নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও বিধাননগর: মোটা টাকা খরচ করেও দর্শকরা দেখতে পাননি ফুটবল তারকা মেসিকে। কারণ, মেসিকে ঘিরে ছিল অত্যধিক ভিড়। কিন্তু, মেসির পাশে এত লোকজন কারা ছিলেন? এবার সেই নামের তালিকা জানতে ধৃত শতদ্রু দত্তকে জেরা করল সিট। পুলিশ সূত্রের খবর, মেসির অনুষ্ঠানে জন্য স্টেডিয়ামের ভিতরে এবং বাইরে দায়িত্বে থাকা শতদ্রুর লোকজনদের তালিকা চাওয়া হয়েছিল। শতদ্রু অবশ্য সেই তালিকাও দেন। তাতে দেখা গিয়েছে, ভিতরে মেসির পাশে থাকা ভিড়ের বেশিরভাগই তাঁর ইস্যু করা লোকজন! শুধু তাই নয়। তাঁরা ‘জব রেসপন্সিবিলিটিস’র কাজে রয়েছেন বলে দেখানো হয়েছিল। কিন্তু, কী জব? তার কোনও অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
ঘটনার দিন পুলিশের অ্যারেজমেন্টেরও তালিকা চাওয়া হয়েছে। ওইদিন কে কোথায় কোন ডিউটিতে ছিলেন, বিক্ষোভ যখন শুরু হয় এবং দর্শকরা যখন স্টেডিয়ামের ভিতরে ঢুকে পড়ছিলেন, সেই তাঁদের কী ভূমিকা ছিল, তাঁরা কী ব্যবস্থা নিয়েছিলেন, সেই তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিনের সিটের সদস্যরা যুবভারতী থেকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন। পাশাপাশি, কোথা থেকে প্রথম জলের বোতল ছোড়া হয়েছিল, কী পরিস্থিতি হয়েছিল, তার তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্টেডিয়ামের ভিতরে জলের বোতল রাখার অনুমতি কে দিয়েছিলেন? যিনি বরাত পেয়েছিলেন, তিনি কি সেই অনুমতিপত্র পুলিশের কাছে জমা করেছিলেন? কোথায় জল রাখা হবে, সেই স্টলের নকশা পুলিশ কি জানত? এই সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কী ধরনের জল রাখার কথা ছিল, সেও দেখা হচ্ছে। তা প্যাকেট ছিল নাকি বোতল?
ইতিমধ্যেই শতদ্রুর সংস্থার আরও ছ’জনকে সমন পাঠিয়ে জেরার জন্য ডেকে পাঠানো হয়েছিল। তার মধ্যে চারজন পুলিশের কাছে উপস্থিতও হয়েছিলেন। কিন্তু, দু’জন আসেননি। ওই না আসা ব্যক্তিদের উপর বাড়তি নজর দিয়েছে সিট। কেন তাঁরা আসেননি, না এলে তাঁদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এই প্রক্রিয়াও চলছে। অন্যদিকে, যুবভারতীতে ভাঙচুরের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ছ’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ওইসঙ্গে আরও ১৫ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যুবভারতী কাণ্ড নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে তিনটি জনস্বার্থ মামলা হয়েছে। তার শুনানি পিছিয়ে গেল। আগামী সোমবার তার শুনানি হবে বলে জানিয়েছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ।