নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদ জেলার চার তৃণমূল বিধায়কের নাম এখনও বিচারাধীন। সেই তালিকায় রয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বিধায়ক জাকির হোসেন। একই ভাবে এখনো বিবেচনাধীন রয়েছে জলঙ্গির বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাক, সাগরদিঘির বায়রন বিশ্বাস এবং নওদার শাহিনা মমতাজ খান। বিধানসভা নির্বাচনে এই চারজন বিধায়ক টিকিটের দৌঁড়ে থাকলেও এই নাম বিচারাধীন থাকায় ভোটে লড়াই নিয়েই সংশয় তৈরি হয়েছে।
শনিবার নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে প্রথম দফায় ভোটারদের যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে তাতে চার বিধায়কের নাম 'আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন' তালিকায় রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনের মধ্যে যদি বিধায়কদের নাম ভোটার তালিকায় না ওঠে সেক্ষেত্রে চারজনের কেউই আগামী বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। প্রথম থেকে কমিশন ও বিজেপির আঁতাতের প্রশ্ন তুলছে শাসক দলের নেতারা। এবার সরাসরি তৃণমূলের বিধায়কদের নথি যাচাই করতে বিচারকদের কাছে পাঠাল কমিশন। ফলে কমিশনের আগের প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। কারণ এই বিধায়করা কেউ কেউ দুই ও তিনবার ভোটে লড়াই করেছেন নিজেদের নথি কমিশনের কাছে জমা দিয়ে। তারপরও তাদেরই সংশয়ের মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
বিধায়ক জাকির সাহেব এদিন পাসপোর্ট হাতে বলেন, বিচার ব্যবস্থার উপর আমাদের ভরসা আছে। একসময় আমি মন্ত্রী ছিলাম। এখন বিধায়ক আছি। আজ আমার যদি এই অবস্থা হয় সাধারণ মানুষের কী হবে? এর আগে তো নির্বাচন কমিশনের কাছে আমি হলফনামা জমা দিয়েছি। আমার পাসপোর্ট আছে। গান লাইসেন্স আছে। তারপরেও এভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।
জলঙ্গির বিধায়ক আব্দুর সাহেব বলেন, আমি 'কাঁটাবাড়ি অঞ্চলের মালোপাড়ার একটি বুথের ভোটার। সেখানে ১০২৮ জন ভোটার রয়েছে। তাঁদের মধ্যে অনেকেরই নাম 'আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন' রয়েছে। আমার মোট পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে দুই ভাইয়ের নাম ভোটার তালিকায় প্রকাশিত হয়েছে। আমি সহ বাকি তিন ভাইয়ের নাম এখনও 'আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন' তালিকায় রয়েছে। আমার পরিবারের আরও অনেকের নাম এই তালিকায় রয়েছে।'
তৃণমূল বিধায়ক আরও জানান, 'আমার বাবার নাম কৈফতুল্লা মণ্ডল। যদিও আমি নিজের পদবি লিখি 'রাজ্জাক'। আমার ধারণা পদবি বিভ্রাটের কারণেই আমার নাম 'আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন' তালিকায় রয়ে গিয়েছে। এসআইআর প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত বিচারকরা এই 'ত্রুটি' সংশোধন করে দ্রুত আমার নাম ভোটার তালিকায় তুলে দেবেন বলে আমি আশাবাদী। উপযুক্ত সমস্ত নথি আমি ইতিমধ্যেই জমা দিয়েছি।'
শাহিনা মমতাজ বলেন, আমাকে হিয়ারিংয়ে ডাকা হয়েছিল। এখন কী হবে কিছুই তো বুঝতে পারছি না। খুবই আতঙ্কের মধ্যে আছি। ভোটার তালিকায় নাম না উঠলে টিকিট নিয়ে সংশয় থাকবে।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্বাচনের দিন ঘোষণা হয়ে গেলেও ভোটে লড়ার সমস্ত শর্ত পূর্ণ করে যে কোনো ব্যক্তি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত ভোটার তালিকায় নিজের নাম তুলে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে নির্বাচকের চূড়ান্ত তালিকায় কোনো ব্যক্তির নাম মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনেও যদি না উঠে সেক্ষেত্রে তিনি ভোটে লড়তে পারবেন কি না সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে জাতীয় নির্বাচন কমিশন।