Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মাথাপিছু ১০ হাজার! বর্ষশেষের পার্টিতে দেদার খরচে রাজি শহর

বছর শেষ হতে হাতে মাত্র কয়েকটা দিন। শহরের তরুণ-তরুণীদের একাংশ এখন অসম্ভব ব্যস্ত। কারণ বছর শেষের পার্টি। তা সেলিব্রেশেন যেন এতটুকু খামতি না থাকে।

মাথাপিছু ১০ হাজার! বর্ষশেষের পার্টিতে দেদার খরচে রাজি শহর
  • ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বছর শেষ হতে হাতে মাত্র কয়েকটা দিন। শহরের তরুণ-তরুণীদের একাংশ এখন অসম্ভব ব্যস্ত। কারণ বছর শেষের পার্টি। তা সেলিব্রেশেন যেন এতটুকু খামতি না থাকে। ফলে সেরা জায়গার পাস কেনার দিকে নজর সবার। তৈরি হচ্ছে বন্ধুদের গ্রুপ। এসব করতে বিস্তর টাকা-পয়সার প্রয়োজন। তাই দু’হাতে খরচ করতে হবে। খুঁটে নিতে হবে বছর শেষের আনন্দ। এই আনন্দ খুঁটে নেওয়ার খরচ শুনলে মধ্যবিত্ত ছেলেমেয়েদের চোখ হয়ত উঠবে কপালে। তবে তা উঠলেও খাস কলকাতার দৃশ্য এখন ঠিক এইরকমই। যত ভালো ক্লাব, যত এসথেটিক জায়গা, তত বেশি দাম। সেখানে গিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ছবি দিতে পারলে তবেই উঁচু হবে কলার। ফলে নামজাদা ক্লাব, রিসর্ট ইত্যাদির হাই ডিমান্ড। সেখানে নিউইয়ার পার্টির এন্ট্রি ফি মোটামুটি ১০ হাজার টাকা। টাকার অংক চোখ কপালে তুললেও তা সত্যি।

Advertisement

অনেকে আবার চান বছরের শেষ দিনটি নিরিবিলিতে কাটাতে। সেই দলে আবার অনেকে থাকেন না। সেই এলিট শহরবাসীর পছন্দ লেজার লাইট, ডিজে, ডান্স ফ্লোর, খানাপিনা আর দেদার ড্রিংকস। শহরের এক ইভেন্ট ম্যানেজারের কথায়, ‘নিউইয়ার ইভের পার্টি শহরজুড়ে বিভিন্ন জায়গায় হয়। সবমিলিয়ে সেই সংখ্যা শ’খানেকের মতো। সাধারণত সোশ্যাল ক্লাব, কাফে, রিসর্ট, নাইট ক্লাবে এই ধরনের পার্টি হয়।’ আর খরচ? ইভেন্ট ম্যানেজার বললেন, ‘মোটামুটি ৫০০ টাকা থেকে শুরু। সর্বোচ্চ প্রায় ১০ হাজার টাকা। যদিও ১০ হাজারের মধ্যে কিছু খাওয়া-দাওয়া আর কমপ্লিমেন্টারি ড্রিংকসও থাকে।’ এত দামের পাসের চাহিদা থাকে? তিনি বলেন, ‘অবশ্যই থাকে। অনেকে ‘আর্লি বার্ড’ অর্থাত্ অনেক আগেই কিনে ফেলেন। ফলে খানিক কম টাকায় পেয়ে যান।’ মানুষের চাহিদা মেটাতে শহর ও শহরতলির হোটেল, নাইট ক্লাব, রিসর্টগুলির কর্মকর্তারা কিছুরই খামতি রাখেন না। দেশি-বিদেশি নামজাদা নৃত্যশিল্পী থেকে শুরু করে ডিজে মিলিয়ে ভিড় জমে যায় কলকাতায়। এখন থিম নির্ভর নিউইয়ার পার্টির ট্রেন্ডও শুরু হয়েছে। এ বছর আমেরিকার জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজ ‘ফ্রেন্ডস’ এর থিমের উপর একটি পার্টি হচ্ছে শহরে। ইদানীং গঙ্গাবক্ষে ক্রজের মধ্যেও পার্টি জনপ্রিয় হয়েছে।
আবার কলকাতার আশপাশে গিয়ে বিচ পার্টি করার চাহিদাও বেড়েছে কিছু সংখ্যক মানুষের মধ্যে। ফলে মৌসুনি দ্বীপ, মন্দারমণি ইত্যাদি জায়গার চাহিদাও কম নয়। কলকাতার জেন জি’দের নয়া পসন্দ বাড়ি ভাড়া করে কোজি টাইপের পার্টি করা। অনেকে ফাঁকা ফ্ল্যাট বা বাড়ি এক রাতের জন্য ভাড়ায় দেন। বন্ধু-বান্ধব মিলে সেরকম বাড়িতে পার্টি করে জেন জি’রা। এই পার্টির প্রস্তুতি শুরু হয় অনেকদিন আগে থেকে। পার্টিতে পরার জন্য মানানসই পোশাক, গয়না, জুতো কিনতেই হয় তরুণ-তরুণীদের। সবমিলিয়ে আধুনিক হতে থাকা শহর এখন সেলিব্রেশনে মেতে উঠতে তাল ঠুকছে। এর জন্য কোনও কার্পণ্য নয়। দেদার খরচের মরশুম শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে এসব দেখে শুধু অন্য একদলের চোখ কপালে ওঠে। তারা বলে, ‘এত টাকা খরচ করে পার্টি করা যায়?’ শহর বলছে, ‘যায় যে তা তো দেখাই যাচ্ছে।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ