ঢাকা: বদলে যাওয়া বাংলাদেশে ফের ভারত বিদ্বেষের পরিচয় দিল ইউনুস সরকার। কিংবদন্তী অভিনেত্রী সুচিত্রা সেনকে শ্রদ্ধা জানিয়ে পাবনা কলেজের একটি ছাত্রীনিবাসের নামকরণ করা হয়েছিল। সেই ছাত্রীনিবাসের নাম বদলে দিল ইউনুস সরকার। ওই ছাত্রীনিবাসের নাম দেওয়া হয়েছে ‘জুলাই–৩৬ ছাত্রীনিবাস’। আরও দুটি হস্টেলের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিজনের নাম জড়িয়ে ছিল। সেই নামও বদলে ফেলেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। যদিও এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে পাবনার সাংস্কৃতিক মহল। তাঁদের দাবি, সুচিত্রা সেন কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন। তাই তাঁর নাম বদলে দেওয়ার কোনও যুক্তি নেই। যদিও কান পাতলে শোনা যাচ্ছে অন্য কথা। সাংস্কৃতিক মহলের মতে, সুচিত্রা বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করলেও যেহেতু তাঁর কর্মজীবনের পুরোটাই ভারতে, শুধুমাত্র সেই কারণেই অভিনেত্রীর নামে ছাত্রীনিবাসের নাম বদলে ফেলা হয়েছে। কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল আউয়াল মিঁয়া জানান, বৈষম্যবিরোধী পড়ুয়াদের দাবি মেনে হস্টেলগুলির নাম বদল করা হয়েছে। জুলাই বিপ্লবের চেতনায় উদ্বুব্ধ হয়েই এই উদ্যোগ।
পাবনা শহরেই জন্ম সুচিত্রা সেনের। গোপালপুর এলাকার বাড়িতেই তিনি শৈশব ও কৈশোর পর্যন্ত ছিলেন। পরে বিবাহসূত্রে সুচিত্রা কলকাতায় চলে যান। ছয়েক দশকে বাড়িটি দখল হয়ে যায়। ২০১৪ সালে ফের বাড়িটি দখলমুক্ত করে প্রশাসন। বর্তমানে সেখানে একটি সংগ্রহশালা করা হয়েছে। যেহেতু সুচিত্রা পাবনায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন, তাই শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন ছাত্রীনিবাসের নাম বদল করে অভিনেত্রীর নামে রাখা হয়। কিন্তু মঙ্গলবার পাবনা কলেজের অধ্যক্ষ তিনটি হস্টেলের নতুন নামফলক উদ্বোধন করেন। বাকি দুটি হস্টেলের মধ্যে শেখ রাসেল ছাত্রাবাসের নাম দেওয়া হয়েছে ‘বিজয়-২৪’ ছাত্রবাস এবং বেগম ফজিলাতুন্নেছা ছাত্রীনিবাসের নাম দেওয়া হয়েছে আয়শা সিদ্দিকা ছাত্রীনিবাস।
পাবনার সুচিত্রা সেন চলচ্চিত্র সংসদের সভাপতি জাকির হোসেন বলেন, ‘সুচিত্রা সেন বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি মহানায়িকা। এখনও বাঙালি মহিলারা তাঁকে অনুসরণ করেন। তাঁকে নিয়ে রাজনীতির কিছু নেই। এই নাম পরিবর্তনের তীব্র নিন্দা করছি।‘ সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নরেশ মধু বলেন, ‘সুচিত্রা সেন কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন। তিনি আমাদের অবেগ, অনুভূতি, ভালোবাসার মানুষ। তাঁর নাম মুছে দেওয়া কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ছাত্রীনিবাসের নামটি ফিরিয়ে আনার দাবি করছি।’