Bartaman Logo
২ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

৫০০ বছরের পুরানো পুজো শুরু করেছিলেন রাজশাহীর জমিদাররা

দেশ ভাগ হলেও অবিভক্ত বাংলার শুরু হওয়া বিভিন্ন পুজো এখনও ঘটা করে করা হয় উত্তর দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায়।

৫০০ বছরের পুরানো পুজো শুরু করেছিলেন রাজশাহীর জমিদাররা
  • ২ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

মৃন্ময় বসাক, কালিয়াগঞ্জ: দেশ ভাগ হলেও অবিভক্ত বাংলার শুরু হওয়া বিভিন্ন পুজো এখনও ঘটা করে করা হয় উত্তর দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায়। তেমনি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত গ্রাম হেমতাবাদ ব্লকের প্রাচীন পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম হল রায়গঞ্জ-বালুরঘাট রাজ্য সড়কের পাশে অবস্থিত কাকড়শিং-এর পুজো। 

Advertisement

প্রায় ৫০০ বছর আগে বাংলাদেশের রাজশাহীর জমিদাররা এই পুজোর প্রচলন করেছিলেন। সেই পুজো আজও নিষ্ঠা সহকারে করে আসছেন গ্রামের বাসিন্দারা। স্থানীয় দেবশর্মা পরিবার এই পুজোর দায়িত্ব পালন করে আসছেন বংশ পরম্পরায়। তবে পুজো নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে কমিটি গড়ে পুজো করা হয়।
দেবশর্মা পরিবারের সদস্য অর্জুন দেবশর্মা বলেন, বাংলাদেশের রাজশাহী জমিদার এই পুজোর সূচনা করার পর আমাদের দেবশর্মা পরিবার এই পুজোর দায়িত্ব নেয়। বর্তমানে সেই পরিবারের ৭ শরিক মিলে পুজোর আয়োজন করে। শুধু উত্তর দিনাজপুর বা পশ্চিমবঙ্গ নয়। বাংলাদেশ, বিহার, উত্তরপ্রদেশ থেকে ভক্তরা এই মন্দিরে পুজো দিতে আসেন।
এখানকার মূর্তিতে রয়েছে বিশেষত্ব। দেবশর্মা পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, যেহেতু মা দুর্গা এখানে দেবী চণ্ডী রূপে পূজিত হন তাই মায়ের ১০ হাতের পরিবর্তে চার হাত রয়েছে। দু’হাতে ত্রিশূল। এক হাতে খড়্গ ও অন্য হাতে চক্র রয়েছে। তবে দেবী দুর্গার মতো বাহন হিসাবে রয়েছে সিংহ। লক্ষ্মী, গণেশ, সরস্বতী, কার্তিককে নিয়ে একচালা প্রতিমা এখানকার রীতি। পুজোর খরচ ভক্তরা জোগাড় করেন। প্রতিমা তৈরি হয় মন্দিরে। দশমীতে শুধু ঘট বিসর্জন হয়। সারাবছর দেবীর প্রতিমা মন্দিরে রেখে পুজো করা হয়। পরের বছরের পুজোর একমাস আগে সেই প্রতিমা বিসর্জন দিয়ে আবার ওই কাঠামোতে নতুন প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়। 
মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে  নকুল দেবশর্মা  বলেন, দেবীর নামে নিজস্ব ৭ বিঘা জমি রয়েছে। রায়গঞ্জ বালুরঘাট রাজ্য সড়কের ধারে আগে জঙ্গলের মধ্যে দেবীর পুজা হতো। পরে মাটির ও দোচালা মন্দির ছিল। ২০১৮ সালের পর ক্রমে সুসজ্জিত পাকা মন্দির তৈরি হয়। মহালয়ার পর থেকে গোটাগ্রাম জুড়ে চলে নিরামিষ ভোজন। দশমী পর্যন্ত চলে পুজো। পাশাপাশি মন্দিরের জমিতে মেলা বসে। আগে বলি প্রথা চালু থাকলেও লকডাউনের সময় থেকে তা বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দেবীর কাছে সাধারণ মানুষ যে যার মনস্কামনা নিয়ে আসেন। দেবী মা তা পূরণ করেন। পুজোর প্রতি দিন মন্দিরে বহু ভক্তের সমাগম হয়। অষ্টমীতে অঞ্জলি দিতে মন্দির প্রাঙ্গণে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হয়। নবমীর দিন খিচুড়ি ভোগের আয়োজন করা হয়।  
দশমীতে মিষ্টি মুখ করানোর পরে ঘট বিসর্জন দেওয়া হয়। দেবী প্রতিমা মন্দিরে থাকে। দশমীর পরে অষ্ট মঙ্গলা পুজো হয়। সব মিলিয়ে পুজোকে কেন্দ্র জোর প্রস্তুতি চলছে মন্দির প্রাঙ্গণে।  ফাইল চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ