নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সেবাকে গুরুত্ব না দিয়ে শুধু মুনাফা অর্জন, কোনোভাবেই যেন না-হয়। —বেসরকারি হাসপাতালগুলির উদ্দেশে এই বার্তাটাই পৌঁছে দিল রাজ্য সরকার। বিধানসভায় বিল পাস করিয়ে সরকার পক্ষের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হল, বেসরকারি হাসপাতাল, নার্সিংহোমগুলি যেন সর্বাগ্রে রোগীর পরিষেবার দিকে নজর দেয়। সেখানে কোনোভাবেই যেন রোগীর চিকিৎসাজনিত খরচের বিল বৃদ্ধির কারসাজি না-থাকে। রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য উল্লেখ করেন, ২ লিটার জল খাইয়ে ২০ লিটার জলের বিল করা কিংবা ৫টি ওষুধ দিয়ে ৫ লক্ষ টাকার বিল করা চলবে না। জনসেবাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে।
মঙ্গলবার বিধানসভার অধিবেশনে পাস হয় দি ওয়েস্ট বেঙ্গল ক্লিনিক্যাল এস্টাবলিশমেন্ট অ্যামেন্ডমেন্ট বিল ২০২৫। তার আগে এই বিলের উপর আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় অংশ নেন তৃণমূল ও বিজেপি বিধায়করা। তৃণমূলের অতীন ঘোষ, খগেন্দ্রনাথ মাহাত, নির্মল মাজি, সুকান্ত পাল এবং বিজেপির তরফে বিরোধী দলনেতা ও অশোক লাহিড়িরা বক্তব্য রাখেন। এই বিলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, চিকিৎসাজনিত প্যাকেজের তালিকা প্রকাশ করতে হবে বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে। প্যাকেজের বাইরে কোনও টাকা নয়। এছাড়া রোগীর প্রতিদিনের বিলও পরিবারকে জানাতে হবে। ই-বিল এবং ই-প্রেসকিপশন থাকতে হবে। সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে হবে রোগীর সমস্ত চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি। রোগীর বিল সম্পর্কিত কোনও তথ্য গোপন করতে পারবে না বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলি।
বিলের উপর আলোচনায় রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, এই বিল ভারতের অন্যকোনও রাজ্যে নেই। বাংলার সরকার মানুষের পাশে থেকে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। প্রাইভেট সেক্টরগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করতে এই বিল। মানুষের উপর কোনোভাবেই যেন বেসরকারি হাসপাতালগুলি বোঝা না বাড়ায়। বিলের উপর স্বচ্ছতা থাকা জরুরি।
রাজ্য সরকারের আনা এই বিলকে সাধুবাদ জানিয়েছেন পূর্ব ভারতের হসপিটালস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রূপক বড়ুয়া। তাঁর বক্তব্য, প্রাইভেট হাসপাতাল নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ থাকে। সেক্ষেত্রে এই রাজ্য সরকারের আনা এই বিল সদর্থক প্রচেষ্টা। এতে রোগীর পরিবার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে গ্যাপ দূর হয়ে স্বচ্ছতা বাড়বে।
অন্যদিকে, এদিন বিধানসভার অধিবেশন কক্ষে এসি মেশিনে বিভ্রাট ঘটেছিল।