Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মঞ্চে বিজেপির ১০ নেতা, সামনে মাত্র চার শ্রোতা! গুসকরায় গেরুয়া কর্মসূচি ঘিরে হাসির রোল

মঞ্চে জনসংখ্যার ভারসাম্য নিয়ে বক্তব্য রাখছেন বোলপুর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল। ‘হাম দো হামারা দো’–এই নীতি সব সম্প্রদায় মানছে না।

মঞ্চে বিজেপির ১০ নেতা, সামনে মাত্র চার শ্রোতা! গুসকরায় গেরুয়া কর্মসূচি ঘিরে হাসির রোল
  • ২৪ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, গুসকরা: মঞ্চে জনসংখ্যার ভারসাম্য নিয়ে বক্তব্য রাখছেন বোলপুর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল। ‘হাম দো হামারা দো’–এই নীতি সব সম্প্রদায় মানছে না। গলার সুর সপ্তমে তুললেন তিনি। মনে মনে হয়তো চাইছিলেন হাততালির ঝড় উঠবে। কিন্তু হাততালি দেবে কে? মঞ্চের সামনের চেয়ারে বসে রয়েছেন মাত্র তিন থেকে চারজন। তাঁরাও আনমনা। বাধ্য হয়ে মঞ্চে বসে থাকা এক যুবক হাততালি দিলেন। কিন্তু সেই আওয়াজ জেলা সভাপতির কান পর্যন্ত পৌঁছল না। গুসকরা বাজারের জমজমাট এলাকায় মঞ্চ বেঁধে বিজেপির নেতারা বক্তব্য রাখছিলেন। সাংগঠনিক জেলার প্রথম সারির সব নেতা-ই মঞ্চে হাজির ছিলেন। কিন্তু শ্রোতা পাওয়া গেল না। পথচলতি লোকজনও একবারের জন্য হলেও দাঁড়িয়ে গেরুয়া নেতাদের বক্তব্য শুনলেন না। শাসক দল তা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না। তাঁরা বলছেন, ঢাল-তরোয়াল নেই। এই বিজেপি ভোটের ময়দানে লড়বে কীভাবে?

Advertisement

আউশগ্রাম বোলপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত। বোলপুর সাংগঠনিক জেলার নেতারাই এই এলাকায় কর্মসূচি করেন। সামনেই বিধানসভা নির্বাচন।  তার আগে ‘ওয়ার্মআপ’ শুরু করেছেন বিজেপি নেতারা। তাঁরা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে নানা মোড়কে কর্মসূচি নিচ্ছেন। এদিন গুসকরায় রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি, দলীয় সভার জন্যও মঞ্চ বাঁধা হয়েছিল। সেখানে এসআইআর সম্পর্কে বোঝানোর জন্য মঞ্চে কয়েকজন মতুয়া সম্প্রদায়ের নেতাকেও বসানো হয়েছিল। কিন্তু লোকশূন্য সভায় কোনও কিছুই কাজে লাগলো না। মঞ্চের পাশে চায়ের দোকানে বসে এক কর্মী বলেন, এরকমভাবে হাসির খোরাক হওয়ার দরকার ছিল না। জেলা নেতারা মঞ্চে রয়েছেন। সেই কর্মসূচিতে কমপক্ষে ৫০টা লোক হবে না, এটা ভাবতেই লজ্জা লাগছে। এটা তো নেতাদের ডেকে এনে অসম্মান করা হল। স্থানীয় নেতারা বলছেন, এখন মাঠে ধান কাটার কাজ চলছে। সেই কারণে কেউ আসেননি। শহরের কর্মীরা তো ধান কাটতে যাননি। তাহলে তাঁরা এলেন না কেন? এভাবে কর্মসূচি নেওয়ার কোনও যুক্তি নেই। এতে সমর্থকদের মনোবলে আঘাত লাগবে। তাছাড়া, এই কর্মসূচি হঠাৎ করে ঠিক হয়নি। অনেক আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তারপরও হাতেগোনা কয়েকটা চেয়ার ভরানোর লোক পাওয়া গেল না।
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিনের কর্মসূচি সম্পূর্ণ ফ্লপ হওয়ার পিছনে দলীয় কোন্দল দায়ি। অন্যান্য জায়গার মতো আউশগ্রামেও তাদের মধ্যে তীব্র কোন্দল রয়েছে। যদিও বিজেপি নেতা সুশান্ত বিশ্বাস বলেন, ‘হিন্দু সংহতি’ নামে একটা সংগঠনের পক্ষ থেকে ওই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। সরাসরি বিজেপি যুক্ত ছিল না। তৃণমূল নেত্রী মল্লিকা চোংদার বলেন, শুনেছি এদিন ওরা সভার পাশাপাশি রক্তদান শিবির করেছিল। রক্তদান শিবিরে লোক না পেলে ওরা আমাদের বলতে পারত। রক্তদান তো ভালো কাজ। আমরা সবসময় ভালো কাজের পক্ষে থাকি। ওদের থেকে মানুষ অনেক আগেই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। ওদের কর্মসূচিতে লোক হবে না, এটাই স্বাভাবিক।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ