বিষ্ণুপদ রায়, হলদিবাড়ি: রাজ আমলে প্রতিবছর দুর্গাপুজোয় কোচবিহার রাজ পরিবার থেকে আসত আর্থিক সাহায্য। কালের নিয়মে রাজপ্রথা বিলুপ্ত হলেও প্রাচীন নিয়মনিষ্ঠা ও রীতি সহকারে পুজো হয়ে আসছে দুই শতাব্দী পুরনো দুর্গামণ্ডপের পুজোয়। এ বছর ২২৪তম বর্ষে পদার্পণ করলেও এই পুজোতে নেই কোনো থিম, চোখে পড়ার মতো জাঁকজমক বা বাহ্যিক আড়ম্বর। কেবল পুরনো ঐতিহ্য ও পরম্পরা মেনে চলছে হলদিবাড়ি ব্লকের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকার দেওয়ানগঞ্জ বাজারের দুর্গামণ্ডপের বারোয়ারি দুর্গাপুজো।
পুজো কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, অতীতে বেলতলির তিস্তা নদী দেওয়ানগঞ্জ বাজার সংলগ্ন এলাকা দিয়েই প্রবাহিত হত। এখানেই ছিল এলাকার প্রধান ফেরিঘাট। মূলত সেই ফেরিঘাটকে কেন্দ্র করে জনপদটি গড়ে উঠে। ক্রমে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠে দেওয়ানগঞ্জ বাজার। ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যেই মাড়োয়ারি সম্প্রদায়ের মানুষরা এই এলাকায় প্রথম ঘাঁটি গাড়ে। মূলত তাঁদের উদ্যোগেই এই পুজোর সূচনা হয়।
সেসময় কাপড় দিয়ে তৈরি অস্থায়ী প্যান্ডেলেই পুজোর আয়োজন করা হত। ভারত ও বাংলাদেশের মাঝে কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় দুই দেশের মানুষ দুর্গাপুজোয় মেতে উঠতেন। পরবর্তীতে এই পুজোর দায়িত্ব আসে দেওয়ানগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতির কাঁধে। তাদের উদ্যোগে ১৯৭২ সালে দেওয়ানগঞ্জ দুধহাটি সংলগ্ন এলাকায় স্থায়ী পাকা মন্দিরে এই পুজো শুরু করা হয়।
এ বিষয়ে পুজো কমিটির সম্পাদক কৈলাস গুপ্তা বলেন, প্রথা অনুযায়ী পুজোর মাত্র দু’দিন আগে মন্দিরের সামনে ছোটো করে প্যান্ডেল তৈরি করা হয়। থিমের চমক বা আলোর ঝলকানি না থাকলেও এই পুজোর মূল আকর্ষণ হল অষ্টমীর দিন দেবীকে বিশেষ খিচুড়ি এবং নবমীতে সুজির ভোগ নিবেদন করা। এছাড়া বিজয়া দশমীর দিন দেওয়ানগঞ্জ বাজারে ঐতিহ্যবাহী মেলা করা হয়। যেখানে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। • নিজস্ব চিত্র।