Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হিমঘরগুলিতে মজুত ১২ লক্ষ বস্তা আলু, খুশি চাষি ও ব্যবসায়ী

ফলন যেমন বেশি, তেমনই সংরক্ষণ বাড়ছে আলুর। আলু চাষিরা ইতিমধ্যেই হিমঘরে রেকর্ড পরিমাণ আলু মজুত করেছেন।

হিমঘরগুলিতে মজুত ১২ লক্ষ বস্তা আলু, খুশি চাষি ও ব্যবসায়ী
  • ২১ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: ফলন যেমন বেশি, তেমনই সংরক্ষণ বাড়ছে আলুর। আলু চাষিরা ইতিমধ্যেই হিমঘরে রেকর্ড পরিমাণ আলু মজুত করেছেন। মুর্শিদাবাদ জেলার হিমঘরগুলিতে ১৩ লাখ বস্তা আলু মজুত করা যায়। এখনও পর্যন্ত আলু মজুত হয়েছে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ বস্তা। প্রতি বস্তায় ৫০ কেজি আলু আছে। অর্থাৎ হিমঘরের মোট জায়গার প্রায় ৯৪ শতাংশ জায়গা ভরে দিয়েছেন আলু চাষিরা। গতবারের মতো এ বছরেও রাজ্যের হিমঘরে যে ৮০ লক্ষ টনের মতো আলু মজুতের ব্যবস্থা আছে, তার ৩০ শতাংশ সংরক্ষিত রাখা হয় প্রান্তিক ও ছোট চাষিদের জন্য। সেই নিয়ম মেনেই  সারা রাজ্যে আলু ঢোকানো হয় হিমঘরে। এ যাবৎ রেকর্ড  উৎপাদন হওয়ায় বেশ খুশি ব্যবসায়ী থেকে এলাকার চাষিরা।

Advertisement

আলু ব্যবসায়ীরা বলেন, এবছর শীতে অনুকূল পরিবেশ থাকায় আলু চাষের ফলন অন্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি হয়েছে। যে কারণে হিমঘরে আলু মজুতের পরিমাণ প্রথম থেকেই অনেক বেশি। হিমঘরে আলু মজুত থাকার পরেও এখনও স্থানীয় বাজারগুলিতে চাষিদের ঘরে মজুত করে রাখা আলু বিকোচ্ছে। তাই বাজারে আলুর দামও অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আছে। মুর্শিদাবাদ জেলার মতো গোটা রাজ্যের ছবিটাও একই। 
আলু ব্যবসায়ী সমিতি সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যজুড়ে হিমঘরগুলিতে আলু মজুত করা যায় ১৫ কোটি ৯৭ লাখ ১২ হাজার বস্তা। সেখানে এবার আলু মজুত হয়েছে ১৪ কোটি ৮৩ লাখ ৯৮ হাজার ৯০০ বস্তা। উত্তরবঙ্গের হিমঘরে আলু মজুত করা যায় ২ কোটি ৭৮ লাখ ১০ হাজার ৮৮৪ বস্তা। সেখানে এবার প্রায় ২ কোটি ৮৬ লাখ বস্তা আলু মজুত করা হয়েছে। 
রাজ্যে নিয়মিত খাবার হিসাবে আলুর প্রয়োজন হয় ৯ কোটি বস্তা। যে পরিমাণ আলু মজুত হয়েছে, তাতে রাজ্যের প্রয়োজন মিটবে এবং ভিন্ রাজ্যের চাহিদাও পূরণ করা সম্ভব হবে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।
কৃষকরা জানিয়েছেন, জমি থেকে তোলার পর টানা রোদে পড়ে থাকলে পচে যেতে পারে আলু। এ বছর কোনও দুর্যোগ না থাকায় আলুর ফলন বেশ ভালো। তাই হিমঘর খোলার প্রথম কয়েকদিনের মধ্যেই আলু নিয়ে চাষিরা লাইন দিতে শুরু করেন। 
মুর্শিদাবাদ জেলার বাজারে মুলত আলু আসে কান্দি মহকুমার বড়ঞা থেকে। জেলার আলু উৎপাদনের অর্ধেক আলু এখানে উৎপাদিত হয়। এ ছাড়া ভরতপুরে ভালো পরিমাণ আলু হয়। সঙ্গে বর্ধমানের কালনা, বাঁকুড়ার জয়রামবাটী, হুগলির কামারপুকুর, এছাড়া উত্তরবঙ্গের ধূপগুড়ি থেকে আলু ঢোকে জেলায়। 
আলু ব্যবসায়ী রতন মণ্ডল বলেন, ‘আলু গতবারের তুলনায় ভালো উৎপাদন হয়েছে। যে আলু বর্তমানে কোন্ড স্টোরে রয়েছে, সেগুলি জুন মাস নাগাদ বাজারে আসবে। তখন দাম আরও কমতে পারে।’ 
কান্দির এক আলু কারবারি বলেন, শুধু বড়ঞাতেই ৬টা বড় কোল্ড স্টোরেজ রয়েছে। সেখানে আলু মজুত করা হয়েছে। জুন থেকে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী আস্তে আস্তে আলু বাজারে আসবে। তারপর আলুর দামের হেরফের হতে পারে। তার আগে নয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ