নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: প্রায় ১০০ একর জমিতে কোনও ধান ফলেনি। এখন ঋণ নিয়ে ধান চাষ করে করে মাথায় হাত চাষিদের। সিউড়ি-১ ব্লকের কুতুরা, আড্ডা, চাঙ্গুরিয়া মৌজার বিস্তীর্ণ জমিতে বিক্ষিপ্তভাবে মাজরা পোকার আক্রমণ হয়েছে। এছাড়াও সার ও কীটনাশকের গুণমান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। যদিও কেউ কেউ দাবি করছেন, সময়মতো সেচের জল না পাওয়ার জন্যই এই সমস্যা হয়েছে। তবে সঠিক কী কারণে প্রায় ১০০ একর জমিত ধান নষ্ট হয়েছে তা অবশ্য স্পষ্ট নয়। এবিষয়ে জেলা কৃষি আধিকারিকদের দাবি, এমন কোনও খবর আমরা পায়নি।। তবে খোঁজ নিয়ে দেখা হবে সঠিক কী হয়েছে। এমনকী কেন এমন হল তাও জানার চেষ্টা করা হবে।
এখন সর্বত্রই বোরো ধান কাটা চলছে। সর্বত্র মাঠ থেকে ধান তুলে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। যদিও ধান না ফলায় মল্লিকপুরের বহু চাষির মাথায় হাত। সমবায় ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে তাঁরা ধান চাষ করেছিলেন। কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব ঘোষণা অনুসারে নিয়ম মেনে প্রতিটি এলাকায় পর্যাপ্ত সেচের জল পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। যদিও মল্লিকপুরের চাষিদের দাবি, এলাকায় সেচের জল পৌঁছতে দিন দশেক দেরি হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই দেরিতেই ধান রোয়া হয়েছে। আশঙ্কা দেরিতে ধান চাষ করায় এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। যদিও কৃষকদের একাংশ অবশ্য রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের গুণমান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তাঁদের দাবি, একই সার ও কীটনাশক ব্যবহার করা জমির ধান পুরোপুরিভাবে নষ্ট হয়ে গিয়েছে।
কৃষকদের দাবি, বিস্তীর্ণ জমিতে নিয়ম মেনেই বোরো চাষ হয়েছিল। ধানের শিষও হয়েছে। কিন্তু সবই ভুয়ো। ভিতরে চাল নেই। এবিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত চাষি অর্জুন ঘোষ বলেন, মাজরা পোকার আক্রমণে ধানের ভেতরের অংশ সাদা হয়ে গিয়েছে। বহুক্ষেত্রে ধানের শিষও সাদা হয়ে গিয়েছে। সার ও কীটনাশকের গুণমান নিয়ে আমাদের খটকা রয়েছে। বিষয়টি আমরা কৃষিদপ্তরের আধিকারিকদের জানিয়েছি। ঋণ নিয়ে ধান চাষ করে এখন আমরা দিশেহারা। ক্ষতিপূরণ না পেলে কী করব জানি না। অপর এক কৃষক গৌরাঙ্গ মণ্ডল বলেন, কী হল কিছুই বুঝতে পারছি না। ঋণ নিয়ে ধানচাষ করে এখন বিপাকে পড়েছি। এবছর সেচের জল পেতে কিছুটা দেরি হয়েছে। তাই কয়েকদিন দেরিতে চাষের কাজ শুরু হয়েছে। এখন কোন কারণে ধান ফলেনি আমরা জানি না।