নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা, জলপাইগুড়ি ও সংবাদদাতা, নাগরাকাটা: বিপর্যস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু ও বিধায়ক শংকর ঘোষ। সেই ঘটনার ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল জলপাইগুড়ি জেলা পুলিশ। আরও একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তদন্ত এখনও চলছে। ইতিমধ্যেই স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী গোটা ঘটনার নিন্দা করেছেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নিতে বলেছেন পুলিশকে। হাসপাতালে গিয়ে দেখেও এসেছেন চিকিৎসাধীন বিজেপি সাংসদকে। তারপরেই এদিনের গ্রেফতারি। মুখ্যমন্ত্রী সাফ বক্তব্য, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে আমরা রাজনীতি করি না। কিন্তু সব তথ্য না জেনে যখন প্রধানমন্ত্রী ময়দানে নামেন, তখন দুঃখ লাগে।’ ইতিমধ্যে গোটা ঘটনা নিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে রিপোর্ট দিয়েছেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস।
এদিন জলপাইগুড়িতে ত্রাণ বিলি করতে এসে এই ইস্যুতে রীতিমতো হুঁশিয়ারি দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার— ‘নাগরাকাটার ঘটনায় সবাইকে একমাসের মধ্যে গ্রেফতার না করলে বিজেপি বুঝে নেবে। হিসেব বরাবর করে দেব আমরা।’ যদিও এদিন রাতেই জলপাইগুড়ি জেলা পুলিশ সুপার খণ্ডবাহালে উমেশ গণপত জানিয়ে দেন, নাগরাকাটার ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম গোবিন্দ শর্মা (৪২) এবং আকরামুল হক। দু’জনেরই বাড়ি নাগরাকাটার খয়েরবাড়ি এলাকার সুলকাপাড়ায়। জলগাঁও থানা এলাকার দলসিংপাড়ার ছেত্রী লাইন থেকে গোবিন্দকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে খবর। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, ধৃতদের একজনের স্ত্রী তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যা। তবে বিজেপি এমপি ঠিক কীভাবে রক্তাক্ত হলেন, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে।
বিপর্যয়ের পর বিজেপি নেতাদের উপর ক্ষোভে ফুঁসছিলেন নাগরাকাটার বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, এলাকায় ওঁদের দেখা মেলে না। বিজেপি এমপি, বিধায়ক অনেক পরে এলাকায় এসেছেন। তাও আবার ত্রাণ নয়, স্রেফ ফোটোশ্যুট করতে এসেছিলেন। এর জেরেই তাঁদের উপর ক্ষোভ উগরে দেন দুর্গতরা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এদিন গোটা ঘটনায় সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, ‘ওখানে বিজেপির নিজস্ব কিছু ব্যাপার ছিল না তো? কারণ ওই এলাকাটা বিজেপির। আর পুলিশকে আগাম কোনও খবর না দিয়ে বিজেপির এক একজন নেতা ৪০-৫০টি করে গাড়ি নিয়ে গিয়েছিলেন।’ মমতার আরও অভিযোগ, ভোটে জেতার পর বিজেপির জনপ্রতিনিধিরা এলাকায় যান না। ফলে এলাকার মানুষ ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।
বুধবার পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলায় একটি কারখানা উদ্বোধনে যাওয়ার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। আচমকাই সেই অনুষ্ঠান বাতিল হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে মেসেজ এসেছে, ওই সংস্থার শীর্ষ কর্তা অসুস্থ। সেই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমার মনে হয় এটা হাই লোডেড ভাইরাস কাজ করেছে। হুমকি দিয়েছে। এসআইআর হোক বা অন্য কিছু সবটাই অমিত শাহের খেলা। উনি অ্যাক্টিং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাজ করছেন। আমি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব, অমিত শাহকে বিশ্বাস করবেন না। একদিন উনি বড় মীরজাফর হয়ে যাবেন!’