছে। পঞ্চায়েতের বিজেপি সমর্থিত প্রধান সীতা সরেনের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কাটমানি চাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন পঞ্চায়েত সদস্য থেকে ঠিকাদাররা। নিয়ম ভেঙে পঞ্চম ও পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা খরচ করার অভিযোগ উঠেছে। ব্লক প্রশাসন অভিযোগ পেয়ে তদন্ত করেছে। রিপোর্ট জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে। 

Advertisement

বিডিও নীলোৎপল চক্রবর্তী বলেন, বেশকিছু অভিযোগের তদন্ত আমি নিজে করেছি। তদন্ত রিপোর্ট জেলায় পাঠানো হয়েছে। আরও কিছু তদন্ত করা হবে। নিয়মবহির্ভূত কাজ যাতে না হয়, তারজন্য প্রধানকে বলা হয়েছে। তেইশ সালের পঞ্চায়েত ভোটে বিজিপি ও জয় গরাম জোট খাড়বান্ধী গ্ৰাম পঞ্চায়েত দখল করে। বিজেপি ৪টি ও জয় গরাম সংগঠন ৩টি আসন দখল করে। তৃণমূল পায় ৫টি আসন। প্রধান হন বিজেপির সীতা সরেন। বিজেপি জোট পরিচালিত পঞ্চায়েতে লাগামহীন দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ তুলেছেন, প্রধান কাজের জন্য কাটমানি চাইছেন। অভিযোগ পঞ্চম ও পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা নিয়ম বহির্ভূতভাবে ব্যয় করা হয়েছে। কভার ফাইল কেনার জন্য ২৫ হাজার ২১৬ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। পঞ্চায়েতে ডেটা এন্ট্রি কর্মী নেই। কিন্তু তাঁদের জন্য ৫৬ হাজার ৯০০ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। প্রিন্টিংয়ের জন্য ২৩ হাজার ৩০০ টাকা। 
পঞ্চায়েতের নির্মাণ সহায়ক সৌরভ গোস্বামী বলেন, নিয়মের বাইরে গিয়ে টিউবওয়েল সারানোর জন্য ৫৭ হাজার টাকা খরচ করা হয়েছে, যা আমাকে জানানো হয়নি। লাগামহীন দুর্নীতি নিয়ে তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যরা ব্লক ও জেলাশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য সঞ্জয় সিং বলেন, পঞ্চায়েত প্রধান নিয়ম মেনে কাজ করছেন না। ব্লক ও জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে। এলাকার মানুষ উন্নয়নের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। খাড়বান্ধী তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি বৈকুণ্ঠ শীট বলেন, আমাদের দাবি ব্লক ও জেলা প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করে দেখুক। ঠিকাদার শক্তিপদ মাহাত বলেন, পাতর পাড়ায় চব্বিশ সালের ডিসেম্বরে ১২০ মিটার ঢালাইয়ের রাস্তা করেছিলাম। পঁচিশ সালের ৯ জানুয়ারি বিলের টাকা দেওয়ার জন্য প্রধানকে বলি। নিম্নমানের রাস্তা হয়েছে বলে বিল আটকে দেওয়া হয়। লিখিতভাবে আমাকে অভিযোগ জানাতে বলি। তিনি তা করেননি। পঞ্চায়েত এলাকায় ১০ লাখ টাকার কাজ করেছি। প্রধান দুই শতাংশ হারে কাটমানি চেয়েছিলেন। তা না দেওয়ায় বিলের টাকা আটকে দেওয়া হয়েছ। বাধ্য হয়ে আমাদের মুখ খুলতে হয়েছে। 
ঝাড়গ্রাম জেলা বিজেপি সভাপতি তুফান মাহাত বলেন, বিজেপি জোট পরিচালিত পঞ্চায়েতে দুর্নীতি নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তা দলীয় তরফে খোঁজ নেওয়া হবে।
পঞ্চায়েত প্রধান সীতা সরেন বলেন, কাটমানি নেওয়ার যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা ঠিক নয়। পঞ্চম ও পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা খরচের বিষয়টি পঞ্চায়েতের এগজিকিউটিভ প্যানেল জানে। এই বিষয়ে আমি ভালো করে কিছু জানি না।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ